কিডনি রোগ প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত করে চিকিত্সার মাধ্যমে কিডনি বিকল প্রতিরোধ করা যায়। এর জন্য প্রয়োজন গণসচেতনতা। ২০৪০ সালের মধ্যে ৫০ লাখের বেশি কিডনি বিকল রোগী সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুবরণ করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিস্ট বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, দেশে প্রাপ্ত বয়স্কদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগীর হার শতকরা ১৬-১৮ ভাগ। যার শেষ পরিণতি কিডনি বিকল। একবার কিডনি বিকল হয়ে গেলে বেঁচে থাকার একমাত্র উপায় কিডনি সংযোজন অথবা ডায়ালাইসিস। কিন্তু এই দুই চিকিৎসা এতটাই ব্যয়বহুল যে, শতকরা ১০ জন কিডনি বিকল রোগী তা বহন করতে পারে না। তাই আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে প্রায় ৯০ ভাগ রোগী বিনা চিকিৎসায় অথবা আংশিক চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করে। তারা বলছেন, সবাই যদি কিডনি রোগের ব্যাপকতা, ভয়াবহতা, পরিণতি ও কারণ সম্পর্কে সচেতন থাকে এবং স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন করে, তাহলে ৫০-৬০ ভাগ ক্ষেত্রে এই প্রাণঘাতী কিডনি বিকল প্রতিরোধ করা সম্ভব।
গতকাল বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী কিডনি দিবসের অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন। কর্মসূচির মধ্যে ছিল বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, পথচারীদের মধ্যে টি-শার্ট বিতরণ, ধানমন্ডি আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে যৌথ শোভাযাত্রার আয়োজন। যথাযোগ্য মর্যাদা ও গুরুত্বের সঙ্গে বিশ্ব কিডনি দিবস ২০২৪ উদ্যাপন করেছে শীর্ষস্থানীয় কিডনি বিষয়ক বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটি (ক্যাম্পস)।
ক্যাম্পসের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম এ সামাদ বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুসারে, ২০৪০ সালের মধ্যে ৫০ লাখের বেশি কিডনি বিকল রোগী সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিত্সার অভাবে মৃত্যুবরণ করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। তারা বলেছেন, বর্তমান বিশ্বে ৮৫ কোটির অধিক লোক দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে আক্রান্ত। দুঃখজনক হলেও সত্য এর মধ্যে ৭৫ কোটি রোগী জানে না যে, প্রাণঘাতী কিডনি রোগ নীরবে তাদের কিডনি নষ্ট করে চলেছে। প্রতি বছর ১ কোটি ৩০ লাখ লোক আকস্মিক কিডনি বিকল রোগে আক্রান্ত হয়, যার ৮৫ ভাগই আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে।