হাটহাজারী উপজেলার ফটিকা গ্রামের মেহেদী পাড়ায় প্রবাসীর স্ত্রী নিশুকে (১৯) শ্বশুর বাড়িতে গলাটিপে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (০৬ জুলাই) দুপুরের দিকে পৌরসভার ফটিকা গ্রামের পূর্ব মেহেদী পাড়ার দুলা মিয়া সওদাগর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় জানা গেছে, মাত্র দুই বছর পূর্বে একই গ্রামের ৬নং ওয়ার্ডের পূর্ব মেহেদী পাড়ার দুলা মিয়া সওদাগর বাড়ির মো. ফোরক আহম্মদের পুত্র প্রবাসী ফোরকানের সঙ্গে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয় নিশুর। তাদের সংসারে ফয়জুল্লাহ ফজু নামের মাত্র পাঁচ মাসের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুর বাড়ির লোকজন বারবার গৃহবধূ নিশুকে নির্যাতন করে আসছে। এক পর্যায়ে নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়। পরে গলা টিপে পুত্রবধূ নিশুকে হত্যা করে।
একাধীক সূত্র জানায়, হত্যার পর ঘটনা অন্যদিকে প্রবাহিত করতে নিশুকে সদরের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে নিহতের পরিবার খবর পেয়ে সদরের ঐ হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে অভিযুক্ত শ্বশুর মো. ফোরক আহম্মদকে (আনুমানিক বয়স ৬৫) গণপিটুনি দিয়ে গুরুতর আহত করে। খবর পেয়ে হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত ফোরক আহম্মদকে চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে এবং হত্যার শিকার গৃহবধূ নিশুর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক মর্গে প্রেরণ করে।
আরো পড়ুন: হত্যার আগে শিশু সামিয়াকে ধর্ষণ করা হয়
বিয়ের পর থেকে এ ২ বছরের মধ্যে পুত্রবধূকে নির্যাতনের ঘটনায় অনেকবার পারিবারিক ভাবে শালিস বৈঠক হয়েছিল বলে সূত্রে জানা গেছে।
নিহতের নানা মো. শফিউল্লাহ জনান, তারা নিশুকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে গলাটিপে হত্যা করেছে। পুলিশ রিপোর্ট তৈরি করার সময় গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখেছে। এ ঘটনায় আমরা হত্যা মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। তিনি কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, শিশুকাল থেকেই নিশুরা নানার বাড়িতে থাকতো, এখানেই বেড়ে উঠেছে সে। নিশুকে নির্মমভাবে হত্যার মাধ্যমে মাত্র পাঁচ মাসের শিশুকে যারা এতিম করে দিয়েছে আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে সেসব হত্যাকারীদের বিচার চাই। এদিকে ঘটনার খবর পেয়েই নিহতের স্বামী ফোরকান প্রবাস থেকে দেশের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন বলেও একটি সূত্রে জানা গেছে।
মডেল থানা পুলিশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্যে মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ইত্তেফাক/এমআই