মেসেজ সমাচার

হামীম রায়হান

 

প্রথম দেখায় মেয়েটিকে ভালো লেগে গেল। কলেজে ফার্স্ট ইয়ারে ভর্তি হয়েছে। নামটাও খুব সুন্দর—মেঘলা। আস্তে আস্তে পরিচয়। পরে কলেজ বারান্দায় দেখা, কথা। ফোন নম্বরও আদানপ্রদান হলো। রাত জেগে কথা শুরু হলো।

নিয়মিতই মেঘলা মেসেজ করে মোবাইলে। মেসেজগুলো পড়লেই মন ভালো হয়ে যায়। ‘তোমার মন কেমন? খুব মিস করছি। কাল দেখা হবে। পড়ালেখা কেমন চলছে?’

 

দুই

একটা বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করছি। পাঁচ বছর সর্ম্পকের পর মেঘলার সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হলো দু সপ্তাহ আগে। দিনের শেষে মেঘলা মেসেজ পাঠায়, ‘একা একা ভালো লাগছে না। তাড়াতাড়ি চলে এস। নাস্তা করো। ফেরার পথে আমার জন্য চকলেট এনো।’

 

তিন

দেখতে দেখতে বিয়ের তিনটা বছর কেটে গেল। অফিসে কাজের চাপে বিবাহবার্ষিকীটাও ভুলে গেছি। জীবন এখন কাজময়। দিনের শেষে মেঘলা মসেজ এখনো দেয়, ‘বাসায় কিছু নাই। তেল, পেঁয়াজ, নুন, ডিম, সবজি, চাল সব লাগবে। বাচ্চার হরলিক্সও এনো। মনে করে আমার কানের দুলটা অবশ্যই নিয়ে আসবে। আজকে না আনলে বাসায় ঢুকতে দেব না।’ এখন মেঘলার মেসেজ এলেই মনে ভয় লেগে যায়। হায় রে মেসেজ!