বীর মুক্তিযোদ্ধা, জাসদের কেন্দ্রীয় সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বরগুনা সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক হুমায়ুন কবির হিরু আর নেই। বৃহস্পতিবার (১৭ মে) রাত ১টার দিকে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে বরগুনা জেলার বেতাগী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)।
তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, তিন মেয়ে ও ৮ ভাইবোনসহ অগণিত আত্মীয়-স্বজন রেখে যান। তিনি রাজনীতির বাহিরেও অসংখ্য সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। শুক্রবার বাদ আছর বেতাগী কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বেতাগী সিকদার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়। জানাজায় সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে।
বরিশাল বিভাগ সমিতির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউল কবির দুলু ভাইয়ের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা অধ্যাপক হুমায়ুন কবির হিরুর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব ও সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন। এক যৌথ শোক বিবৃতিতে তারা বলেন, সমাজ পরিবর্তনের লড়াইয়ে আপোষহীন সংগ্রামী ছিলেন হুমায়ুন কবীর হিরু। দেশমাতৃকার স্বাধীনতা এবং স্বাধীনতা পরবর্তী শোষণমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে সমগ্র জীবন উৎসর্গ করেছেন তিনি। জেল, জুলুম, নির্যাতন সহ্য করেও জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গণমানুষের মুক্তিসংগ্রাম অব্যাহত রেখেছেন।
জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত নিজেকে রাজনীতি এবং রাজনীতি চর্চায় নিবেদিত রেখেছিলেন। তিনি সিরাজুল আলম খানের রাজনৈতিক দর্শন তথা অংশীদারিত্বের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে একনিষ্ঠ ও অগ্রগামী সৈনিক ছিলেন। বিবৃতিতে নেতারা মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন ও শোকসন্তপ্ত পরিবার পরিজনের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
এ ছাড়া শোক জানিয়েছেন জাতীয় পার্টি-জেপি'র যুগ্ম মহাসচিব ও জাতীয় যুব সংহতির কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট এনামুল ইসলাম রুবেল। এক শোক বার্তায় তিনি বলেন, হুমায়ুন কবীর হিরুর মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান, নিবেদিত প্রাণ রাজনীতিবিদ ও অকৃত্রিম বন্ধুকে হারালো, যে ক্ষতি দ্রুত পূরণ হবার নয়। তিনি শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
এদিকে হুমায়ুন কবির হিরুর নামাজে জানাজায় বরগুনা-১ আসনের এমপি গোলাম সরোয়ার টুকু, পৌর মেয়র গোলাম কবির, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাকসুদুর রহমান ফোরকান, বেতাগীর ইউএনও ফারুক আহমেদ, ওসি মাহবুবুর রহমান এবং মরহুমে ছোট ভাই ও বরিশাল বিভাগ সমিতির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিয়াউল কবির দুলুসহ হাজার হাজার শোকার্ত মানুষ অংশ নেন।
এ ছাড়াও বরগুনা-২ আসনের এমপি বেগম সুলতানা নাদিরাসহ বরগুনা জেলার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ মরহুমের সিকদার বাড়িতে উপস্থিত হয়ে শোকার্ত পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান।