বেসিসকে নিয়ে যেতে হবে বহুদূর

দেশের সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবা খাতের বাণিজ্য সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) ২০২৪-২৬ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন হতে যাচ্ছে ৮ মে। ১১ সদস্যের নির্বাহী পরিষদ নির্বাচন করতে এবারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩৩ প্রার্থী। এর মধ্যে জেনারেল ক্যাটাগরি থেকে ৮ জন এবং অ্যাসোসিয়েট, অ্যাফিলিয়েট ও আন্তর্জাতিক ক্যাটাগরি থেকে ১ জন করে নির্বাচিত হবেন। 

মূলত তিনটি প্যানেলে ভাগ হয়ে ৩৩ জন প্রার্থী এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই তিনটি প্যানেলের নাম ‘টিম স্মার্ট’, ‘ওয়ান টিম’ ও ‘টিম সাকসেস’।

বেসিস নির্বাচন নিয়ে নানা আলোচনা সমালোচনা রয়েছে। বেসিস নির্বাচনে ভেসে ওঠে প্রার্থীদের কিছু 'বিব্রতকর' অতীত, হতে পারে অনিয়ম-দুর্নীতি কিংবা কোনো অন্ধকার। যা কোনো প্রার্থীকে এগিয়ে রাখে বা প্রতিপক্ষকে সুযোগ করে দেয়।  

বেসিসে যারা নির্বাচিত হবেন তাদের কাজ কী হতে পারে?  নির্বাচনে সাধারণ ক‌্যাটাগরিতে লড়ছেন হাইপারট‌্যাগ সলিউশনস লিমিটেড এর ব‌্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ শফিউল আলম। প্যানেল ‘টিম সাকসেস’ এর হয়ে সাধারণ ক্যাটাগরিতে পরিচালক পদে লড়ছেন তিনি। তার মতে, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক উভয় আইটি বাজারে ব্যবসা বাড়ানো ও সম্প্রসারনের জন্য নিয়ন্ত্রণ কাঠামো তৈরি করা, আইটি উদ‌্যোগ বাস্তবায়নের জন‌্য সরকারের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা এবং ইক‌ুয়িটি এন্টারপ্রেনারশিপ ফান্ড (ইইপি) এর মাধ‌্যমে অর্থায়ন পাওয়া সহজতর করা।

তিনি মনে করেন, নির্বাচনের আগে প্রত্যেক প্রার্থীরা সদস্যদের নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন, তাই সদস‌্যদের মাঝে ব‌্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা থাকে। কিন্তু দেখা যায় নির্বাচিত হওয়ার পরে অনেকগুলো স্ট্যান্ডিং কমিটি গঠন করা হয়। যারা দু-তিন মাস পর্যন্ত কার্যকর থেকে স্থবির হয়ে যায়, যেকারণে সদস্যরা আগ্রহ হারান। এর ফলে আমরা দেখেছি, বাকি একুশ মাসে আইটি খাতে বিদ্যমান পলিসিগত সমস্যা, ক্রয় পরিকল্পনা, ভ‌্যাট-ট‌্যাক্স ইস‌্যু, মার্কেট ডেভেলপমেন্ট ইস্যু, সরকার নির্ধারিত ৫ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা এবং সদস্যদের জন্য এক্সসেস টু ফাইনান্স এর প্রয়োজনীয়তা সবকিছুই স্থবির হয়ে পড়ে।

ক্রয় পরিকল্পনা এবং পলিসিসহ বিদ‌্যমান বিভিন্ন সমস‌্যা সমাধানে সরকারের সাথে কাজ করার জন্য বেসিসের খুব বেশি প্রতিনিধিত্ব দেখা যায় না। স্থানীয় বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাজার উন্নয়নে আমি কাজ করা জরুরি। এই মুহূর্তে স্থানীয় বাজারে বেসিসের একটি মার্কেটপ্লেস দরকার।

শফিউল আলম জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক উভয় আইটি বাজারে ব্যবসা বৃদ্ধি ও সম্প্রসারণের জন্য নিয়ন্ত্রণ কাঠামো তৈরি করতে চান। যেখানে লোকাল কোম্পানিগুলো কাজ দিতে পারবে এবং আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো বেসিসের প্ল্যাটফর্ম এর মাধ্যমে স্ক্রু ফার্ম প্রটেকশন সহায়তা পাবে।

অনেক বছরের পুরনো টেমপ্লেটে বেসিসের বাৎসরিক সফট এক্সপো আয়োজন করা হয়।  যেখানে মূলত  শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষকে টার্গেট করে একটি ক্রাউড জেনারেড করার চেষ্টা করা হয়। সেখানে আমাদেরই ফার্মাসিটিক্যাল, গার্মেন্টস, এফএমসিজি প্রত‌্যেকটি ইন্ডাস্ট্রিকে কানেক্ট ও টার্গেট করে হওয়ার কথা ছিল সফট এক্সপো। যেখানে বিক্রির একটি রেকর্ড হওয়ার কথা। দুঃখজনকভাবে হলেও সত্য যে,  এতোদিন উপযুক্ত ও  কার্যকর সিদ্ধান্তের অভাবে এ আয়োজনকে আমরা কার্যকর সফট এক্সপো হিসেবে পরিণত করতে পারছি না।       

এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা মনে করেন, বে‌সিসের ম‌তো সংগঠ‌নে বিত‌র্কিত ব‌্যক্তিরা নির্বা‌চিত হ‌লে ব‌্যাহত হ‌বে স্মার্ট বাংলা‌দে‌শের পথচলা। 

মেধাবী এবং কাজ করতে আগ্রহী সদস্যদের নিয়ে একসাথে ব্যবসা করা, আইসিটি শিল্পটকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং বেসিসের উন্নয়নে সমন্বিতভাবে কাজ করতে আগ্রহী প্রার্থীদের জিতিয়ে আনতে হবে বলে মনে করেন সাধারণ ভোটাররা।