ঢাকা-ভাঙ্গা-বরিশাল-পটুয়াখালী (এন-৮) জাতীয় মহাসড়কটি দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগের একমাত্র মহাসড়ক। অন্যান্য জাতীয় মহাসড়কগুলো চার লেন এবং মহাসড়ক দুটি সার্ভিস লেনসহ ছয় লেন হলেও এই মহাসড়কটি এখনো দুই লেন উভয়মুখী সড়ক এবং এর প্রশস্থতা ৭.৩ মিটার (২৪ ফিট)।
পদ্মা সেতু চালুর পর এ মহাসড়কের প্রায় বিশ হাজার যা পদ্মা সেতু চালুর পূর্বের চেয়ে প্রায় চার পাঁচ গুণ বেশি। এ ছাড়া এ মহাসড়কের ব্রিজ কালভার্টগুলো অধিকাংশ পুরাতন, ঝুকিপূর্ণ ও যথাযথ প্রশস্থতায় নেই। বিশেষ করে ব্রিকস এবার্টমেন্টের কিছু কালভার্ট বেশ ঝুকিপূর্ণ। এসব ব্রিজ কালভার্টসমূহের প্রশস্থতা ১৮ ফুট থেকে সর্বোচ্চ ২২ ফুট।
এ মহাসড়কের ভাংগা থেকে ভূরঘাটা পর্যন্ত মাদারীপুর সড়ক বিভাগাধীন যা বরিশাল, পটুয়াখালী সমুদ্র সৈকত, পায়রা বন্দর প্রভৃতিতে যাওয়ার প্রবেশদ্বার। মহাসড়কটির দিকনগর নামক স্থানে ১৯৭৪ সালে নির্মিত প্রায় ১৫০ মিটার দৈর্ঘের সেতুটির স্প্যান টুইস্ট হয়ে গিয়েছে। এটিও মারাত্নক ঝুকিপূর্ণ।
এ ছাড়া রাজৈর বড় ব্রিজ, মস্তফাপুর ব্রীজ পুরাতন ও সরু হওয়ায় দুর্ঘটনার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। সম্প্রতি এ মহাসড়কের মুকসুদপুরে মাইক্রোবাস ও বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে পাচজনের প্রাণহানি ঘটে। এ ছাড়াও প্রায়ই এই সড়কে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। সম্প্রতি ঈদ যাত্রা নিরাপদ করতে হাইওয়ে পুলিশের সাথে মাদারীপুর রিজিয়ন ফরিদপুরে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বাস- ট্রাক- পিকআপ মালিক ও চালক সমিতি এ সড়কে মৃত্যুর ফাদ বলে অবিহিত করেছেন।
সড়ক বিভাগের তথ্য মতে, স্লো মোভিং ভেহ্যিকেল যেমন, রক্সা, ভ্যান, অটো রিক্সা, নসিমন-করিমন, ট্রাক্টর, ট্রলি, মাহিদ্র ইত্যাদির আধিক মাত্রায় চলাচল, যত্রতত্র যাত্রী উঠানামা, অবৈধ বাস কাউন্টার, গাড়ির বেপরোয়া গতি, ওভারটেকিং ট্রন্ডেন্সি, ভ্রাম্যমাণ ও অবৈধ হাটবাজার-দোকানপাট ইত্যাদিসহ সড়কটি যথাযথ প্রশস্থতায় না থাকার কারণে এ ধরণের দুর্ঘটনা ঘটছে।
মহাসড়কের টেকেরহাট ব্রিজের উভয়পার্শে অবৈধ ইজিবাইক স্ট্যান্ড, ভ্রাম্যমাণ ও স্থায়ি দোকানপাট-বাজারের কারণে প্রায়ই দীর্ঘ যানযটের সৃষ্টি হচ্ছে। রাজৈর বাসস্ট্যান্ড, ঘটকচর, মস্তফাপুর এবং ভূরঘাটায়ও একই চিত্র দেখা যায়। প্রতিবছরই ঈদ যাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে সড়ক বিভাগ, হাইওয়ে পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন তৎপর থাকে। স্থানীয় বাসিন্দা ও রোড ইউজারদের দাবি সবচেয়ে যানজটপূর্ণ ভাংগা ইন্টারসেকশন পার হয়ে বরিশাল আসা-যাওয়ার শূন্য কিলোমিটারে ভাঙ্গা উপজেলা হাসপাতাল পর্যন্ত দীর্ঘ যানজট এবার আর দেখা যাচ্ছে না।
মাদারীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বহী প্রকৌশলী নাজমুল হাসান বলেন, ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরীর নির্দেশনায় নির্মিত ভাঙ্গা ইউলুপ নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ায় উভয় পার্শ্বের ইজিবাইক-মাহিন্দ্র এখন আর মেইন সড়কে না উঠে ইউ-লুপ ব্যবহার করে এপাড় থেকে ওপাড়ে যাত্রী ও পণ্য আনা নেওয়া করতে পারছে। এ ছাড়া ডিডিকেটেড ইজিবাইক-মাহিন্দ্র-সিএনজি স্ট্যান্ড, বাস-ট্রাক স্ট্যান্ড, যাত্রীদেরজন্য যাত্রী ছাউনি, থ্রু ট্রাপিক ল্যান, পেরিপেরিয়াল লেন নির্মাণ করায় এই স্থানের যানজটের চিত্র এখনা আর দেখা যায় না। এ ছাড়াও ভাঙ্গা থেকে ভূড়ঘাটা পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে উভয় পার্শ্বে ৬ ফুট করে ১২ ফুট ওয়াইডেনিংয়ের কাজ শেষ হলে এবং পুরাতন সরু ব্রিজ কালভার্ট ৬ লেনে উন্নীতকরণ সম্পন্ন হলে এই রাস্তায় দুর্ঘটনা শূন্যের কোটায় আসবে এবং ঈদ যাত্রাসহ সার্বিক সড়ক পরিবহন নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হবে।
মাদারীপুর সড়ক বিভাগাধীন সকল জাতীয়, আঞ্চলিক এবং জেলা মহাসড়কসমূহ আসন্ন ঈদ যাত্রায় ঘরমুখী মানুষের যাতায়াত সাবলীল রাখতে, ঝড়-বৃষ্টির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে বিভাগীয় মেরামত এবং সড়ক মাইনর মেরামতের মাধ্যমে অলরেডি পটহোলসও অন্যান্য দৃশ্যমান ত্রুটিসমূহ মেরামত করা হয়েছে ।
স্থানীয়দের দাবি ভাঙ্গার আদলে টেকেরহাটেও যানজট নিরসনের উদ্যেগ নিলে সড়কের যানচলা চল আরও সাচ্ছন্দ্য হবে। এ ছাড়া ভাঙ্গা থেকে-ভূরঘাটা পর্যন্ত ১২ ফুট ওয়াইডেনিং করার কাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্নকরণের দাবি জানিয়েছেন ট্রাক-বাস চালক সমিতি, পরিবহন মালিক সমিতি এবং সড়ক ব্যবহারকারীরা।