বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী সহিংসতায় আহত ২০

চেয়ারম্যান প্রার্থীকে মারধর সংঘর্ষ, সাংবাদিকদের ওপর হামলা

উপজেলা নির্বাচন সামনে রেখে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ছে। গত দুই দিনে বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় কমপক্ষে ১৬ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে নাটোরের বাগাতিপাড়ায় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এ এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনকে (৬২) পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে অন্য প্রার্থী শরিফুল ইসলামের লোকজনের বিরুদ্ধে। তাকে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার সোনাপুর বাজারে এই হামলার ঘটনা ঘটে। একই রাতে মাগুরার শ্রীপুরে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ সময় নির্বাচনি অফিস ও একাধিক মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। এছাড়া বরিশাল সদর উপজেলায় নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন একাধিক সংবাদকর্মী।

গুরুদাসপুর (নাটোর) সংবাদদাতা জানান, আহত চেয়ারম্যানপ্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন বাগাতিপাড়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ফাগুয়ার দিয়াড় ইউনিয়নের সাইলকোনা গ্রামের মৃত খোয়াজ আলীর ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জাহাঙ্গীর হোসেন উপজেলার সোনাপুর হাটে বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করছিলেন। এ সময় প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারম্যানপ্রার্থী শরিফুল ইসলামের কর্মীরা জাহাঙ্গীর আলমের ওপর হামলা চালান। পেছন থেকে রড-চেয়ার দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করেন।

নাটোর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিত্সক মালিহা মেহবুব জানান, শঙ্কা না থাকলেও জাহাঙ্গীর হোসেনের বাঁ-হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলিসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন আছে। এদিকে হামলার শিকার প্রার্থীর ভাই ফাগুয়ার দিয়াড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম লেলিন বাদী হয়ে বাগাতিপাড়া থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলার পর হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আনসার নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাগাতিপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নান্নু খান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মাছুদুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্নকারীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শ্রীপুর (মাগুরা) সংবাদদাতা জানান, উপজেলার নবগ্রাম বাজারে বুধবার রাতে উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শরীয়তউল্লাহ হোসেন মিয়া রাজনের মোটরসাইকেল প্রতীকের সমর্থক ও এমএম মোস্তাসিম বিল্লাহ সংগ্রামের ঘোড়া প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ফিরোজ মণ্ডল, মুক্তার হোসেনসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। এ সময় মোটরসাইকেল প্রতীকের নির্বাচনি অফিস ও উভয় গ্রুপের ১০-১২টি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ তাসমীম আলম জানান, সংঘর্ষের সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং সন্দেহজনকভাবে ঘটনাস্থল থেকে কয়েক জনকে আটক করেছে।

বরিশাল অফিস জানায়, সদর উপজেলা নির্বাচনের প্রচারণা চলাকালীন আনারস ও মোটরসাইকেল প্রতীকের কর্মী-সমর্থকদের মারামারির ঘটনা ঘটে। সংবাদ পেয়ে বুধবার রাত পৌনে ৯টার দিকে চণ্ডীপুর মোহাম্মদ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে যান কয়েক জন সাংবাদিক। এ সময় অজ্ঞাতনামা ২০-২৫ জন রামদা, দা, লোহার পাইপ, রড, লাঠি দিয়ে সাংবাদিকদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। সাংবাদিকদের ক্যামেরা ভাঙচুর করার পাশাপাশি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহত সাংবাদিকদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন হামলার শিকার স্থানীয় একটি দৈনিকের সাংবাদিক বেলাল হোসেন। তিনি জানান, বর্তমানে তিনিসহ জাতীয় দৈনিকের ফটো সাংবাদিক আ রহমান ও স্থানীয় দৈনিকের রিপোর্টার এইচ এম সোহেল হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। মামলায় জাগুয়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য জামাল সর্দার, বর্তমান ইউপি সদস্য সুজন হাওলাদারসহ ১২ জনকে এবং অজ্ঞাত আরো ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। পরে সুজন হাওলাদারকে গ্রেফতার করে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। সে জাগুয়া ইউনিয়নের পাঁচগাঁও চণ্ডীপুর এলাকার আ শুককুর আলী হাওলাদারের ছেলে ও আনারস প্রতীকের প্রার্থীর কর্মী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত বলে স্বীকার করেছে।

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গভীর রাতে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি থানায় ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, উচ্চৈঃস্বরে গালমন্দ ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যানপ্রার্থী আমিনুল ইসলাম সরকারের ১০ কর্মী-সমর্থককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। বুধবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। বেলকুচি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল বারিক জানান, মামলায় ২২ জনের নাম উল্লেখ করে অন্তত ৪০ জনকে আসামি করা হয়। পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল জানান, ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করে বাকি আসামিকে গ্রেফতার করা হবে। এ বিষয়ে জানতে চেয়ারম্যানপ্রার্থী আমিনুল ইসলামের মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

টেকেরহাট (মাদারীপুর) সংবাদদাতা জানান, মাদারীপুর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যানপ্রার্থী আসিবুর রহমান খানের দুই কর্মীকে মঙ্গলবার রাতে অতর্কিত হামলা করে গুরুতর আহত করেছে প্রতিপক্ষ প্রার্থী পাভেলুর রহমান শফিক খানের সমর্থকরা। এ ঘটনায় বুধবার মাদারীপুর সদর থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। আহতরা হলেন—মানিক সরকার ও সুবদেব সর্দার। এ প্রসঙ্গে মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ এইচ এম সালাউদ্দিন বলেন, ‘ভুক্তভোগীর অভিযোগ তদন্ত করে আমলে নেওয়া হবে।’