কোরবানির ঈদের আগ মুহূর্তে বিভিন্ন খামার থেকে গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত ৬ জুন রাতে গাজীপুর সদরের জামতলা এলাকায় গরু চোরের একটি দল প্রবেশ করে। এর আগের দিনই জামতলার পার্শ্ববর্তী গ্রাম থেকে চুরি হয়েছে ১২টি গরু। জামতলা এলাকার খামারটিতে যখন চোরের দল প্রবেশ করে তখন এলাকা পাহারাতে ছিল ‘বুলেট’ নামে এক প্রহরী কুকুর।
বুলেটকে পালেন মো. সাজ্জাদ নামে একজন মুদি দোকানি। তার পাশের বাড়ির খামারে আছে ২০টি গরু। বুলেটকে তিনিও খাবার দেন মাঝেমধ্যে। গরু চোরেরা ঐ গোয়ালে ঢুকলে টের পেয়ে যায় বুলেট। তৎক্ষণাৎ ও আক্রমণ করে চেঁচামেচি শুরু করে। বুলেটের চেঁচামেচি ও আক্রমণাত্মক আচরণের কারণে চোরের দল পালিয়ে যায়। সব চোর পালালেও রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকে বুলেট। গরু নিতে না পেরে চোরের দল এলোপাতাড়ি কুপিয়েছে বুলেটকে। বুলেটের পুরো শরীরে জখম হয়েছে মারাত্মকভাবে। দুই ভাগ হয়ে যায় ওর নাক।
এ অবস্থায় রোববার (৯ জুন) দুপুরে বুলেটের মালিক ওকে নিয়ে যায় গাজীপুর সদরের পেট এনিমেল ক্লিনিক ‘পেট পয়েন্ট গাজীপুর’ এ। প্রায় ৩ ঘণ্টা ডাক্তারদের অক্লান্ত চেষ্টায় বুলেটের শরীরের ৭টি স্থানে মোট ৩৭টা সেলাই লাগে ও জোড়া লাগানো হয় দুই ভাগ হয়ে যাওয়া নাক। সার্জারী শেষে চিকিৎসা দিয়ে বুলেটকে বাড়ি ফেরানো হয়। পরদিন পেট পয়েন্ট গাজীপুরের ডা. মোহাইমিনুল হক পদ্ম ও ডা. তাছমীর রাইয়ান লাবিব তাদের টিমের সদস্য রাকিবুল রায়হান, আসাদুজ্জামান সজল, ইমন রহমান ও তানভীর মাহতাব তারিফসহ যান বুলেটের অবস্থা পর্যবেক্ষণে।
তারা জানিয়েছেন, বুলেট এখন কিছুটা দুর্বল হলেও অনেকটা সুস্থ। বিপদ কেটে গেলেও সম্পূর্ণ সুস্থ হতে আরও বেশখানেক সময় লাগবে। বুলেটের এই সাহসিকতার দরুণ ওই রাতে জামতলা গ্রামের প্রায় প্রায় ৩০ লাখ টাকার সম্পদ বেঁচে গেছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। বুলেট এখন সকলের কাছে হিরো। সবাই বুলেটের শুশ্রূষা কামনা করছেন।
এ ঘটনায় পেট পয়েন্ট গাজীপুরের সিনিয়র কনসালটেন্ট ও সার্জন ডা. মোহাইমিনুল হক পদ্ম বলেন, বুলেটের শরীরে টোটাল ৭টি স্পটে আমরা খুব গভীর জখম পেয়েছি। খুবই ধারালো বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। এক কোপ খেয়েই যে সে পালায়নি বুঝা যায়। বার বার প্রতিহত করেছে। মেজর সার্জারির প্রয়োজন হয়েছে। সার্জারির চব্বিশ ঘণ্টা পর অবজারভেশন বলছে বুলেট অনেকটা স্বাভাবিকভাবেই হাঁটাহাঁটি করছে। খাবারের এমাউন্ট কম হলেও মুখে যাচ্ছে। সেলাইন ইঞ্জেক্ট করার প্রয়োজন হচ্ছে না। সম্পূর্ণ বিপদমুক্ত না হলেও অবস্থা আগের চেয়ে অনেকটাই ভালো। আমরা আশা রাখি মহান আল্লাহর রহমতে বুলেট সকল ট্রমা কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে।
কনসালটেন্ট ও সার্জন ডা. তাছমীর রাইয়ান লাবিব জানান, বুলেট খুবই শক্ত মানসিকতার। প্রভুভক্তির এক চমৎকার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সে। আমরা রেগুলার চেকাপের মাধ্যমে বুলেটের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছি। এখন বুলেট আগের চেয়ে অনেকটাই ভালো। সব ঠিকঠাক থাকলে আশা করি খুব দ্রুতই বুলেট তার পূর্বাবস্থায় ফিরে যাবে ইনশাআল্লাহ।