কক্সবাজারের টেকনাফে টমটমচালক মোস্তাক মিয়াকে অপহরণের পর হত্যার ২৩ দিন শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে পরিচালনা করে এ ঘটনার পরিকল্পনাকারীসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মূলহোতা মো. আব্দুর রহিম (১৯), আব্দুল আমিন প্রকাশ পুতিয়া (১৬), ওমর ফারুক (২৪), ফরিদ আহমদ (৫০), সাদেকুর রহমান (২১) ও নুরুল আমিন (৪৩)। গ্রেপ্তার সবাই উখিয়া-টেকনাফ ও নাইক্ষ্যংছড়ির বাসিন্দা।
রোববার (৫ মে) দুপুর ৩টার দিকে টেকনাফ মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ ওসমান গনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
জানা গেছে, গত ৩ মার্চ টেকনাফ পৌর সভার খায়ুকখালী খালে টমটমচালক মোস্তাক মিয়ার লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় জনতা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গলায় মাটিভর্তি ভারী বস্তা বাঁধা অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে। নিহত টমটমচালক সাবরাং ইউনিয়নে কাটাবনিয়া এলাকার নুরুজ্জামানের ছেলে। ঘটনার পর পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে চাঞ্চল্যকর এ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ শুরু করি। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে উখিয়া-টেকনাফ বান্দরবান এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ওই মামলার পরিকল্পনাকারীসহ জড়িত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি।
জিজ্ঞেসাবাদে জানা গেছে, তারা সবাই আন্তঃজেলা টমটম ছিনতাই চক্রের সদস্য। এ চক্রের আগেও রামু, কক্সবাজার সদর, উখিয়া, টেকনাফ থেকে একাধিক টমটম ছিনতাই করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ বিভিন্ন টমটম চালকের কাছে বিক্রয় করেছেন। আন্তঃজেলা টমটম ছিনতাইকারী এ দলটি যাত্রী সেজে টমটম চালকদের টার্গেট করে এসব কাজ করেন।
এ বিষয়ে টেকনাফ পৌর সভার অলিয়াবাদের বাসিন্দা আব্দুল আমিন বলেন, খালের পাড়ে একজন টমটম চালকের লাশ পাওয়ার পর সবাই ভেবেছিল হয়তো ঘটনার কূলকিনারা খুঁজে পাবে না পুলিশ। সবার ধারণা ছিল গরীব টমটম চালকের হত্যাকারীদের ধরতে কেউ হয়তো গুরুত্ব দেবেন না। হত্যাকারীরা সহজে পার পেয়ে যাবেন। পরবর্তীতে টেকনাফ থানা পুলিশ একে একে পৃথক অভিযান চালিয়ে এ ঘটনার পরিকল্পনাকারীসহ ৬ জন গ্রেপ্তার করেছে।
নিহত টমটম চালকের ভাই মোজাহার মিয়া বলেন, আমাদের পরিবার পুলিশ বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞ। এতে আশপাশের মানুষ ভরশা পেয়েছে।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ ওসমান গনি বলেন, গ্রেপ্তারের পরে তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। সেখানে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এবং মোস্তাক হত্যার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা কথা স্বীকার করেছেন।