সবেমাত্র এক বছরে পা দিয়েছে নীড়। নীড়ের মনের রাগ, অভিমান, অভিযোগগুলো নীড়ের হয়ে ডায়েরিতে লিপিবদ্ধ করেছেন প্রখ্যাত শিশু মন গবেষক নীরব চন্দন
আমার মতো একেবারে অনেক ছোট্ট শিশুকে নানা রকম জ্বালা-যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়। আমরা না সহ্য করতে পারি, না কিছু বলতে পারি। তার উপর আব্বুু-আম্মুর অতি আহ্লাদিপনা তো আছেই। আজকের সকালের ঘটনাই বলি। আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে ভাবলাম একটু দুধ খাব। আহা! মায়ের দুধের কী স্বাদ! তাই কান্না শুরু করে দিলাম। কিন্তু আম্মু আমাকে দুধ না দিয়ে সাবু খাওয়াতে লাগল। সকালবেলা কি সাবু-টাবু খেতে ভালো লাগে? তাই আবারও কান্না করতে লাগলাম। এবার আম্মু কোত্থেকে যেন খিচুরি নিয়ে এল। সে খিচুরি মুখে তুলতেই আমার মেজাজ আরো গরম হয়ে গেল। খিচুরিতে ঝাল, লবণ কিছুই নেই। ঝাল-লবণ ছাড়া খিচুরি খাওয়া যায়? ফলে আবারও কান্না শুরু করলাম। আম্মু এবার আমাকে আমার খেলনার বক্স এনে দিল। আর বলতে লাগল, ‘কাঁদে না বাবা, এই দেখ তোমার কত খেলনা!’ আম্মুকে তখন কী করে বোঝাব যে, ‘আমি এখন খেলতে চাই না। আমি দুধ খেতে চাই।’ আমি যেহেতু কথা বলতে শিখিনি, তাই আমার একমাত্র ভাষা কান্না। তাই আবারও কাঁদতে লাগলাম। এবার আমার সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্তটা এসে গেল। আম্মু আমাকে কোলে নিয়ে দুধ খাওয়াতে লাগল। একটা বিষয় আমার মাথায় কিছুতেই ঢুকল না, আম্মু যদি আমাকে দুধই খাওয়াবে তাহলে আরো আগে খাওয়াল না কেন?
এরপর আমি খেলনা নিয়ে খেলতে লাগলাম। আমার খেলা বলতে প্রতিটি খেলনা খেলনার বক্স থেকে বের করি এবং তা আবার বাক্সে গুছিয়ে রাখতে চেষ্টা করি। কিন্তু পারি না। ফলাফল হিসেবে আবার কান্না শুরু করি। তখন আম্মু এসে সকল খেলনা বাক্সে তুলে দেয়। এভাবেই চলে আমার খেলা।
এরপর বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোদের তাপও বাড়তে লাগল। গরমে আমার ঘামাচিও বেড়েছে। ঘামাচির কারণে আমার বাঁ পাটা ভীষণ চুলকাতে লাগল। আম্মু তখন রান্নাঘরে রান্না করছিল। তাই আম্মুকে ডাকতে লাগলাম অর্থাত্ কান্না শুরু করলাম। যাতে আম্মু আমার পা চুলকিয়ে দেয়। আম্মু আমার কান্না শুনে রান্না ঘর থেকে দৌড়ে এল। এরপর আমাকে কোলে নিয়ে দুধ খাওয়াতে শুরু করল। কিন্তু দুধ খাওয়ালে কি আমার পা চুলকানো কমবে? আম্মুটা বড্ড বোকা! কী আর করা! আমি কাঁদতে কাঁদতে খেতে খেতে ঘুমিয়ে পড়লাম। এভাবেই চলে আমার প্রতিটা দিন।
খিলক্ষেত, ঢাকা।