প্রথমবারের মতো উত্তর গাজায় খাদ্য সরবরাহের জন্য একটি নতুন স্থলপথ ব্যবহার করা হয়েছে। বুধবার এ কথা জানিয়েছে জাতিসংঘ। খবর বিবিসির।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির ছয়টি লরি গাজা সীমান্তের বেড়ার একটি গেট দিয়ে অতিক্রম করেছে। মঙ্গলবার রাতের সরবরাহটি ছিল মূলত ‘হামাসকে ত্রাণ নিতে বাধা দেওয়া সংক্রান্ত’ পরীক্ষামূলক প্রকল্পের একটি অংশ।
হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধের পাশাপাশি দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে থাকা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে আরও ত্রাণ সহায়তা প্রবেশের অনুমতি দিতে ইসরায়েলের ওপর বৈশ্বিক চাপ বাড়ছে। এর মধ্যেই নতুন পথে গাজায় ত্রাণ প্রবেশ করলো।
একটি দাতব্য সংস্থার পাঠানো ২০০ টন ত্রাণ বহনকারী একটি জাহাজ মঙ্গলবার সাইপ্রাস থেকে যাত্রা করেছে। ইতোমধ্যে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে একটি নতুন সামুদ্রিক করিডোর উদ্বোধন করা হয়েছে। ত্রাণের জাহাজটি বৃহস্পতিবার গাজার উপকূলে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর জন্য এখানে একটি জেটি তৈরি করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। কিন্তু সংস্থাটি বলেছে, যে মাত্রায় ত্রাণ গাজাবাসীদের দরকার তা পৌঁছানোর জন্য ইসরায়েল থেকে গাজায় অনেক স্থলপথ ও প্রবেশের পয়েন্টগুলোর বিকল্প নেই।
তবে গাজায় ত্রাণ বিতরণে ব্যর্থতার জন্য জাতিসংঘের সংস্থাগুলোকে দোষারোপ করেছে ইসরায়েল।
জাতিসংঘ বলছে গাজার অন্তত ৫ লাখ ৭৬ হাজার ফিলিস্তিনি অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার এক চতুর্থাংশ দুর্ভিক্ষ থেকে মাত্র এক ধাপ দূরে রয়েছে। ভূখণ্ডের উত্তরে অল্প খাদ্য বা বিশুদ্ধ পানিসহ আনুমানিক ৩ লাখ লোকের খাবার ফুরিয়ে আসছে। তাদের কাছে সহায়তা পাঠানোর জন্য কয়েক মাস ধরে সংগ্রাম করছে সংস্থাটি।
গাজার হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, সেখানকার হাসপাতালে অপুষ্টি ও পানিশূন্যতার কারণে ২৩ শিশুসহ ২৭ জন মারা গেছে।
জাতিসংঘের কর্মকর্তারা বলেছেন, ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের (ডব্লিউএফপি) বহর উত্তরে পৌঁছাতে ইসরায়েলি সামরিক রাস্তা ব্যবহার করতে পেরেছে। এর মধ্যে ২৫ হাজার মানুষের জন্য প্রায় ৮৮ টন খাবার ছিল।
ডব্লিউএফপির মুখপাত্র শাজা মোঘরাবি বলেন, সরবরাহ পাঠানোর পর এটাই প্রমাণিত হয়েছে যে ‘সড়কথে খাবার নিয়ে যাওয়া সম্ভব’।
রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘আমরা সরবরাহ বাড়ানোর আশা করছি। বিশেষ করে উত্তর গাজার দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে থাকা মানুষের সঙ্গে নিয়মিত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকার জন্য আমাদের আরও প্রবেশাধিকার দরকার। আমাদের সরাসরি উত্তরে প্রবেশের পয়েন্ট দরকার।’