মার্কিন উপস্থিতি মোকাবিলায় প্রথমবার সমুদ্রযাত্রা করলো চীনের অত্যাধুনিক রণতরী

প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলক সমুদ্রযাত্রায় নেমেছে চীনের তৃতীয় এবং অত্যাধুনিক নতুন বিমানবাহী রণতরী ফুজিয়ান। দেশটির রাষ্ট্রীয় মিডিয়া বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে।

দ্যা ডিপ্লোমেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিতর্কিত দক্ষিণ-পূর্ব ও তাইওয়ান প্রণালীর চারপাশে চীন সাগরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর বিরুদ্ধে নিজেদের ক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে বেইজিং। ফুজিয়ান এখন পর্যন্ত চীনের সবচেয়ে বড় যুদ্ধজাহাজ।

পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভির ঘোষণার বরাত দিয়ে চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, ফুজিয়ান ১ মে সকাল ৮টার দিকে সাংহাইয়ের জিয়াংনান শিপইয়ার্ড থেকে প্রথম পরীক্ষামূলক যাত্রার জন্য রওয়ানা হয়। সমুদ্র যাত্রাটি যানটির চলাচল দক্ষতা ও বৈদ্যুতিক শক্তি সিস্টেম পরীক্ষার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।

সিনহুয়া সময়সূচী ও পরিকল্পিত অবস্থানের মতো বিশদ বিবরণ দেয়নি।

কিন্তু এই পরীক্ষামূলক যাত্রার আগে সাংহাই মেরিটাইম সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ৩০ এপ্রিল সাংহাই থেকে ১০০ কিলোমিটার পূর্বে উপকূলের সমুদ্রসীমায় সামরিক মহড়ার জোন স্থাপন করতে চায়। এ জন্য নেভিগেশনাল হ্যাজার্ড সেফটি নোটিশ জারি করেছিল চীনের পরিবহন মন্ত্রণালয়।

২০২২ সালের জুনে চালু করা ফুজিয়ান হল চীনের প্রথম বিমানবাহী রণতরী। এটি উন্নত ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ক্যাটাপল্ট এবং যুদ্ধবিমান লঞ্চ ও অবতরণের জন্য অ্যারেস্টিং ডিভাইস দিয়ে সজ্জিত।

ফুজিয়ানে শুধু একসঙ্গে একাধিক ফাইটার-বোমারু বিমান চালানোই যাবে না বরং নৌবাহিনীর অপারেটিং বিমানবাহী রণতরীর বিকল্প শর্ট টেকঅফ সিস্টেমের তুলনায় অনেক বেশি ভার বহনের সক্ষমতাও রয়েছে।

ফুজিয়ানের ধারণ ক্ষমতা রয়েছে ৮০ হাজার টনের বেশি এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ৩১৬ মিটার। জাহাজটি কতগুলো জেট বহন করতে পারে সে সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনো বিশদ বিবরণ নেই। তবে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত প্রতিরক্ষা বিবরণে বলা হয়েছে, ফুজিয়ান জে-১৫ ফাইটার ও কেজে-৬০০সহ ৬০ থেকে ৭০টি বিমান বহন করতে পারে।

ফুজিয়ান প্রদেশের নামানুসারে ফুজিয়ানের নামকরণ করা হয়েছিল। শি জিনপিং প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে এই প্রদেশে অনেক বছর দায়িত্ব পালন করেছেন।

দক্ষিণ ও পূর্ব চীন সাগর এবং পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে অ্যান্টি-অ্যাক্সেস/এরিয়া ডিনায়েল ক্ষমতা জোরদার করার লক্ষ্য নিয়েছে বেইজিং। উদ্দেশ মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ও অন্যান্য বিমানকে কাছে আসতে বাধা দেওয়া। একবার ফুজিয়ান মোতায়েন করা হলে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের নৌবাহিনীর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনেক বেড়ে যাবে।