বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার মেয়ে নাছরিন আক্তার। স্থানীয় এ আর খান ডিগ্রি কলেজে স্নাতক তৃতীয় বর্ষে পড়ছেন তিনি। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সচেতনতা তৈরি, উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশ রক্ষা ও মানুষের জীবনমান উন্নয়ন-সম্পর্কিত নানাবিধ বিষয়ে কাজ করছেন তিনি। ইয়ূথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিস নামের একটি সংগঠনের বাগেরহাট জেলা সমন্বয়কারী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সাধারণ মানুষের জীবনে কী প্রভাব পড়ে, পরিবেশের বাস্তুসংস্থান এবং বন ও বন্যপ্রাণীরা কীভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় তা তিনি চারপাশের মানুষদের মাঝে তুলে ধরছেন। একইসঙ্গে কথা বলছেন প্লাস্টিক দূষণের চরম নেতিবাচক দিক নিয়ে।
ইয়ূথনেটের প্রশিক্ষণ এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে স্থানীয় বেশ কয়েকজন তরুণকে সংগঠিত করেন তিনি। নিজেদের উপজেলা মোরেলগঞ্জে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে জলবায়ু ধর্মঘট থেকে শুরু করে তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি কার্যক্রম, লবণাক্ততা সহনশীল চাষাবাদে কৃষককে আগ্রহী করতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন করেছেন তারা।
এছাড়া ২০২২ সাল থেকে সিসিডিবি’র সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি জলবায়ু সহনশীল কেন্দ্র গড়ে তোলার মাধ্যমে পুরো উপজেলায় বাল্যবিবাহ রোধসহ নারী নির্যাতন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলাসহ নানা আন্দোলনের নেতৃত্বভাগে কাজ করছেন। ব্রিটিশ কাউন্সিলের সহায়তায় 'বিল্ডিং এজেন্সি ফর ইয়ূথ ইন ক্লাইমেট অ্যাকশন প্রজেক্ট’-টি চলমান আছে যেখানে নাছরিন সহ অন্যান্য তরুণ-তরুণী এগ্রো-ইকোলজি প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। পাশাপাশি এলাকায় বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে সার, বীজ ও কৃষি সরঞ্জামাদি সরবরাহ, টেকসই বেড়িবাঁধ ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করার জন্য জলবায়ু সুবিচার প্রচারাভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
নাছরিন বলেন, বিস্তৃত দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ত এলাকার একটি অংশ বাগেরহাট। এখানে রয়েছে সুপেয় খাবার পানির সংকট, তেমনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে কৃষি ও চাষাবাদের। ব্রিটিশ কাউন্সিল ও অ্যাকশন এইড এর সহযোগিতায় এবং ইয়ূথনেট এর প্রচেষ্টায় 'বিল্ডিং এজেন্সি অব ইয়ূথ ইন ক্লাইমেট একশন প্রকল্প'র মাধ্যমে আমরা এ বিষয়ে কাজ করছি। জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে এলাকায় পুকুর খননের উদ্যোগ নিয়েছি। তেমনি চাষাবাদে জৈবসার ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করেছি কৃষকদের। এলাকার অসংখ্য তরুণ-তরুণী আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। আমি বিশ্বাস করি, নিজেদেরকে জলবায়ু পরিবর্তনে ভুক্তভোগী ভাবলে চলবে না, বরং অভিযোজন, দুর্যোগ প্রশমন ও পরিবেশের প্রতি সহনশীলতা বৃদ্ধির কাজে যে আমরা নেতৃত্ব দিতে পারি, সেটিই বৈশ্বিকভাবে প্রমাণ করতে হবে।