সুদিপ্ত কুমার নাগ
আমরা বন্ধুরা প্রায় সময় বিভিন্ন বিয়েবাড়িতে যেয়ে ভালোমন্দ দাওয়াত খেয়ে আসতাম। এলাকার কোনো বড় হোটেলে বিয়ের অনুষ্ঠানে দাওয়াত না দিলেও আমরা যেয়ে দাওয়াত খেতাম। প্রতি শুক্র ও শনিবার এভাবেই বিভিন্ন জায়গায় বিয়ে বা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দাওয়াত খেয়ে ভালোই সময় কাটত।
প্রতিবারের মতো সেদিনও আমরা এরকম একটা বিয়েতে ঢুকে পড়েছি। গেটে ইনভাইটেশন কার্ড চেক করে ঢুকানো হচ্ছিল। আমরা চুপ করে পেছন দিক দিয়ে ঢুকে গেলাম। খাওয়ার টেবিলে টোকেন সিস্টেম। সেখানে খাবারের কুপন কার্ড দেখিয়ে খাবার নিতে হবে। বিয়ে বাড়িতে এরকম সিস্টেম খুবই কম দেখা যায়। আমাদের কাছে কুপন ছিল না। আমরা বন্ধুরা তারপরও খাবার টেবিলে বসে গেলাম। একজন পুলিশ এসে আমাদের কাছ কুপন চাইলেন। আমরা বললাম, ‘একটু আগেই তো একজন এসে নিয়ে গেছে। আপনি আবার কুপন চাইছেন মানে? সন্দেহ হলে সিসি ক্যামেরায় চেক করেন।’ এত জোরালোভাবে মিথ্যা কথা বলায় সেই পুলিশ ভেবেই নিয়েছেন যে, আমাদের কুপন জমা দেওয়া হয়ে গেছে। এরপর টেবিলে খাবার চলে এল এবং আমরাও পেট ভরে খেয়ে নিলাম।
খাবার শেষে আমাদের সবাইকে বিশেষ একটা সেমিনার রুমে নিয়ে গেল। আমাদের বন্ধুদের সন্দেহ হচ্ছিল যে, বিয়েবাড়িতে সেমিনার রুমে কেন আনা হলো এবং এই বিয়ের অনুষ্ঠানে সবাই ফরমাল ড্রেস পরে আছে কেন? তারপর বুঝলাম, এটা বিয়ের অনুষ্ঠান না। এটা পুলিশের একটা বিশেষ সেমিনার এবং এখানে আমন্ত্রিত বিশেষ অফিসার ছাড়া কারোর প্রবেশ নিষেধ। এখন এখান থেকে কিভাবে বের হবো, এই নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেলাম। হঠাত্ আমরা চার বন্ধু দাঁড়িয়ে বললাম যে, ‘হেডকোয়ার্টার থেকে ফোন এসেছে। একটা গোপন মিশনে যেতে হবে।’ এই কথা বলে আমরা চারজন সেমিনার রুম থেকে বের হয়ে গেটের বাইরে এলাম। আমাদের জরুরি মিশনের কথা শুনে একজন বড় অফিসার আমাদের নামিয়ে দিয়ে আসার জন্য তার ড্রাইভারকে বললেন। আমরা একটা মোড়ে এসে নেমে ড্রাইভারকে বললাম, ‘পুলিশের গাড়িতে বেশিদূর গেলে সন্ত্রাসীরা বুঝে ফেলবে যে, আমরা পুলিশ।’ এরপর ড্রাইভার আমাদের স্যালুট করে গাড়ি নিয়ে চলে গেল আর আমরাও বিয়ে থেকে পালিয়ে বাঁচলাম, থুক্কু, পুলিশের বিশেষ সেমিনার থেকে পালিয়ে বাঁচলাম!