নদী খননে অনিয়ম

ঠিকাদারসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা, ড্রেজার মালিক গ্রেপ্তার 

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে ফুলজোড় নদী খননে অনিয়ম ও বাংলা ড্রেজারের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রির অভিযোগে ঠিকাদার, ড্রেজার মালিক ও বালু বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলায় ড্রেজার মালিক পরিমলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

‌১০ মার্চ ইত্তেফাক অনলাইনে ‘নদী খননে অনিয়ম: ফসলি জমিতে বালু রাখতে নিষেধ করায় প্রাণনাশের হুমকি’ শিরোনামে খবর প্রকাশের পর দিন সোমবার (১১ মার্চ) রাতে কামারখন্দ থানায় মামলা দায়ের করেন ভদ্রঘাট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা তারেক মুর্শেদ।   

মামলা সূত্রে জানা যায়, ভদ্রঘাট ইউনিয়নের ঝাটিবেলাই মৌজার আরএস ১ নম্বর খাস খতিয়ানের আরএস ২০৪ নম্বর দাগের নদীর জমি থেকে অবৈধ বাংলা ড্রেজারের মাধ্যমে নদীর তলদেশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে পাইপের মাধ্যমে মুগবেলাই গ্রামের আসলাম সরকারের জমি ভরাট করা হচ্ছে। এর আগে একই গ্রামের গিয়াস উদ্দিন সরকারের জমিও একইভাবে বালু দিয়ে ভরাট করা হয়। সরকারি সম্পত্তি থেকে অবৈধ বাংলা ড্রেজারের মাধ্যমে নদীর তলদেশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন কাজে শাহজাদপুর উপজেলার পুঠিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আয়ান কন্সট্রাকশনের  ম্যানেজার ইউসুফ আলী (৩০), কামারখন্দ উপজেলার কুটিরচর পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা ড্রেজার মালিক পরিমল (৫৫), রায়গঞ্জ উপজেলার নলকা গ্রামের বাসিন্দা ড্রেজার মালিক বাবু (৫২), কামারখন্দ উপজেলার মুগবেলাই গ্রামের বালু বিক্রেতা ঝন্টু সরকার (৫০), আসাদুল সরকার (৩৩) এবং রকিব খান (৩২) অবৈধভাবে সরকারি নদীর জমি থেকে বালু উত্তোলনের কাজে জড়িত আছে। আসলাম সরকার ও গিয়াস উদ্দিন সরকারের জমি ভরাটে যে পরিমাণ উত্তোলিত বালু ব্যবহার করা হয়েছে তাতে সরকারের ৭ থেকে ৮ লক্ষ টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। 

কামারখন্দ থানার ওসি মো. রেজাউল ইসলাম জানান, নদীর জমি থেকে অবৈধ বাংলা ড্রেজারের মাধ্যমে নদীর তলদেশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রির ঘটনায় ভদ্রঘাট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা তারেক মুর্শেদ বাদী হয়ে সোমবার রাতে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার দুই নম্বর আসামি ড্রেজার মালিক পরিমলকে রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।