ডিজিটাল দুনিয়ায় স্মৃতির আর্কাইভে ঈদ কার্ড

ডিজিটাল দুনিয়ায় হারিয়ে গেছে ঈদ কার্ডে শুভেচ্ছা বিনিময়। সেই সঙ্গে হারিয়ে গেছে ঈদ কার্ডের আবেদনও। একসময় শুভেচ্ছা জানানোর জন্য বড় মাধ্যম ছিল ‘ঈদ কার্ড’। তখন মানুষ উৎসব অনুষ্ঠানের দিনগুলোতে বর্ণিল সব কার্ডে লিখে শুভেচ্ছা জানানো হতো। সেই লেখা আর শুভেচ্ছায় থাকত আবেগ ও ভালোবাসা। ঈদ কার্ডের মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানানো হতো প্রিয়জনদের। অনেকে রাত জেগে বন্ধুর জন্যে হাতে বানানো হতো সেই রঙিন কার্ড।

কিন্তু এখন সেই কার্ডে শুভেচ্ছা জানানো শুধুই ইতিহাস। নতুন প্রজন্ম জানে না কীভাবে ঈদ কার্ডে শুভেচ্ছা বিনিময়ের কথা। প্রযুক্তির দাপটে হারিয়ে গেছে সেই ঐতিহ্য। আর ঈদ কার্ড চলে গেছে স্মৃতির আর্কাইভে।

ডিজিটাল দুনিয়ায় ঈদ কার্ডের বিবর্তনে এসেছে প্রযুক্তির ছোঁয়া। এখন ঈদ শুভেচ্ছা বা অন্যসব শুভেচ্ছা জানানো হয়, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো, টুইটার, ইমেইল, ফেসবুক, ই-কার্ড, এসএমএস আর এমএমএসে। এতসব ডিজিটলি মাধ্যমের ভিড়ে প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে ঈদ কার্ডে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সংস্কৃতি।

ঈদ কার্ড নিয়ে কথা হয় আশির দশকের এ তরুণের সঙ্গে। তিনি ঈদ কার্ড নিজে তৈরি করতেন এবং বিক্রি করতেন। তিনি বলেন, ‘আমি বিভিন্ন রঙের ধান আঠা দিয়ে সাদা আর্ট পেপারে বসিয়ে আলপনা তৈরি করতাম, যা ছিল সেই সময়ের একবারে ভিন্ন ধারার শুভেচ্ছা কার্ড, সেই সব কার্ড অনেক দাম দিয়ে মানুষ কিনে নিত। আর আমরা ঈদের সময় ঈদ কার্ড বিক্রি করে বেশকিছু পয়সা রোজগার করতে পারতাম। রাত জেগে কার্ড তৈরি আর বিকালে সেসব কার্ড বিক্রির পয়সা হাতে পেয়ে ঈদের আনন্দ যেন আরও দ্বিগুণ বেড়ে যেত।  

বর্তমান প্রজন্মের কিশোর-কিশোরী বা তরুণরা এখন ই-বার্তার শুভেচ্ছায় আনন্দ পেলেও যারা ঈদ কার্ডের যুগ পার করে এসেছেন, তাদের কাছে কোনোভাবেই জনপ্রিয় হতে পারেনি ডিজিটাল যুগের ই-শুভেচ্ছা বার্তা।