চাঁদপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, পুলিশ সদস্যসহ আহত ২০

চাঁদপুর শহরের পুরানবাজারে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষে আল আমিন খান (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্যসহ আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। 

মঙ্গলবার (১১ জুন) রাত ৮টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পুরানবাজার মেরকাটিস রোড ও নিতাইগঞ্জ রোডে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত আল আমিন পুরানবাজারের স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মজিদ খান ডেঙ্গুর ছেলে।

আহতরা হলেন- পুলিশের এএসআই মনিরুল, কন্সটেবল আল-আমিন ও স্বপন। এছাড়া স্থানীয় রাশেদ, কামাল, শাকিল, রহমান, জসিম, আল-আমিনসহ প্রায় ২০ জন আহত হন। আহতদের অনেকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

Chandpur Murder Pic 12-06-2024 (1)

এ ঘটনার পর পুরানবাজার এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্যরা সেখানে টহল দিচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানান, কিছুদিন পূর্বে পুরানবাজার মেরকাটিস রোডের রনি নামে এক কিশোরের সঙ্গে নিতাইগঞ্জ রোডের জুয়েল নামের অপর কিশোরের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। মূলত ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যায় নিতাইগঞ্জ রোডে যুবকদের সঙ্গে মেরকাটিস রোড এলাকার যুবকদের সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়। এতে দুপক্ষ একে অপরকে ইট পাটকেল নিক্ষেপ এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।
 
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড গুলি ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে।

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ওমর ফারুক জানান, আল আমিন নামে ব্যাক্তিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার মাথার ডানপাশে গুলির আঘাত রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে তিনি গুলির আঘাতে মৃত্যুবরণ করেছেন।

চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) সুদীপ্ত রায় ঘটনার বিষয়ে বলেন, ‘পূর্ব থেকে দুপক্ষের মধ্যে বিরোধ ছিল। তা থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। কারা ঘটনাটি ঘটিয়েছে, তা তদন্ত করে আইনের আওতায় নিয়া আসা হবে। এই সংঘর্ষে আমাদের কিছু পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন। রাবার বুলেট ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। আমারা অভিযানে আছি। শিগগিরই ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।’