সংঘর্ষ থামাতে ব্যর্থ, নেতা-কর্মীদের মাঝে ক্ষোভ

কর্তৃত্বহীন জাবি ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদক

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একের পর এক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সংঘর্ষ থামাতে গিয়েও বারবার ব্যর্থ হচ্ছে সভাপতি ও সম্পাদক। তাদের কথাকে উপেক্ষা করেই চলছে একের পর এক সংঘর্ষ। এছাড়াও তাদের উপস্থিতিতে সংঘর্ষের মাত্রা আরো বেড়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সর্বশেষ গত বুধবার ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ও মওলানা ভাসানী হলের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ঘটনাস্থলে জাবি ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদক গিয়েও কর্মীদের ফেরাতে ব্যর্থ হয়েছেন। তারা সেখানে উপস্থিত হয়ে সংঘর্ষের উত্তেজনা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছে ছাত্রলীগের একাংশ।

আরও পড়ুন : দলীয় পারফরম্যান্সে হতাশ সাকিব

ছাত্রলীগের একাংশের দাবি, এসময় সভাপতি, সম্পাদককে দেখে ক্ষিপ্ত হন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তাদের নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করে সংঘর্ষ চালিয়ে যায় দুই হলের নেতাকর্মীরা। এছাড়াও শাখা ছাত্রলীগের সম্পাদকের বিরুদ্ধে এক পক্ষকে উষ্কিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন সিনিয়র নেতাকর্মীরা।

শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তারেক হাসান বলেন, ‘ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা না করে উষ্কানি দিয়েছে। তিনি সংঘর্ষকে বড় আকার ধারণের চেষ্টা চালিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে চেয়েছেন। তার আচার ব্যবহার কর্মকাণ্ড ন্যাক্কারজনক। তার নেতিবাচক চরিত্র ও আচার-আচারণ সম্পর্কে সবাই অবহিত। সে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অনিয়মিত। তার চেয়ে সাধারণ কর্মীরা দলীয় প্রোগ্রামে বেশি উপস্থিত থাকে।’

চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি নিয়োগ বাণিজ্যের টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে শাখা ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে চড়-থাপ্পড়ের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে শহীদ সালাম বরকত হলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ বাধে। এর আগে গত বছরের ২ অক্টোবর ইভটিজিংকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে মীর মশাররফ হোসেন হল ও আল বেরুনী হলের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এই সব ঘটনাতেই আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে।

এসব ঘটনায় সভাপতি কিংবা সম্পাদক তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। এতে করে ক্যাম্পাসে বিচারহীনতা ও কর্তৃত্বহীনতার সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। ফলে সভাপতি এবং সম্পাদককে উপেক্ষা করে আলাদা ভাবে হলে রাজনীতি শুরু করে নেতা-কর্মীরা। এ করণে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের মাঝে সহমর্মিতার বিপরীতে অহংকার ও উগ্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এক হলের কর্মীরা অন্য হলের কর্মীদের সহ্য করার মানসিকতাও হারিয়ে ফেলেছে।

এছাড়া ক্যাম্পাসের বিভিন্ন মাধ্যম থেকে উপার্জিত আয়ের বড় অংশ সভাপতি ও সম্পাদক নিজের পকেটস্থ করে। ফলে হলের নেতারা তাদের কর্মী পরিচালনায় হিমশিম খাচ্ছে। কর্মীদের মাঝে টাকার ভাগ না দেওয়ায় নেতাকর্মীরা শীর্ষ নেতাদের কর্তৃত্ব অস্বীকার করে চলেছেন।

আবার জাবিতে ১৪৪৫ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের যে কাজ শুরু হয়েছে তা নিয়েও ছাত্রলীগের নেতাদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে। হল ভিত্তিক রাজনীতিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে আড়াল করে অন্য একটি বলয় তৈরি হয়েছে। যা ছাত্রলীগ ও ক্যাম্পাসের স্থিতিশীল পরিবেশের অন্তরায়।

শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জুয়েল রানা বলেন, ‘ছাত্রলীগের প্রত্যেকটি কর্মীকেই আমাদের কথা শুনতে হবে। যারা আমাদের কথা শুনছে না তারা ছাত্রলীগের কর্মী হতে পারে না। যেহেতু এগুলো হলের সংঘর্ষ তাই আমরা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছি।’

সম্পাদক এস এম আবু সুফিয়ান চঞ্চল বলেন, ‘উষ্কানি দিলে তো ওখানে যাওয়ার প্রয়োজন ছিলো না। জুনিয়ররা কথা না শুনলে কি করতে পারি! বিশ্ববিদ্যালয়ে ঝামেলা করাতো ভাল না। আমি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি। এখন যে অভিযোগ করছে তা ভিত্তিহীন।’ 

ইত্তেফাক/কেআই