বাসের দরজা বন্ধ, নেওয়া হচ্ছে ‘বাড়তি ভাড়া’

ঈদ যাত্রায় ঘরমুখী মানুষের বাড়ি ফেরা শুরু হয়েছে। এতে রাজধানীর সড়কে কিছুটা ভোগান্তি বেড়েছে। যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে বেশি ভাড়া। এছাড়া কাছের দূরত্বে যাত্রীদের গাড়িতে তোলা হচ্ছে না বলে অনেকেই অভিযোগ করেছেন। রাজধানীর সিটি সার্ভিস বাসগুলোতে এই ভোগান্তির চিত্র দেখা গেছে। 

সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ও সদরঘাটমুখী বাসগুলো চলছে দরজা বন্ধ করে। বলাকা এক্সপ্রেস, মনজিল এক্সপ্রেস, বিজয় এক্সপ্রেস, গাজীপুর পরিবহন, আজমেরী গ্লোরী, গুলিস্তান-গাজীপুর বাসগুলো অল্প দূরত্বের যাত্রী নিচ্ছে না। শুধু তাই নয়, যাত্রীদের জিম্মি করে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ ওঠেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। 

ঈদে বাড়ি যাওয়ার জন্য কমলাপুর রেলস্টেশনে যাচ্ছিলেন মো. নাফিস উদ্দিন (২৩)। নাবিস্কোতে প্রায় দুই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও বাস উঠতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘কমলাপুর যাবো কীভাবে? বলাকা, বিজয় দুইটি বাসই দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। তাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ নেই।’ 

ছবি: ইত্তেফাক

নাবিস্কো থেকে বাস না পেয়ে সিএনজিতে উঠেছেন আব্দুর রহিম (৩৫)। তিনি বলেন, ‘বাস তো পাচ্ছি না, তাই সিএনজিতে উঠলাম। এখান থেকে সায়েদাবাদ ভাড়া নিচ্ছে ২০০ টাকা।’ 

একঘণ্টা ধরে সায়েদাবাদ যাওয়ার জন্য মহাখালীর আমতলীতে দাঁড়িয়ে ছিলেন মামুন মজুমদার (৫৪)। তিনি বলেন, ‘কুমিল্লা যাবো ঈদ করতে, কমলাপুর গেলেও হবে, সায়েদাবাদ গেলেও হবে। কিন্তু বাসেই ওঠতে পারছি না। সব বাসের দরজা বন্ধ, এখান থেকে বাসে সায়েদাবাদের ভাড়া চায় ১০০ টাকা।’ 

ছবি: ইত্তেফাক

বাসের দরজা বন্ধ এবং বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে কেন-এমন প্রশ্নের জবাবে বেশিরভাগ বাসচালক ও তার সহযোগীরা বলেন, ‘গাজীপুর থেকেই মানুষ বেশিভাড়া দিচ্ছে। যে ভাড়া ১০০ টাকা ছিল এখন সেটা ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। তাই দরজা লক মারতে হচ্ছে। ঈদের বাজারে যাত্রীদের চাপে ভাড়া বেড়ে গেছে।’ 

তবে স্বাভাবিক চিত্র গাজীপুরমুখী বাসে। যে বাসগুলো পূর্ণ যাত্রী নিয়ে রাজধানীতে এসেছিলো, তারা ফিরছে অনেকটা ফাঁকা হয়ে। নেওয়া হচ্ছে না বাড়তি ভাড়া।