দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে শুরু হয়েছে ২০০ বছরেরও পুরনো ঐহিত্যবাহী বুড়া চিন্তামন ঘোড়ার মেলা। দিনাজপুর, রংপুর, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অন্তত ৩ শতাধিক ঘোড়া নিয়ে এসেছেন ঘোড়া ব্যবসায়ীরা। গত বছরের চেয়ে এ বছর ঘোড়া ও ঘোড়া ক্রেতা ও বিক্রেতাদের উপস্থিতি বেশি।
শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলার বুড়া চিন্তামন ঘোড়ার মেলার উদ্বোধন করা হয়।
মেলাকে কেন্দ্র করে ফুলবাড়ী উপজেলার আলাদিপুর ইউনিয়নের মেলাবাড়ী এলাকাজুড়ে বসেছে গ্রামীণ মেলা। নাগর দোলা, গ্রামীণ বিভিন্ন খাবার দোকান ও খেলাধুলার আয়োজনসহ ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে। এতে বস বয়সী নারী-পুরুষের ব্যাপক সমাগম ঘটছে।
জানা যায়, প্রতি বছর বৈশাখ মাসের ১৩ তারিখ থেকে ফুলবাড়ী উপজেলার আলাদিপুর ইউনিয়নের মেলাবাড়ী মাঠে এই ঐতিহ্যবাহী বুড়া চিন্তামন ঘোড়ার মেলা বসে। মেলাটি অন্তত ১৫ দিন স্থায়ী হয়। তবে স্থানীয়ভাবে গরু, মহিষ ও ছাগল তেমন বেচাকেনা না হলেও ঘোড়াই মূলত বেচাকেনা হয়ে থাকে। এ কারণে এটি বুড়া চিন্তামন ঘোড়ার মেলা নামেই দেশব্যাপী পরিচিত।
প্রবীণ শিক্ষক দছিম উদ্দিন মণ্ডল বলেন, বুড়া চিন্তামন ঘোড়ার মেলাটি দেশব্যাপী ব্যাপক পরিচিত। ঘোড়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলেই এই মেলা শুরু এবং শেষ হওয়ার তারিখ জানেন। এ কারণে প্রতিবছর মেলা শুরুর আগ থেকেই ঘোড়া বেচাকেনা করতে আসেন সংশ্লিষ্টরা। মেলাকে কেন্দ্র করে হরেক রকম দোকানপাট বসে মেলায়। বিনোদনের জন্য সার্কাস, দোলনাসহ নাগর দোলা আসে মেলায়। বছর বৈশাখ মাসে মেলাটি শুরু এবং শেষ হয়।
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জের মাহমুদপুর ফতেপুর গ্রামের ঘোড়া ব্যবসায়ী মাহাফুজুল ইসলাম জানান, এ বছর ৪টি ঘোড়া নিয়ে মেলায় এসেছেন। একটি ঘোড়ার দাম রেখেছেন ৭০ হাজার, অন্যটির দাম ৫০ হাজার এবং ছোট দু’টির দাম ৩০ হাজার। কিন্তু ক্রেতার অভাবে একটিও এখন পর্যন্ত বিক্রি হয়নি।
একই উপজেলার গোলাপগঞ্জের ইবনে হাসান বলেন, গত মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ৫টি ঘোড়া নিয়ে মেলায় এসেছেন। একটি ঘোড়া বিক্রি হয়েছে ২৫ হাজার টাকায়। অন্য ৪টি বিক্রির জন্য ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না।
রংপুরের পীরগঞ্জে ফুতেপুর চতরার আব্দুল গোফফার এসেছেন ৩টি ঘোড়া নিয়ে। দুইদিন ধরে মেলায় পড়ে থাকলেও একটিও এখনও বিক্রি হয়নি। শেষ পর্যন্ত থাকবেন ঘোড়া বিক্রির আশা নিয়ে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুস সাকিব বাবলু বলেন, প্রশাসনের পাশাপাশি মেলা কমিটিও সার্বিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। অতি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী মেলা উত্তরবঙ্গের কোথাও নেই।
মেলা কমিটির সভাপতি সৈয়দ আবুল হাসান আজাদ বলেন, স্বাধীনতার পরও নেপাল, ভুটান, ভারত, পাকিস্তানসহ মধ্যপ্রাচ্য থেকে মেলায় ঘোড়া এসেছে। এখন বিদেশ থেকে ঘোড়া না আসলেও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মেলায় ঘোড়া আনেন মালিকরা।
ফুলবাড়ী থানার ওসি মো. মোস্তাফিজার রহমান বলেন, মেলার সার্বিক নিরাপত্তার জন্য পুলিশের পাশাপাশি আনসার সদস্যরা কাজ করছেন।
ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, ঐতিহ্যবাহী বুড়া চিন্তামন ঘোড়ার মেলার মালিক হচ্ছেন জেলা প্রশাসক। শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) থেকে মেলায় ঘোড়া বেচা-বিক্রির জন্য প্রচারণা করা হয়েছে।