৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে জমি কেনাবেচা, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার 

টাঙ্গাইলের সখীপুরে একই দাগের জমিতে মালিকানা দাবি- ব্যক্তি, সরকার ও বন বিভাগের। উপজেলার ৬১ মৌজার প্রতিটিতেই রয়েছে জমির ত্রিমুখী মালিকানা নিয়ে জটিলতা। প্রায় আড়াই দশক ধরে চলছে ত্রিপক্ষীয় রশি টানাটানি।
 
জমির ত্রিমুখী মালিকানা জটিলতা নিরসনকল্পে জমি মালিক, সরকার ও বন বিভাগের সমন্বয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৪ মার্চ) বিকালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 

জেলা প্রশাসক মো. কায়ছারুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. সাজ্জাদুজ্জামান, সখীপুরের ইউএনও মোহাম্মদ হোসেন পাটওয়ারী ও উপজেলা ভূমি অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ এনামুল হক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আইরিন আক্তার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মঞ্জুরুল মোর্শেদ, সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) আবু সালেহসহ অনেকে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, একই দাগের জমিতে মালিকানা দাবি- ব্যক্তি, সরকার ও বন বিভাগের। উপজেলার ৬১ মৌজার প্রতিটিতেই রয়েছে জমির ত্রিমুখী মালিকানা এ জটিলতা। যদিও জমিদারি শাসন আমল থেকেই এ জটিলতার সূত্রপাত। তবে ১৯৬২ সালে এসএ রেকর্ড অনুযায়ী প্রতিটি মৌজার একই দাগের জমির মালিক দাবিদার তিনপক্ষ। ফলে এসব জটিলতায় প্রায় আড়াই দশক ধরে আটকে আছে ব্যক্তি মালিকদের রেকর্ডিয় জমির খাজনা আদায়, নামজারি ও সাব-রেজিস্ট্রি দলিল নিবন্ধন। কোনো উপায়ন্তর না পেয়ে ভূমি মালিকরা ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জমি হস্তান্তর বা কেনা-বেচা করছেন। ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন-অগ্রগতি। সরকার প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। ওই সভায় তিনপক্ষের দীর্ঘ আলোচনায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। 

ভূমি মালিকদের প্রতিনিধি ও উপজেলা ভূমি অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সম্পাদক এনামুল হক তার বক্তব্যে বলেন, সম্প্রতি উপজেলার কয়েকটি মৌজায় ‘ডিজিটাল জরিপ’ শুরু হয়েছে। দ্রুত মালিকানা জটিলতা নিরসন না হলে ডিজিটাল রেকর্ডেও মালিকানা স্বত্বের সঠিকতা নির্ণয় করা সম্ভব হবে না। দ্রুত মালিকানা স্বত্ব নিরূপণের দাবি জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক মো. কায়ছারুল ইসলাম বলেন, জমির মালিকানা জটিলতা নিরসনে তিনপক্ষের বক্তব্য ও কাগজপত্র পর্যালোচনা করে সমাধানে প্রক্রিয়াগত সর্বোচ্চ উদ্যোগ নেওয়া হবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। যাতে দীর্ঘদিনের এ জটিলতা দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে স্ব স্ব পক্ষ সঠিক মালিকানা স্বত্ব ফিরে পায়।