মানিকপুরের সুস্বাদু লিচু বাজারে, বাণিজ্যিকভাবে গড়ে উঠছে বাগান

সুনামগঞ্জের ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার মধ্যবর্তী মানিকপুর গ্রামের রসালো লিচু বাজারে আসতে শুরু করেছে। মানিকপুরসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামের তিন শতাধিক পরিবার লিচু উৎপাদন করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছে। চলতি মৌসুমে নোয়ারাই ইউনিয়নের এ অঞ্চলে লিচুর ভালো ফলন হয়েছে। এখন উৎপাদিত লিচু বাজারজাতকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা।

ছাতক উপজেলা (শহর) থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার পশ্চিমে নোয়ারাই ইউনিয়নের চৌমুহনীবাজার। এ পথ ধরে একটু এগোলেই চোখে পড়বে মানিকপুর গ্রামের লিচুবাগানগুলো। এ গ্রামে প্রতিটি বাড়ির আঙ্গিনায় থাকা গাছে গাছে পাকা লিচুর রঙিন ঝলকানি। লিচুর গ্রাম নামে পরিচিত মানিকপুর গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে লিচু উৎপাদন করে উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করে আসছে। প্রতিকূল অবস্থা, কঠিন যোগাযোগ ব্যবস্থার মধ্যেও কঠোর পরিশ্রম করে এখানের লোকজন তাদের উৎপাদিত লিচু বাজারজাত করে আসছে। সরেজমিনে নোয়ারাই ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের বিভিন্ন লিচুবাগান ও বাড়িতে গিয়ে বাগান মালিকদের সঙ্গে আলাপকালে লিচু চাষে সম্ভাবনা ও সমস্যার কথা জানা যায়।

শতাধিক বছর আগে গৌরীপুরের জমিদারি এস্টেটের নায়েব হরিপদ রায় ও শান্তিপদ রায় মানিকপুর গ্রামে তাদের কাচারি বাড়িতে কয়েকটি লিচুগাছ রোপণ করেছিলেন। শতবর্ষী এসব লিচু গাছ এখনো কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। কালান্তরে এসব লিচুগাছ থেকেই ক্রমে ক্রমে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে গোটা গ্রামেই লিচুর গাছ ছড়িয়ে পড়েছে। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এখানের বাড়ি ও বিভিন্ন টিলায় গড়ে উঠেছে লিচুর বাগান।

নোয়ারাই ইউনিয়নের মানিকপুর ছাড়াও কচুদাইড়, বড়গল্লা, চানপুর, উলুরগাঁও, গোদাবাড়ী গ্রামে রয়েছে লিচুবাগান। এখান থেকে লিচুচাষ ছড়িয়ে পড়েছে দোয়ারার লামাসানিয়াসহ কয়েকটি গ্রামে। তবে মানিকপুর লিচুর গ্রাম হিসেবেই পরিচিতি লাভ করেছে।

বর্তমানে এলাকার বাগানের গাছে গাছে ঝুলছে পাকা লিচু। উত্পাদিত এসব লিচু দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ ও বিক্রির জন্য এখন ব্যস্ত এখানকার লিচুচাষিরা। লিচু উত্পাদনের সঙ্গে জড়িত মানিকপুর গ্রামের আব্দুল হামিদ বাঙালি, ডা. মমিনসহ অনেকে, আরব আলী, জয়নাল আবেদীন, ডা. কাওসার, রবি মিয়া, শওকত আলী, শকুর আলী, গোদাবাড়ী গ্রামের ফরিদ মিয়া, চানপুরের আরব আলী, বড়গল্লা গ্রামের আব্দুস কাদিরসহ লোকজন জানান, প্রতি বছরই যথা সময়ে লিচুগাছের পরিচর্যা দিয়ে ভালো ফলনের উপযোগী করে তোলা হয়। শ্রম ও পরিচর্যার কারণে এখানে লিচুর ফলনও আশানুরূপ হচ্ছে। কিন্তু লিচু পাকা শুরু হলেই বাদুর, কটা, চামচিকা জাতীয় পাখির কারণে লিচুর ক্ষতি হয়। শতকরা ৩০ শতাংশ লিচু পাখির উপদ্রবে নষ্ট হয়ে যায়। তারা জানান, অনুন্নত যোগাযোগের কারণে উত্পাদিত লিচু বাজার মূল্যের তুলনায় কম মূল্যে বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের। এ বছর বিদ্যুৎসুবিধা হয়েছে, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা হলে এলাকায় লিচু চাষে আরো লোকজন আগ্রহী হয়ে উঠবে।