হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী কেরি ল্যাম ছাত্রদের সঙ্গে বৈঠক করতে চাইছেন। বন্দি প্রত্যর্পণ বিলের বিরুদ্ধে এক মাস ধরে বিক্ষোভ করে ছাত্ররা। আন্দোলনের মুখে বিলটি করে নেয় হংকংয়ের কর্তৃপক্ষ। আইনটি পাশ হলে হংকংয়ের বন্দিদের বিচারের জন্য চীনে পাঠানোর সুযোগ তৈরি হতো। সরকারকে এরপরেও আন্দোলনের চাপের মুখে রেখেছে হংকংয়ের মানুষ। সেই চাপ লাঘবের জন্য ছাত্রদের সঙ্গে আলোচনা করতে চাইছেন কেরি ল্যাম।
গত সোমবার হংকংয়ের পার্লামেন্টের সামনে সমাবেশ করে আন্দোলনকারীরা। কেরি ল্যাম বিলটি সাময়িক স্থগিত করলেও আন্দোলনকারীরা তা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। ল্যামের একজন মুখপাত্র বলেছেন আন্দোলনকারীদের আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানানো শুরু করেছেন কেরি ল্যাম। হংকং ইউনিভার্সিটি অব সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ছাত্র ইউনিয়ন কেরি ল্যামের রুদ্ধদ্বার বৈঠকের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলেছে আলোচনায় হংকংয়ের সব শ্রেণির মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তারা বলেছে হংকংয়ের সব শ্রেণির মানুষকে খোলামেলা কথা বলার সুযোগ দিতে হবে।
কেরি ল্যামের মুখপাত্র বলেছেন বন্ধুত্বপূর্ণ এবং গভীর আলোচনার জন্যই রুদ্ধদ্বার বৈঠক ডাকা হয়েছে। ছাত্রনেতা জর্ডান পং বলেছেন আন্দোলনকারীদের ব্যাপারে তদন্ত বন্ধ করা হলেই তারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসবে। ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে হংকংকে চীনে হস্তান্তরের ২২ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে গত সোমবার হংকংয়ের গোল্ডেন বাউহিনিয়া স্কয়ারে সমবেত হয়ে বিক্ষোভ করছেন কয়েক হাজার মানুষ। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়।
বিক্ষোভকারীরা সেখানকার স্থাপনা ও অনুষ্ঠানের পতাকা খুলে চীন বিরোধী স্লোগান দেয়। রাস্তাও বন্ধ করে দেয় তারা। মূল অনুষ্ঠানস্থলের দিকে রওনা দেওয়া বিক্ষোভকারীদের ঘিরে রাখে পুলিশ। মূল অনুষ্ঠানে হংকংয়ের নেতা কেরি ল্যাম সকালে সেখানে পতাকা উত্তোলন করেন।
হংকংয়ে প্রতিবছরের এই দিনে চীন বিরোধী বিক্ষোভ হয়। তবে এবারের বিক্ষোভ যে কোনো সময়ের চেয়ে বড়ো। চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হংকংয়ে আসামি প্রত্যর্পণ বিল পুরোপুরি বাতিলে আন্দোলন-কারীদের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা পেরিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় হংকংয়ে ফের বিক্ষোভ করেছে শত শত মানুষ। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
আন্দোলনকারীদের বেশির ভাগই শিক্ষার্থী। সকালে তাঁরা কালো পোশাক পরে শান্তিপূর্ণভাবে আইনসভার বাইরে অবস্থান নেন। বিক্ষোভের মাধ্যমে তাঁরা তাঁদের হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তাঁদের ক্ষোভের কেন্দ্রে রয়েছেন হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী কেরি ল্যাম।
গত ফেব্রুয়ারিতে হংকংয়ের আইনসভায় আসামি প্রত্যর্পণ বিল উত্থাপন করা হয়। বিলটি আইনে পরিণত হলে হংকংয়ের ভূখণ্ডে অবস্থানরত যে কোনো সন্দেহভাজন আসামিকে চীন মূল ভূখণ্ডে নিয়ে বিচার করতে পারবে। হংকংয়ের জনগণ বলছে, এই আইনের অপব্যবহার হবে। এই অঞ্চলের স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীন বিচারব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়বে। প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়। সম্প্র্রতি এই বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করে।
ইত্তেফাক/এসআর