কুড়ি বছরের যুবক তিনি। ১৯৬০ সালের দিকে দেশের প্রান্তের এক মফস্বল জনপদ থেকে ঢাকায় এলেন, উদ্দেশ্য কবি হবেন, লেখক হবেন। সকলের ধারণা লেখালেখিতে দাঁড়াতে হলে, টিকতে হলে ঢাকায় যেতে হবে, রাজধানীতে থাকতে হবে। তারুণ্যে তাঁর ধারণাও তাই ছিল।
কাগজে বিজ্ঞপ্তি দেখলেন দৈনিক সংবাদে সহকারী সম্পাদক নিবে তিনজন। তিনি দরখাস্ত করলেন, সাক্ষাৎকারের মুখোমুখী হলেন, চাকরিও পেয়ে গেলেন। বেতন মাসিক ৪২ টাকা। খেয়ে পরে ভালোই চলে যাচ্ছিল। তাঁর খেয়াল চাপল, এইভাবে চলতে থাকলে তিনি একসময় ভালো সংবাদ লেখক হলেও হতে পারেন, কিন্তু ভালো কবি বা লেখক তিনি হতে পারবেন না।
যেই ভাবনা সেই কাজ। চাকরি ছেড়ে দিলেন, সোজা চলে গেলেন গ্রামে। মগ্ন হলেন বাবার আদি পেশা চাষবাসে। এর কিছুদিন দিন পর জানতে পারলেন তাদের জেলাশহরে সেনাবাহিনীতে নিয়োগের জন্যে বাছাই চলছে। হুজুগের বশে তিনিও লাইনে গিয়ে দাঁড়ালেন। বাছাইয়ে টিকে গেলেন। ঢুকে গেলেন সেনাবাহিনীর চাকরিতে।
যার কথা বলছি তিনি আর কেউ নন রবীন্দ্র উত্তর প্রজন্মের হাতেগোনা যে গুটিকয়েক সাহিত্যপ্রতিভা স্বদেশের মাটিতে পা রেখে জগৎকে নিজের ঠিকানা জানান দিয়েছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম তিনি। তিনি হচ্ছেন কবি, কথাশিল্পী, প্রবন্ধকার এবং গবেষক হোসেনউদ্দীন হোসেন। তিনি ২০শে মে ২০২৪ তারিখে ৮৩ বছর বয়সে পরলোকগত হন।
প্রতিভাবান এই মানুষটি কেবল একজন লেখকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন জাতকৃষক এবং ঈর্ষণীয় জীবনদর্শনের অধিকারী একজন লেখক। বাংলার যে জনাকয়েক প্রতিভার কথা আমরা উল্লেখ করতে পারি, যারা গ্রাম ও কৃষিঘেঁষা জীবনবাস্তবতার অধিকারী ছিলেন, এদের মধ্যে লালন ফকির, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, আরজ আলী মাতুব্বর অন্যতম। এই ধারাবাহিকতায় হোসেনউদ্দীন হোসেনের নামটিও ঊজ্জ্বল অবস্থান অধিকার করবে।
আজন্ম স্রোতের বিপরীতে চলা বিরল এই মানুষটি জন্মেছিলেন কৃষক পরিবারে, যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার কৃষ্ণনগর গ্রামে ১৯৪১ ইঙ্গাব্দে। পড়াশোনা করতেন জায়গীর থেকে। একবার তাঁর জায়গীরদার খেয়াল করলেন এই ছেলে নির্ধারিত পড়াশোনার বাইরে অন্যবিধ বইপুস্তক এবং হাতেলেখা পত্রিকা নিয়ে ঘটাঘাটি করে দিন পার করে। তিনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরাবর বিষয়টি জানালেন।
প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের গণিত শিক্ষক দায়িত্ব দিলেন এই ছেলের পড়াশোনার খোঁজখবর নিতে। দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক বুঝতে পারলেন ছেলেটির ভেতরে রয়েছে অন্য এক আগুন, অন্য এক সম্ভাবনা। তিনি ছেলেটিকে দিকনির্দেশিনা দিতে থাকলেন। শিক্ষকের উৎসাহ আর সহযোগিতা পেয়ে এই প্রতিভাবান ছেলে লেখালেখিতে তাঁর ভিত্তি মজবুত করার একটি মোক্ষম সুযোগ পেয়ে গেলেন। প্রয়োজনীয় অনেক বইপুস্তকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়ে গেলো। তিনি কলকাতার কাগজেও কবিতা পাঠাতে শুরু করলেন। সপ্তম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় কলকাতার দৈনিক লোকপত্রিকায় তাঁর প্রথম লেখা ছাপা হয়। এরপর আর তাঁর মনোবল দমানোর কোনো শক্তি তাঁর সামনে ভিড়তে পারে নি।
ভেতরে দ্রোহের আগুন চলা কৃষকসন্তান তিনি, মনে তাঁর কবি হবার খেয়াল লালন করেন রাতদিন। নির্ধারিত পড়াশোনাকে খুব একটা আমলে নেন নি। শেষতক বেসরকারিভাবে পরীক্ষা দিয়ে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন। এরপরে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনাকে 'ওয়ালাইকুম আসসালাম' জানালেও দেশে বিদেশের নানা বইপুস্তক পড়ে দর্শন সাহিত্য ইতিহাস সম্পর্কে প্রচ্ছন্ন ধারণা লাভ করেন। পাণ্ডিত্যের বিচারে তাঁর ধারে কাছে ভেড়ার মত প্রাতিষ্ঠানিক তকমাধারিদের কমজনকেই পাওয়া যাবে। এরকমটা টের পাওয়া যায় তাঁর রচনাসম্ভারের সংস্পর্শে এলে।
এরকম প্রজ্ঞাবান লেখক হোসেনউদ্দিন হোসেন সেনাবাহিনীর চাকরিতেও স্থিত হন নি। তিনি বছর কেকের মধ্যেই ১৯৬৭ সালে এই চাকরি ছেড়ে আবার আদি পেশায় ফিরলেন, যোগাযোগ স্থাপন করলেন যশোরের স্থানীয় পত্রপত্রিকাসহ ঢাকা কলকাতাকে কাগজগুলোতে নিয়মিত লেখালেখি চালিয়ে গেলেন। দিনে জমি চাষ করেন, রাতের বেলায় কাগজ কলম নিয়ে বসেন লেখার টেবিলে। নিজের বাড়িকে গড়ে তুললেন ব্যক্তিগত গ্রন্থাগার হিসেবে। নিজের মফস্বল শহরের রোববারের সাহিত্য আড্ডার সঙ্গে নিয়মিত সংযোগ রেখে লেখালেখির ঘুড়ির নাটাই ধরে রইলেন কৃষ্ণগর গ্রামের জমিনে পা রেখে। আর তাঁর ঘুড়ি উড়ে গেলো দূর আঁকাশে বাংলার সীমানা ছেড়ে, দেশ মহাদেশ পেরিয়ে।
তিনি ২০০৫ সালে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত বিশ্বসেরা লেখকের তালিকায় জায়গা করে নিলেন। এই সম্মান গ্রহণের জন্যে ডাক পেলেন ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে। এর মধ্যে তাঁর লেখা উপন্যাস “প্লাবন এবং একজন নুহ” ইংরেজিতে "Flood And A Nooh" নামে অনুদিত হয়ে ইংলন্ডের মিনার্ভা প্রকাশনা থেকে প্রবেরিয়ে গেছে। অন্য উপন্যাস “ইঁদুর এবং মানুষেরা” ইংরেজিতে "Mice And Men" নামে অনুদিত হয়েছে। গ্রন্থটি পশ্চিম বাংলার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে পাঠ্য হয়েছে ২০১০ সালে।
এরকম বিরল প্রতিভাধর একজন লেখককে চিনতে বাংলা একাডেমির ঘুম ভাঙতে ভাঙতে অনেক দেরী হয়ে যায়। ২০২১ সালে এই লেখক বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার গ্রহণ করেন। ততদিনে তিনি আশি বছরে পৌঁছে গেছেন। পুরস্কার নিয়ে তার খেদ এবং ক্ষোভ কোনোটাই ছিল না। তিনি পুরস্কারের কথা মাথায় রেখে লেখেন নি। তিনি বরং হেঁটেছেন এর উল্টো স্রোতে। তাই পুরস্কার পাবার জন্যে তাঁর মধ্যে কোনো আহলাদও কাজ করে নি। অথচ একই সময়ে আমাদের খ্যাতির কাঙাল প্রতিষ্ঠিত অনেককে কবি লেখকে পুরস্কারের ছক নিজে পূরণ করে ধারে পৌছাঁতে দেখা যায়। আবার কেউ কেউ তো ফেইসবুকে পুরস্কার চেয়ে বসেন আমাদের নগরকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠিত কেউ কেউ। এমনকি রাজনৈতিক দলের কাছেও পুরস্কার না পাবার খেদ ঝাড়তে দেখা যায়। অন্যদিকে পুরাই এর বিপরীত স্রোতের আত্মসাধনায় নিমগ্ন জাত এক লেখক আত্মমর্যাদাসম্পন্ন বুদ্ধিদীপ্ত জীবনবোধ আর শাণিত জীবনদর্শনের দৃষ্টান্ত হোসেনউদ্দীন হোসেন যশেরের প্রান্তিক জনপদে খ্যাতির মোহকে উপেক্ষা করে।
তিনি লেখালেখিকে বেছে নিয়েছিলেন সাধনা হিসেবে। এই সাধনায় তিনি কোনো ফারাক রাখেন নি। নিজের কাছে সৎ থেকেছেন। জীবনের সত্য আবিষ্কার করেছেন জীবনেই। জীবনের চেয়ে বড় কোনো সত্য নাই। এই দর্শনের আলোকে অন্তর্দর্শন লাভ করেছেন, যার প্রতিসরণ দেখা যায় তাঁর লেখার মাঝে, তাঁর ইতিহাসচর্চার মধ্যে। এই প্রসঙ্গে একজায়গায় তিনি বলেছেন, এখনো পর্যন্ত অতীতের অনেক বিষয় আমাদের কাছে অজানা রয়েছে। সেই অজানাকে জানার জন্যে সমষ্টির প্রচেষ্টার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। তবে তাগিদ দিয়েই বসে থাকেন নি। তিনি তাঁর নিজ জেলা যশোর নিয়ে বিরল দুটি গ্রন্থ লিখেছেন। অনাগত কালের হাজার বছরের ইতিহাসচর্চায় যশোরের তত্ত্বতালাশ করতে গেলে হোসেনউদ্দীন হোসেন রচিত দুটি গ্রন্থকে অগ্রগণ্য হিসেবে নিতে হবে। বইগুলো হচ্ছে 'যশোরাদ্য দেশ' যা ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত হয়। অন্যটি হচ্ছে যশোর জেলার কিংবদন্তী। এই বইটি দুই খণ্ডে ১৯৭০ এর দশকে প্রথম প্রকাশিত হয়।
তিনি ধ্যানমগ্ন সাধনায় লেখালেখিতে মত্ত ছিলেন গোটা জীবনটাই। বিরামহীন পড়েছেন, বিরামহীন লিখেছেন আর জীবিকার তাগিদে জমিনে ফসল ফলিয়েছেন। কিন্তু গ্রন্থ খুব বেশি প্রকাশ করেন নি সচেতনভাবেই। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ তিরিশের বেশি হবে না। লেখালেখিকে তিনি টাকা বানাবার হাতিয়ার হিসেবে নেন নি। পুরস্কার স্বীকৃতির বিষয়গুলো বেমালুম উপেক্ষা করে গেছেন মনে মনে। তারপরও জগৎ চিনেছে তাঁরে। কোথায় আছে গেঁয়োযোগী ভাত পায় না। আমরা তাঁকে চিনেও চিনি নি, জেনেও জনি নি। তবে তিনি দেশ মহাদেশ ছাড়িয়ে প্রতিভার নিশানা উড়িয়েছেন । ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে খুঁজে পেলো ঠিকই। এর বিপরীতে আমাদের বিশ্ববিদ্যালগুলো করলটা কী?
যেখানে তিনি হাত দিয়েছেন কোনো খাদ রাখেন নি। নিখাদ ইতিহাসের বই হলেও তাঁর হাতের ছোঁয়ায় ইতিহাস হয়ে উঠেছে এক একটা রোমাঞ্চকর গল্প ও কবিতার মেজাজে রচিত প্রাণবন্ত এক একটি লেখা। এই সত্য যেমন তার যশোর বিষয়ক লেখার বেলায় খাটে, তেমনি বলা যায় তাঁর 'বাংলার সংস্কৃতি ও লোকজীবন', 'বাংলার বিদ্রোহ ৬০০-১৯৪৭' এবং 'রণক্ষেত্রে সারাবেলা' বইগুলো সম্পর্কে।
তাঁর লেখালেখির কেন্দ্রে বিবেচ্য সত্য ছিল মানুষ, মানুষের জীবন, রাজনীতি। তাঁর এই সত্যের সন্ধান কোনো দলীয় বা তত্ত্বের মোড়কে আবদ্ধ ছিল না। জীবনবাস্তবতাকে ধ্যানে রেখে তিনি তাঁর লেখালেখির পথে বিচরণ করেছেন, মগ্ন থেকেছেন, কলম ধরেছেন। এই সত্যের আঁচ আমরা পাই তাঁর কবিতায় গদ্যে লোকসাহিত্য আর ইতিহাসচর্চায়। তিনি ভেতরের দ্রোহ আর শোষণের বিরুদ্ধে তাঁর সত্য তালাশের রাজনীতির প্রত্যয় প্রকাশ করেছেন এভাবে: এই যে যন্ত্র ওই প্রকাশ বল প্রয়োগে শোষণ করা, দাবিয়ে রাখা এবং শাসন করা। অর্থাৎ রাষ্ট্র হলো একটি শ্রেণীর উপর অন্য একটি শ্রেণীর আধিপত্য বজায় রাখার যন্ত্র।
আধিপত্য প্রতিষ্ঠার এই যন্ত্রের নাটবল্টু তিনি মানুষের জীবনবাস্তবতার নিরিখে উল্টেপাল্টে দেখিয়ে দিয়ে গেছেন তাঁর কথাশিল্পে। রাষ্ট্রযন্ত্র ও সমাজরাজনীতির বিরাজমান সত্য ধরতে পেরেছিলেন তিনি। সেই সঙ্গে জীবনের মানেও বুঝে গিয়েছিলেন বলেই রাজধানীকে বাই বই টাটা বলে গ্রামে স্থিত হয়েছেন।
তিনি বিশ্বাস করতেন জীবনই একমাত্র বাস্তব এবং মানুষের জীবনের দুর্বিসহ অভিজ্ঞতাই হলো ট্রাজেডি। যা তিনি নিজের পথচলায় দেখেছেন, দুটি যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। এর একটি ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধ আর অপরটি হচ্ছে ১৯৭১এ আমাদের মুক্তিযুদ্ধ। এই অভিজ্ঞতলদ্ধ লেখক তাঁর রচিত গল্প এবং উপন্যাসে মানুষের জীবনের অনুচিত্রন করেছেন। এই জীবন ছিল তাঁর দেখা বাস্তবমানুষের জীবন। সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থাও একইভাবে তাঁর কলমে চিত্রিত হয়েছে। চলমান বন্দনাগীতি আর ক্ষমতার স্তুতি ও প্রাপ্তির লোভে লোভী লেখালেখির স্রোতের বিপরীতে চলেছেন তিনি । বিপরীত স্রোতে থেকেই তিনি জগতের নজর কেড়েছেন।
বাংলাসাহিত্যের দুই আধুনিক সিপাহসালার মদুসূদন দত্ত এবং রবীন্দ্র প্রতিভা নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিশ্লেষণী লেখা লিখেছেন তিনি। একই সঙ্গে মহাদেশীয় বিশেষ করে রাশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং ভারতবর্ষের সাহিত্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ লিখেছেন। এসব প্রবন্ধ স্থান পেয়েছে তাঁর 'অমৃত বৈদেশিক' গ্রন্থে।
তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ছিল শোষিতের জীবনের গল্প ছেনে ছেঁকে তুলে ধরা এবং শোষককে চিহ্নিত করা। তিনি এইভাবে সত্যকে আবিষ্কার করেছেন জীবনের বাস্তবতায় আর আপনা থেকেই যারা কাঠগড়ায় দাঁড়াবার তারা মুখোমুখি হয়েছেন সত্যের, তা যেমন আজকের বাস্তবতায়, ঠিক তেমনি ভবিষ্যতের জন্যেও নিশানা হয়ে থাকবে।
স্রোতের বিপরীতে থেকে বিদ্রোহের আগুন জ্বালিয়ে ভবিষ্যতের জন্যে সত্যের খোঁজ দিয়ে দিয়ে গেলেন তিনি। কেবল বর্তমানের নন, অতীত খুঁড়ে বর্তমান পেরিয়ে সত্য বয়ে চলা ভবিষ্যতের লেখক হোসেনউদ্দীন হোসেন।
তাঁর একটি কবিতা দিয়ে এই লেখার সমাপ্তি টানছি
বোকাবুড়ো পাহাড় খোঁড়ে
বোকাবুড়ো পাহাড় খোঁড়ে
আমি খুঁড়ি পাথর
হাঁটতে গিয়ে মাঠের ভেতর
তাকিয়ে দেখি সবই গাছপাথর
শাদাপাথর কালোপাথর হলদেপাথর লালছে পাথর
নানা রকম পাথর
আমার মতন ক’জন আছে খুঁজছে বুকের ভেতর
নিরেট সোনার পাথর
একএক রকম মানুষ আছে স্বভাব নানা রকম
কেউ খুঁড়ছে কালো পাথর
কেউ খুঁড়ছে হলদে পাথর
কেউ খুঁড়ছে নীলা
খুঁড়তে খুঁড়তে মানুষগুলো হয়ে যাচ্ছে ধুলো
আমি দেখি আমার মতন
গাছের মতন
দাঁড়িয়ে আছে একএক মানুষ
মাঠের ভেতর
নিরেট একটা গাছপাথর
দাঁড়িয়ে আছে মাঠের ভেতর
লেখক: বাঙালি-সুইডিশ কবি ও নাট্যকার; সুইডিশ রাইটার্স ইউনিয়নের পরিচালনা বোর্ডের সদস্য