ভারতে লোকসভার ষষ্ঠ দফার ভোটগ্রহণ আজ

ভারতের লোকসভা নির্বাচনে আজ শনিবার ষষ্ঠ দফার ভোটগ্রহণ হবে। এই পর্বে ভোট হবে ছয় রাজ্য ও দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ৫৮ আসনে। কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন বিজেপি জোট ২০১৯ সালে এই ৫৮ আসনের মধ্যে তারা জিতেছিল ৪৫টিতে। তবে এবার বেশির ভাগ আসনেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত বার এই ৫৮ আসনের মধ্যে হরিয়ানার ১০ ও দিল্লির সাত আসনের সবগুলোতে জিতেছিল বিজেপি। অথচ এই ১৭ আসনেই এবার কঠিন লড়াইয়ের মুখে বিজেপি। দিল্লিতে আম আদমি পার্টির (আপ) সঙ্গে জোট করেছে কংগ্রেস। আপ লড়ছে চারটি ও কংগ্রেস তিনটি আসনে। জামিনে মুক্তি পেয়েই ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছেন আপ নেতা ও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। অন্যদিকে হরিয়ানার অধিকাংশ আসনে বিজেপির প্রার্থীরা প্রচারণা চালাতে পারেননি। ঐ রাজ্যের কৃষকসমাজ ও জাট সম্প্রদায় একজোট হয়ে বিজেপি বিরোধিতায় নেমেছে। এই রাজ্যেও কংগ্রেস-আপ জোট হয়েছে। কংগ্রেস লড়ছে ৯টি ও আপ একটি আসনে।

একই অবস্থা ঝাড়খন্ডের চার আসনেও। গত বার সেখানে বিজেপি জিতেছিল তিনটি আর একটি তাদের শরিক দল অল ঝাড়খন্ড স্টুডেন্টস ইউনিয়ন। সম্প্রতি রাজ্যের আদিবাসী মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হয়েছে। এজন্য রাজ্যবাসী বিজেপির বিপক্ষে যেতে পারে সে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উত্তর প্রদেশে এই দফায় ভোট হবে ১৪ আসনে। এর মধ্যে গত বার বিজেপি জিতেছিল ৯টিতে। বাকি পাঁচটির মধ্যে চারটিতে বিএসপি, একটিতে এসপি জয় পেয়েছিল। এবার কংগ্রেস এবং এসপি ইন্ডিয়া জোটের অধীনে এক হয়ে লড়ছে বিজেপির বিরুদ্ধে।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি-তৃণমূলের সহিংসতার আশঙ্কা

এই পর্বের নির্বাচনে বিশেষভাবে নজর থাকবে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে। কারণ প্রায় প্রতিটি ধাপের নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এই দফায় যে আট আসনে নির্বাচনে হবে তার মধ্যে পাঁচটিতে গত বার জিতেছিল বিজেপি। বাকি তিনটি জিতেছিল রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস। পশ্চিমবঙ্গে এই ধাপে যাদের ভাগ্য নির্ধারণে তাদের মধ্যে রয়েছেন— অভিনেতা দীপক অধিকারী দেব ও হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায় হিরণ, অভিনেত্রী জুন মালিয়া। দেব ও জুন মালিয়া দুই জনই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী। আর হিরণ বিজেপির প্রার্থী। তৃণমূলের দুই জনই এবার বেশ শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী এবারের ভোটগ্রহণ পর্বেও সহিংসতা হতে পারে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক আসন। এই আসনের নন্দীগ্রাম এলাকায় পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ। সেখানে দুই দিন আগে বিজেপির এক কর্মী খুন হয়েছেন। এর জেরে বাজারে দোকানপাট, বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তমলুক আসনে বিজেপির প্রার্থী কলকাতা হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি অভিজিত্ গাঙ্গুলী এবং তৃণমূল কংগ্রেসের যুবনেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য। এই আসন এবারের নির্বাচনে বিজেপি এবং তৃণমূলের জন্য ‘সম্মান’ রক্ষার লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইসিকে স্বস্তি দিল সুপ্রিম কোর্ট

ভোটের হার নিয়ে নানা সন্দেহ ও প্রশ্নের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) বড় স্বস্তি দিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বুথভিত্তিক ভোটের যাবতীয় পরিসংখ্যান প্রকাশ করার আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়েছিল। দুই পক্ষের শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্ট গতকাল শুক্রবার এই বিষয়ে কোনো আদেশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত  নিয়েছে। বিচারপতি দীপংকর দত্ত ও বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার ডিভিশন বেঞ্চ জানান, পাঁচ দফার ভোট গ্রহণ হয়ে গেছে। বাকি মাত্র দুই দফা। এই সময় এমন কোনো নির্দেশ মানা কমিশনের পক্ষে চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়াবে।