জো ক স

 সত্যজিত্ বিশ্বাস

বাঁশ দেওয়াটা আমাদের ঐতিহ্য

 

গাইড :কী, আমাদের দেশে ঘুরতে কেমন লাগছে?

ট্যুরিস্ট :খুব ভালো লাগছে। কিন্তু একটা ব্যাপার ঠিক বুঝতে পারছি না। তোমাদের সেতুর রেলিংয়ে বাঁশ, ট্রেনের স্লিপারে বাঁশ, বিল্ডিংয়ের রডের জায়গায় বাঁশ, ব্যাপারটা কী? এটা কি তোমাদের দেশের ঐতিহ্য?   

গাইড :ঠিক ধরেছ, সব জায়গায় বাঁশ দেওয়াটা আমাদের ঐতিহ্য।

 

 

ট্রেন ধরার উপায়

 

ট্রেন ধরার সবচেয়ে ভালো উপায় কী বলেন তো?

—আগের ট্রেন মিস করা?

—সময়সূচি অনুযায়ী প্লাটফর্মে উপস্থিত হওয়া?

—এক ঘণ্টা আগে এসে ট্রেনে চেপে বসা? 

—যে স্টেশন থেকে উঠবেন, সেই স্টেশন মাস্টারের সঙ্গে ভালো খাতির রাখা?

উত্তর :ট্রেন ধরতে এত আয়োজন লাগে? ট্রেনের দিকে হাতটা বাড়িয়ে দিলেই তো ধরা যায়।

 

 

অবাক বাংলাদেশ

 

সাংবাদিক :বিশ্ব ঐতিহ্য থেকে বাদ পড়তে পারে বাংলাদেশের সুন্দরবন—ভাবতে অবাক লাগে না?

রাজনীতিবিদ :এতদিন ধরে এত মানুষের দেশে যে এত বড় একটা বন এখনো আছে, সেটা ভাবতে অবাক লাগে না?

 

 

 

প্রতিবাদের কালচার

প্রথম প্রতিবাদী :কোনো ঘটনা ঘটলে পুরো জাতি সোচ্চার হয়ে যাই, আবার দুদিন গেলেই ভুলে যাই। এটা কোনো কালচার হলো?

দ্বিতীয় প্রতিবাদী :কেন হবে না? এটাই তো ফেসবুক কালচার।

 

বি পজেটিভ

বাবা :দুইবার বোঝালাম। এবার যদি পড়া মুখস্থ বলতে না পারিস তাহলে কিন্তু লাথি মেরে বাসা থেকে বের করে দেব।

ছেলে :ইস, বললেই হলো? তোমার পা আছে, আমার নেই?

বাবা :কী বললি! আমাকে লাথি মারবি?

ছেলে :সবকিছুতে এত নেগেটিভ ভাবনা কেন, বলো তো? বললাম, তুমি লাথি মারার আগেই এক দৌড়ে বাসা থেকে বের হয়ে যাব।

 

 

ইতিহাস ক্লাসে একদিন

স্যার :শোন, যুদ্ধ কখনোই ভালো কিছু নিয়ে আসেনি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ হওয়াতে কী পরিমাণ মানুষ মারা গিয়েছে, কী পরিমান স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে, কত সম্পদ নষ্ট হয়েছে, তোরা কল্পনাও করতে পারবি না। এবার বল দেখি, যুদ্ধ কি আমাদের জন্য মঙ্গলকর?  

ছাত্ররা সমস্বরে :জি না স্যার।

স্যার :তোরা কেউ যুদ্ধ পছন্দ করিস? 

ছাত্ররা সমস্বরে :জি না স্যার।

স্যার :ভেরি গুড। এবার বল, কেন অপছন্দ করিস?

পেছনের বেঞ্চ থেকে বল্টু :কে কোন আমলে যুদ্ধ করে অনিষ্ট তো করেই, তার ফল ভোগ করতে হয় প্রজন্মের পর প্রজন্মকে। 

স্যার :কী করে?

বল্টু :কী করে মানে? যুদ্ধ হলে সেটার সাল, তারিখসহ ইতিহাস মুখস্থ করতে হয় না?

 

 

কার কী উচিত

বাবা :ছোটবেলা থেকেই প্রত্যেক ছেলেমেয়ের ডায়েরি লেখার অভ্যাস থাকা উচিত।  

ছেলে :আর প্রত্যেক মা-বাবার উচিত লুকিয়ে সেই ডায়েরি না পড়া।

 

 

আমার মামা সব জানে

ভাগ্নে :গ্যাসের দাম আবার বেড়ে গেল। এই বিরাট সংকট মোকাবিলার উপায় কী বল তো?

মামা :বাঙালির পেট হইল গ্যাসের খনি। একটু কষ্ট কইরা নাক চাইপা পিছনে নল ঢুকাইয়া বিশেষ পদ্ধতিতে সংগ্রহ করলেই হয়।

 

 

গ্যাসের দাম তো বাড়বেই, কারণ...

v এ নগরে ফুলহীন, প্রেমহীন এমন কি জি-বাংলাহীন সংসার টিকে থাকতে পারে, কিন্তু গ্যাসবিহীন চুলায় না।

v ইশারা দিয়ে পশ্চাদ্দেশ দেখিয়ে লাভ নেই, সব গ্যাসে রান্না হয় না।

v গ্যাস হলো সেই জিনিস, যা দিয়ে শুধু বেলুন না, অফিসের বসকেও ফুলানো যায়।

v গ্যাসের চাপের হেরফেরে জীবন ছেড়াবেড়া। চুলায় কম হলে রান্নায় সর্বনাশ আর শরীরে বেশি হলে পরিবেশের।

 

ঢাকা না খোলা?

ট্যুরিস্ট :শহরের নাম ঢাকা অথচ সবই তো খোলা। রাস্তায় এত বড় বড় খাদ, এখানে একটা বিপজ্জনক সাইনবোর্ড পর্যন্ত নেই। এটা কোনো কথা হলো?

পথচারী :তাইলে তো ভাই সারা শহর সাইনবোর্ডেই ভরে যাবে।

 

কোটিপতি হওয়ার উপায়

স্যার :তোরা কে কে জীবনে কোটিপতি হতে চাস?

ছাত্ররা (বেশ কয়েকজন হাত তুলে) :আমরা সবাই স্যার।

স্যার :কোটিপতি হতে চাইলে কী কী করতে হবে?

অপু :ভালো করে পড়ালেখা করে নিজেকে তৈরি করতে হবে।

স্যার :ভেরি গুড। তপু তুই বল তো আর কী করা যেতে পারে?

তপু :আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে ভালো করে জেনে, নিজে কিছু আবিষ্কার করা গেলে কোটিপতি হওয়া যাবে।

স্যার :বাহ! বাহ! আচ্ছা টিপু, তুই বল তো আর কী করা যেতে পারে?

টিপু :স্যার, এসব কিচ্ছু করতে হবে না। ‘শুধু প্রশ্ন কোথা থেকে আউট করা যায়’ এটুকু জানলেই কোটিপতি হওয়া ঠেকায় কে?

 

জোকস বেরিয়ে আসবে

প্রথম বন্ধু :মনটা খুব খারাপ রে দোস্ত।

দ্বিতীয় বন্ধু :কেন, কী হয়েছে?

প্রথম বন্ধু :দুইদিন ধরে এত চেষ্টা করছি, একটা জোকসও লিখতে পারছি না।

দ্বিতীয় বন্ধু :ভালো করে ভাবো, নিশ্চয়ই মাথায় কিছু আসবে।

প্রথম বন্ধু :ভাবতে ভাবতে একটা কলম গিলে ফেলেছি, তাও তো আসছে না।

দ্বিতীয় বন্ধু :তাহলে এক কাজ করো, কিছু কাগজও গিলে ফেল।

প্রথম বন্ধু :তাহলে কী হবে?

দ্বিতীয় বন্ধু :কেন, জোকস বেরিয়ে আসবে।    

 

বরফ পানিতে ভাসে কেন?

শিক্ষক :বল তো বরফ পানিতে ভাসে কেন?

ছাত্র :তাকে দেখে কেউ উদ্ধার করবে, এই আশায়।

 

বিবাহিত না বিবাহত!

ফুলের দোকানদার :স্যার, তাজা গোলাপ আছে, নিয়ে যান।

পথচারী যুবক :গোলাপ দিয়ে কী হবে?

ফুলের দোকানদার :যাকে খুব ভালোবাসেন, তাকে দেবেন।

পথচারী যুবক :নারে, সেটা সম্ভব না।

ফুলের দোকানদার :কেন স্যার, তার কি অন্য কোথায় বিয়ে হয়ে গেছে?

পথচারী যুবক :উঁহু, আমি বিবাহিত।

 

ইঁচড়ে পাকা

ছেলে :আচ্ছা বাবা, তোমার তো চুল একটাও পাকে নাই, দাঁড়ি সব পাকলো ক্যান?

বাবা :তোর স্বভাব পাইছে যে।

ছেলে :মানে?

বাবা :ইঁচড়ে পাকা।