মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সসহ বিভিন্ন সরকারি সনদ জালিয়াত চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শ্রীনগর ও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
শনিবার (২৩ মার্চ) সকালে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন- শ্রীনগর উপজেলার ভাগ্যকুলের আব্দুল হালিম মোল্লার ছেলে রাজু আহমেদ (২৫), ষোলঘরের উমপাড়া গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে পলাশ হাওলাদার (৩৩), আব্দুল মালেকের ছেলে সবুজ হাওলাদার (৩৮), গোপালগঞ্জের তালবাড়ি এলাকার মুনিষ কীর্ত্তনিয়ার ছেলে মৃণাল কীর্ত্তনিয়া (৩৬), শ্রীনগরের যশুরগাঁও গ্রামের মো.ইউনুছ আলীর ছেলে ও শ্রীনগর ব্রিজের ঢালের কম্পিউটার কম্পোজ-ফটোকটি ব্যবসায়ী মো. রুবেল (৩৬) ও ষোলঘরের যদুলাল সূত্রধরের ছেলে প্রদীপ চন্দ্র সূত্রধর (৩৭)।
পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার কাঠালবাড়ি গ্রামের আবুল হোসেন শেখের স্ত্রী সালেহা বেগমের (৬৫) সঙ্গে থানার পাশের একটি হোটেলে ভাগ্যকুল গ্রামের রাজু আহমেদের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিয়ে কথা কাটাকাটি চলছিল।
এ সময় সালেহা বেগম ঘটনাস্থলে উপস্থিত শ্রীনগর থানার এক পুলিশ সদস্যকে জানান, তার ছেলে মানিক শেখের বিদেশ যাওয়ার জন্য পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের প্রয়োজন হয়। কিন্তু মানিকের নামে মামলা থাকায় শ্রীনগর থানা পুলিশ কোনো ক্লিয়ারেন্স দেয়নি। অথচ ভাগ্যকুল গ্রামের রাজু আহমেদ তার ছেলেকে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স করে দেবে বলে তার কাছ থেকে ৫৭ হাজার টাকা নেয়। অনেক ঘুরাঘুরির পর রাজু তার ছেলেকে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দেয়।
মানিক শেখ বিদেশ যাওয়ার জন্য চেষ্টা করলে তারা জানতে পারেন রাজুর দেওয়া পুলিশ ক্লিয়ারেন্সটি জাল। সালেহা বেগমের কথা মতো রাজুর কাছ থেকে জাল পুলিশ ক্লিয়ারেন্সটি উদ্ধার করে এবং এই চক্রের অনুসন্ধানে নামে।
পুলিশ জানায়, এর সূত্র ধরে পুলিশ শ্রীনগর ও ঢাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চালিয়ে পুলিশ চক্রটির ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তাররা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সরকারি অফিসের কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, জন্ম-সনদ, পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, আদালতের হলফনামাসহ অন্যান্য সরকারি সনদ নকল করে আসছিল। এসব সনদ তৈরির মাধ্যমে তারা প্রতারণা করে মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিত।
শ্রীনগর থানার ওসি মো. আব্দুল্লাহ্ আল তায়াবীর বলেন, জালিয়াতির মাধ্যমে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, আদালতের হলফনামাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের সনদ তৈরি করে আসছিল চক্রটি। তাদের কাছ থেকে বেশকিছু জাল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটসহ অন্যান্য সনদ ও সিল উদ্ধার করা হয়েছে।