গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগআলী এলাকায় রিদিশা গ্রুপের রিদিশা নিটেক্স লিমিটেডের মালিকানাধীন প্লটের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের কয়েক কোটি টাকার জায়গায় গড়ে তোলা হয়েছে সংসর উদ্দিন মার্কেট। সেখান থেকে ভাড়া বাবদ লাখ লাখ টাকা আদায় করছেন এলাকার কিছু লোক। মার্কেটটি কয়েক দফা উচ্ছেদের পর এবার কৌশল পাল্টে উচ্ছেদ ঠেকাতে ঢাল হিসেবে মার্কেটের এক পাশে সওজের জায়গায় পাকা মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, ষাটের দশকের শুরুতে তৎকালীন ঢাকা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট (ডিআইটি) বর্তমানে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আওতাধীন টঙ্গী শিল্পাঞ্চলের (শিল্প জোনের) জন্য টঙ্গীর আউচপাড়া মৌজার সৈলারগাতী ও হিমারদিঘী গ্রামের ৭ বিঘা ১৭ কাঠা আধা ছটাকসহ আশপাশের জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়। এর পাশেই সড়ক ও জনপথের বিভাগের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়।
রিদিশা গ্রুপের আইনজীবী আরিফুজ্জানান গণমাধ্যমকে জানান, সরকারি দুটি সংস্থার নামে জমি অধিগ্রহণের পর ওই এলাকায় ব্যক্তি মালিকানা কোনো জমি অবশিষ্ট নেই। এছাড়া ওই শিল্প জোনে প্রত্যেকটি প্লটের চার পাশে সুপরিসর জায়গা খালি রেখে প্লটগুলো বিন্যস্ত করা হয়েছে। এলাকার ভারি শিল্প কারখানাগুলোর পরিবহন পার্কিং করার সুবিধার্থেই প্লটগুলোর সামনে পর্যাপ্ত জায়গা খালি রাখা হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন মহল ওই জায়গাগুলো অবৈধভাবে দখল করে অস্থায়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা হারুন অর রশিদ গণমাধ্যমকে জানান, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এক সময় এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ রেওয়াজে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু যখনই যে দল ক্ষমতায় যেত পরবর্তীতে ওই দলের লোকজন এসব খালি জায়গা পুনরায় দখল করে নিত। বর্তমানে একই দল একটানা ক্ষমতায় থাকায় কিছু সুবিধাবাদী লোক সরকারি দলের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের ম্যানেজ করে এসব জায়গা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের দখলে রেখেছে।
রাজউকের সি ব্লকের ৮৬ (নতুন ৪০) নং প্লটের সামনের সংসর উদ্দিন মার্কেট ইতোপূর্বে কয়েক বার উচ্ছেদ করা হয়েছিল। সর্বশেষ সেখানে মসজিদ করার নামে জায়গাটি অভিনব কায়দায় দখল করা হয়েছে। কয়েক কোটি টাকা মূল্যের ওই সম্পত্তির কিছু অংশে প্রথমে মসজিদের নামে টিনের ছাপড়া দিয়ে পাশের বাকি সব খালি জায়গায় একই নামে (সংসর উদ্দিন) মার্কেট বানিয়ে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা ভাড়া আদায় করছে একটি মহল। এছাড়া দোকান বরাদ্দ বাবদ মোটা অংকের অগ্রিম জামানত হিসেবে টাকা নেওয়া হয়েছে। মার্কেটটি পুনরায় উচ্ছেদ ঠেকাতে সম্প্রতি ছাপড়া মসজিদটি ভেঙে নির্মাণ করা হচ্ছে সংসর উদ্দিন মার্কেট জামে মসজিদ নামে পাকা মসজিদ।
মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, আমার দাদা শ্বশুর সংসদ উদ্দিন এস.এ ও সি.এস পর্চামূলে এই জমির মালিক ছিলেন। পরবর্তীতে আরএস জরিপে সড়ক ও জনপথ এবং ডিআইটির (রাজউক) নামে ভুলবশত এসব জমি রেকর্ড হয়। আদালতে রেকর্ড সংশোধনী মামলা চলমান আছে।
সওজের জায়গায় বাজার ও মসজিদ নির্মাণ বিষয়ে তিনি বলেন, বাজারে ২৫/৩০টি দোকান ভাড়া দেওয়া আছে, সেখান থেকে মাসে লাখ টাকার কাছাকাছি ভাড়া আসে। আমরা কয়েকজন এই টাকা নিচ্ছি। আর মসজিদটি বহু পুরোনো, বর্তমানে মসজিদে মুসল্লি অনেক বেড়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে পরামর্শ করে মসজিদটি নির্মাণের কাজ শুরু করেছি। এতে বাজার উচ্ছেদের সংশ্লিষ্টতা নেই।
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য গাজীপুর সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী কে এম শরিফুল আলমের অফিসে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
তবে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ঢাকা জোন) মো. সবুজ উদ্দিন খান গণমাধ্যমকে বলেন, মহাসড়কের পাশে যদি কেউ সড়ক ও জনপথের জায়গা দখল করে রাখে তাহলে তা উচ্ছেদ করা হবে। এ ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।