ইসরায়েলি বিমান হামলায় সাত কর্মী নিহত হওয়ার পর গাজায় ত্রাণ কার্যক্রম স্থগিত করেছে মার্কিন দাতব্য সংস্থা ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেন (ডব্লিউসিকে)। মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দেয় ডব্লিউসিকে। খবর বিবিসি।
বিবৃতিতে সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেন অবিলম্বে এই অঞ্চলে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করছে। শিগগিরই তাদের কাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে তারা।
দাতব্য সংস্থাটি বলেছে, গাজার দেইর এল-বালাহতে ত্রাণ বিতরণের পর, ডব্লিউসিকের লোগোযুক্ত একটি ত্রাণবাহী গাড়িতে করে যাচ্ছিলো দলটি। বিচ্ছিন্ন একটি সড়ক ধরে যাওয়ার সময় তাদের বাহিনীর ওপর হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। সড়কটি ত্রাণ কর্মীরাই ব্যবহার করে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করা সত্ত্বেও দলটি এই হামলার শিকার হয় বলেও জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।
এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায়, ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনিদের জন্য খাদ্য সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা আরেকটি মার্কিন এনজিও আমেরিকান নিয়ার ইস্ট রিফিউজি এইড (আনেরা)ও গাজায় তাদের কার্যক্রম স্থগিত করছে। আনেরা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।
গাজার হামাস পরিচালিত মিডিয়া অফিস হামলার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছে।
ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) বলেছে, তারা এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করছে।
সামুদ্রিক করিডরের মাধ্যমে গাজায় মানবিক সহায়তা পরিচালনাকারী দুটি দাতব্য সংস্থার মধ্যে একটি হলো ডব্লিউসিকে। ত্রাণকর্মীদের গাড়িতে আঘাত হানার কিছুক্ষণ আগে দলটি মেরিটাইম করিডর দিয়ে আনা ১০০ টন খাদ্যসহায়তা আনলোড করেছিল বলে জানায় সংস্থাটি।
এক বিবৃতিতে দাতব্য সংস্থার সিইও এরিন গোর বলেছেন, এটি কেবল ডব্লিউসিকের বিরুদ্ধে আক্রমণ নয়, এটি মানবিক সংস্থাগুলোর ওপর আক্রমণ।