উপজেলা নির্বাচন: কেন্দ্রের নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ‘চাচা-ভাতিজার লড়াই’

আসন্ন মাদারীপুর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন ২ জন। তারা সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা। চাচা-ভাতিজার লড়াইয়ে কে হবেন আগামী উপজেলা চেয়ারম্যান, সেটা নিয়ে এখন আগ্রহ সাধারণ ভোটারদের। দুই প্রার্থীর মধ্যে একজন হলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শাজাহান খানের জ্যৈষ্ঠ পুত্র আসিবুর রহমান খান।

এমপিপুত্র কেন্দ্রীয় যুবলীগের কার্যকরী সদস্য ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি। প্রতিদ্বন্দ্বী আরেক প্রার্থী শাজাহান খানের চাচাতো ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পাভেলুর রহমান শফিক খান।

শাজাহান খানের চাচাতো ভাই হলেও শফিক খানকে আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম এর 'গ্রুপের' বলে মনে করা হয়। মাদারীপুরে এই দুইটি 'গ্রুপের' রাজনৈতিক বিরোধ দীর্ঘদিনের। এছাড়া মাদারীপুরে জেলা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ কয়েকটি সংগঠনের নেতৃত্বে রয়েছেন আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম। ফলে চেয়ারম্যান প্রার্থী পাভেলুর রহমান শফিক খান পেয়েছেন তার স্থানীয় সমর্থন। তবে থেমে নেই এমপিপুত্র আসিবুর রহমান খানও। কাউকে কোনো অংশে কম বলে মনে করছেন না ভোটাররা।

তবে কেন্দ্রের নিষেধাজ্ঞা ছিল স্থানীয় কোনো এমপিপুত্র কিংবা তার কোনো স্বজন উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। অথচ এই দুই প্রার্থীই কেন্দ্রীয় নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন।

গত মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) জেলার নির্বাচন অফিসে লটারির মাধ্যমে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়। আসিবুর রহমান খান পেয়ছেন 'আনারস' প্রতীক এবং শফিক খান পেয়েছেন 'মোটরসাইকেল' প্রতীক। প্রতীক ঘোষণার পর থেকেই মাদারীপুর পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের এলাকায় এলাকায় উভয় পক্ষের মিছিল দেখা গেছে। এখন শহরের গ্রামের বিভিন্ন হাট-বাজারে, চায়ের দোকানে চা খেতে আসা আড্ডারত সাধারণ মানুষের মুখে একটাই প্রশ্ন- কে হচ্ছেন আগামীর চেয়ারম্যান। এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। আর ভোটারদের চাওয়া, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন।

অপরদিকে, ভাইস চেয়ারম্যান পদে মাঠে রয়েছেন তিনজন। তারা হলেন- মনিরুল ইসলাম তুষার ভূঁইয়া, এইচ এম মনিরুজ্জামান আক্তার হাওলাদার ও মো. বোরহান উদ্দিন বিতান। মোঃ মোখলেছুর রহমান ও মোঃ জাহিদ হোসেন নামে দুই প্রার্থী নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা চালালেও শেষ পর্যন্ত তারা তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫ জন। তারা হলেন- ফারিহা হাছান রাখি, ডেইজী আফরোজ, মোসা. তাজনাহার, ফারজানা নাজনিন ও হেনা খানম।