কাজের উদ্দেশ্যে বিদেশে যেতে প্রত্যেক বিদেশগামী কর্মীকে তার সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে সরকারের প্রতিষ্ঠান জনশক্তি কর্মসংসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো বা বিএমইটির মাধ্যমে। তবে, সেখানে দালালদের দৌরাত্ব ও নানাবিধ হয়রানিসহ সেবা পেতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির চিত্র ছিল সবারই জানা।
দীর্ঘ দিন ধরে চলা সেসব চিত্র পাল্টিয়েছে বিএমইটি। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের ছোঁওয়ায় বদলে গেছে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানটির চিত্র। বিদেশ গমনেচ্ছুদের ভোগান্তি কমিয়ে আনতে এবং সেবাগুলো আরও সহজ করতে অনলাইনের আওতায় আনা হয় বিদেশ যাওয়ার সকল প্রক্রিয়া।
বিএমইটির ডিজিটাল সেবায় কমেছে বিদেশ গমনেচ্ছুদের ভোগান্তি, সময় ও অর্থ। আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করার জন্য এখন আর অভিবাসীদের বিভিন্ন দপ্তরে দৌড়াদৌড়ি করতে হচ্ছে না। মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপরও নির্ভরতা কমে গেছে। ডিজিটাল প্রক্রিয়া চালু হওয়ায় হাতের নাগালে সরকারি সেবা পেয়ে গ্রহীতারাও খুশি। লাখ লাখ বিদেশ গমেনেচ্ছু বিএমইটিকে আকাঙ্ক্ষা পূরণের সেতু হিসেবেও দেখছেন। বছরের পর বছর বিদেশে অভিবাসনের যে ভয়াবহ চিত্র,অপ্রীতিকর এবং জঘন্যতম যাত্রা তা থেকে স্মার্ট বাংলাদেশের সূচনা করায় সরকারেরও প্রশংসা করা হচ্ছে। তবে প্রযুক্তির মাধ্যমে কাজের সহজিকরণের পেছনের বড় কারিগর বিএমইটির ডিজিটাল সার্ভিস প্রোভাইডার আমি প্রবাসী। যাদের মাধ্যমে ডিজিটাল সেবার যাত্রা শুরু হয় বিএমইটিতে। বিএমইটির ডিজিটাল ফ্ল্যাটফর্মের সঙ্গে শুরু থেকেই সম্পৃক্ত রয়েছে ডিজিটাল এই সেবা মাধ্যমটি। তবে, এই প্লাটফর্মটি তৈরির পেছনে সরকারের কোন অর্থই খরচ হয়নি বলে জানা গেছে।
আমি প্রবাসীর যাত্রা শুরু হয় ২০২১ সালের শেষের দিকে। এর আগেই মূলত করোনা মহামারির সময় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদেশ গমনেচ্ছুদের করোনা টিকা দিতে সহায়তার মধ্য দিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং বিএমইটির সঙ্গে কাজ শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। করোনা পরবর্তীতে বিএমইটির ডিজিটাল সার্ভিস প্রোভাইডার হিসেবে বিদেশ গমনেচ্ছুদের হয়রানি ও ভোগান্তি কমাতে বিদেশ যাত্রার সব সরকারি প্রক্রিয়াগুলো ডিজিটালাইজেশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে ‘আমি প্রাবাসী’ প্রাথমিকভাবে বিএমইটি রেজিস্ট্রেশন, প্রিডিপার্চার ওরিয়েন্টেশন (পিডিও), ট্রেনিং এবং বিএমইটি কিউআরকোড সম্বলিত স্মার্ট কার্ডসহ চারটি সেবা ডিজিটালাইজেশনের মধ্য দিয়ে অভিবাসনের ডিজাটালাইজেশন শুরু করে ২০২১ সালে। পরবর্তীতে প্লাটফর্মটিতে যুক্ত হয় বিদেশ যাত্রার সকল পরিষেবা।
দীর্ঘ ২০ বছরেরও বেশী সময় দুবাই থাকছেন নরসিংদীর আব্দুর রউফ। তিনি গেলো দুই বছর দেশেই রয়েছেন। বিয়ে সাদি ঘর নির্মাণ শেষ করে আবার আগের মালিকের অধীনে তিনি বিদেশ যাচ্ছেন।
আব্দুর রউফ জানান, ২০ বছর আগে বিদেশ যাওয়ার পূর্বে বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে যে পরিমাণ সময় এবং অর্থ অপচয় হয়েছে এবার তা হচ্ছে না। এর মধ্যে শুধু একবার তাকে ঢাকায় আসতে হয়েছে আর বাকি কাজ অনলাইনের মাধ্যমে তিনি শেষ করতে পেরেছেন। তিনি সরকারের ডিজিটাল উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
আর সরকারের এই প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটালাইজেশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পেরে গর্ববোধ করেন আমি আমি প্রবাসীর সিইও নামির আহমেদ নুরি। বলেন, বিএমইটির এসব পরিষেবাগুলোকে ডিজাটালাইজশনে আনার কার্যক্রমে অংশীদার হতে পেরে গর্ববোধ করছি। আমি প্রবাসীর কল্যাণে বিদেশ গমনেচ্ছুদের এখন আর কোন ভোগান্তিতে পড়তে হয় না। শুধু ভোগান্তিই নয় এরফলে অতিরিক্ত অর্থ ও সময়ের অপচয় থেকে বাঁচছেন অভিবাসন প্রত্যাশীরা। সেইসঙ্গে বিএমইটিতে কাগজের ব্যবহার কমে এসেছে। এর মাধ্যমে সরকারেরও অর্থ যেমন বাঁচছে, তেমনি সরকারের রাজস্বও বাড়ছে। সর্বোপরি সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের অংশ হতে পেরে গর্ব প্রকাশ করে এই কর্মযজ্ঞে সুযোগ পাওয়ায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো বিএমইটি এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদও জানান নামির আহমেদ।
এ বিষয়ে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক সালেহ আহমদ মোজাফফর বলেন, দেশ ছাড়ার আগে যেসব কাজ করতে হয় একজন প্রবাসীকে তার অধিকাংশই এখন বিএমইটির মাধ্যমেই করা যাচ্ছে। অনলাইনে কাজের সুবিধা থাকায় যেমন সময় বাঁচে, তেমনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাজই জবাবদিহির আওতায় আসে এবং ভোগান্তিমুক্ত হয়। সেবাগ্রহীতারা এখন সরকারের কাজের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখতে পারছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রুহুল আমিন বলেছেন, প্রবাসীদের কাজ সহজ করতে সরকার বাস্তবমুখী সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। বিদেশ যেতে আগ্রহীদের এখন আর মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপরও নির্ভর করতে হয় না। ডিজিটাল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এখন ঘরে বসেও সব ধরনের কাজ করা যাচ্ছে। সময় এবং অর্থ দুটোই বাঁচায় ডিজিটাল সেবার প্রতি আস্থা বেড়েছে বহুগুণ। প্রবাসী ও তাদের পরিবারের জন্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিশ্রুত সেবা প্রদানে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। প্রবাসীদের সেবা প্রদানে কোন ধরনের অবহেলা বা দীর্ঘসূত্রিতা মন্ত্রণালয় কামনা করে না। এজন্যই এখন বিএমইটির উপর মানুষের আস্থা বেড়েছে।