উপজেলা পরিষদ নির্বাচন

শেষ দিনেও মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি এমপি হানিফের ভাই 

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ আসনের এমপি মাহবুব উল আলম হানিফের ভাই চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী আতাউর রহমান আতা দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে শেষ দিনেও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। 

তিনি এমপি হানিফের আপন চাচাতো ভাই। তিনি ভেড়ামারা উপজেলার ষোলদাগ গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে। আতা শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান। 

জানা গেছে, ৮ মে অনুষ্ঠেয় কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদ আতাউর রহমান আতা ও ড্যামি প্রার্থী আবু আহাদ চৌধুরী চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দাখিল করেন। তবে ২২ এপ্রিল শেষ দিনেও আতা দলীয় সিদ্ধান্ত না মেনে প্রার্থীতা প্রত্যাহার থেকে বিরত থাকেন। ফলে কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন ও নিরুত্তাপ নির্বাচনে এবারও চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পথে এগুচ্ছেন আতা। এমপি হানিফের হাত ধরেই ভেড়ামারা উপজেলার ষোলদাগ পল্লী থেকে কুষ্টিয়া জেলার রাজনীতিতে উঠে আসেন তিনি। 

এ ছাড়া হানিফের অতি আস্থাভাজন হিসাবে চাচাতো ভাই আতা জেলার রাজনীতিতে দলীয় অন্য শীর্ষ নেতাদের পিছে ফেলে প্রভাবশালী নেতা হিসাবে এগিয়ে যান। আতা ভেড়ামারা কুষ্টিয়ায় আসার পর থেকেই  শহরের পিটিআই সড়কের এমপি হানিফের বাড়িতেই বসবাস করে আসছেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা মতে আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে এমপিদের ভাই-বোনসহ রক্ত সম্পর্কীয় স্বজনরা অংশ করতে পারবেন না। কিন্তু এমপি হানিফের আপন চাচাতো ভাই হওয়া সত্বেও আতা দলীয় প্রধানের ওই সিদ্ধান্তের কোনো তোয়াক্কা করেননি। দলে যোগ্য-ত্যাগী নেতা থাকা সত্ত্বেও দোর্দণ্ড প্রতাপশালী আতার বিরুদ্ধে কেউ মনোনয়ন দাখিলের সাহস করেননি। 

কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজগর আলী জানান, দলীয় প্রধানের যে কোনো সিদ্ধান্ত মানতে আমরা বাধ্য। কিন্তু আতা এমপি হানিফের রক্ত সম্পর্কীয় আপন চাচাতো ভাই কিনা তা খতিয়ে দেখার বিষয়। তবে এক্ষেত্রে তিনি দলীয় সিদ্ধান্ত না মানার আওতায় পড়লে কেন্দ্র বিষয়টি ভেবে দেখবে বলে তিনি জানান।