জাদুকাটা নদী মুগ্ধতা ছড়ায়

মিনার আল হাসান

 

ভারতের মেঘালয় পাহাড় থেকে উত্পত্তি হওয়া জাদুকাটা নদীটি সুনামগঞ্জের একটি অপরূপ নদী। বর্ষাকালে এই নদীটি অনেক প্রশস্ত হয়ে যায়। জাদুকাটা নদীর স্বচ্ছ নীল জল এতটাই স্বচ্ছ যে, নদীর তীর থেকেই আপনি নদীর তলদেশ দেখতে পাবেন। নদীর তীরে সবখানেই বড় পাথর খণ্ডের সাথে দেখা মিলবে আপনার। নদীটির পাশেই প্রায় ১৫০ ফুট উচ্চতার একটি টিলা রয়েছে। স্থানীয়রা এই টিলাটিকে বারেক টিলা বলে থাকে। এই টিলায় অবস্থিত পিলারের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এই টিলার ওপর থেকে সবকিছুই দেখতে বেশ ক্ষুদ্র লাগে। জেলা শহর সুনামগঞ্জ থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নান্দনিক সৌন্দর্যে ঘেরা জাদুকাটা নদী ও বারেক টিলায় ভ্রমণে আসেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। সারাদিন নাচ-গান, হৈ-হুল্লোড়, ছবি তোলা, রাতে নিজেদের রান্না করা খাবার—আনন্দের যেন অন্ত নেই। প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে ভ্রমণপিপাসুদের নৌ-বিহারে প্রাণোচ্ছ্বল হয়ে ওঠে জাদুকাটার বুক। দর্শনার্থীদের কেউ মায়ার নদী কেউ বা রূপের নদী বলে অভিহিত করেন এই নদীকে। বর্ষায় পাহাড়ি নদী জাদুকাটার বহমান স্রোতধারায় নিজেকে ভাসিয়ে দিতে ভিড় জমায় প্রকৃতিপ্রেমীরা। আর হেমন্তে শুকিয়ে যাওয়া জাদুকাটার বুকজুড়ে ধূ ধূ বালুচরে প্রিয়জন নিয়ে হেঁটে চলা ও জাদুকাটার স্বচ্ছ পানিতে গা ভাসিয়ে দিয়ে পরমতৃপ্তি বোধ করেন পর্যটকরা। জাদুকাটা নদী থেকে হাত রাখলেই ছোঁয়া যায় শ্বাশত সবুজঘেরা বারেক টিলা। বারেক টিলায় ঘুরে ঘুরে জাদুকাটা নদীর প্রকৃত রূপ উপভোগ করা সম্ভব। জাদুকাটা ও বারেক টিলার নান্দনিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি তাহিরপুরের আরো দর্শনীয় স্থান হলো টাঙ্গুয়া হাওর, হযরত শাহজালালের (রহ.) সফরসঙ্গী হযরত শাহ আরেফিনের আস্তানা, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান পণতীর্থ, অদ্বৈত প্রভুর মন্দির, পশ্চিম তীরে ইস্কন মন্দির ও গরমপীরের মাজার। এছাড়া রয়েছে ব্রাহ্মণগাঁওয়ে হাবেলী দুর্গ, বড়ছড়া শুল্ক স্টেশন ও টেকের ঘাট চুনাপাথর খনিজ প্রকল্প। তবে অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে তাহিরপুরের সম্ভাবনাময় পর্যটন স্পট জাদুকাটা, বারেক টিলা ও টাঙ্গুয়া হাওরের অপরূপ নৈসর্গিক দৃশ্য দেখা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ভ্রমণপিপাসু মানুষ।