ওয়াটার, স্যানিটেশন ও হাইজিন (ওয়াশ) খাতে যারা দেন-দরবার করতে পারছেন, তারা বেশি বরাদ্দ পাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের চেয়ে উত্তর সিটি করপোরেশন এ খাতে প্রস্তাবিত বাজেটে বেশি বরাদ্দ পেয়েছে। দেন-দরবারে ওলটপালট হচ্ছে ওয়াশের বরাদ্দ।
বৃহস্পতিবার ঢাকার ধানমন্ডিতে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারে (পিপিআরসি) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে পিপিআরসি-ওয়াটারএইড বাজেট-ট্র্যাকিং ফল প্রকাশ করা হয়।
পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ওয়াশ খাতে আগের বছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য বাজেট বরাদ্দ ২২.৫ শতাংশ কমেছে। জলবায়ু এবং নগরায়ণের কারণে পানি, স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যবিধি ঝুঁকির প্রবণতা, গ্রামীণ এবং শহরাঞ্চলে ওয়াশ ঝুঁকির হটস্পটগুলো বিস্তারের এ সময়ে বরাদ্দ হ্রাস গুরুতর উদ্বেগের কারণ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য ওয়াশ বরাদ্দ কমপক্ষে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের স্তরে পুনরুদ্ধার করা উচিত।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এ উপদেষ্টার দাবি, ওয়াশের এইচ এরপর ফুল স্টপ বসে গেছে। হাইজিন এজেন্ডাকে শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। আগের অর্থবছরের চেয়ে হাইজিনে ৭২ দশমিক ৮ শতাংশ বরাদ্দ কমেছে।
মূল প্রবন্ধে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান জানান, প্রস্তাবিত বাজেটে এডিপি বরাদ্দ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দেশের ১২টির মধ্যে আটটি সিটি করপোরেশন এ বরাদ্দ পেয়েছে। উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী ও রংপুর; উপকূলীয় অঞ্চলের বরিশাল, কুমিল্লা এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এডিপি বাজেটে বরাদ্দ পায়নি। এ খাতে গত বছরের চেয়ে এবার গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বরাদ্দ কমেছে। সবার চেয়ে বেশি বরাদ্দ পেয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।
তিনি বলেন, ‘বাজেট-ট্র্যাকিং অনুশীলনটি গ্রামীণ এবং শহরের পাশাপাশি ওয়াসা এবং সিটি করপোরেশনগুলোর মধ্যে ক্রমাগত বরাদ্দের বৈষম্যও দেখায়। তবে বিভিন্ন ধরনের প্রান্তিক এলাকার মধ্যে পূর্ববর্তী বৈষম্যগুলো সমাধানের একটি প্রচেষ্টা করা হয়েছে। এ ক্রমাগত বৈষম্য মোকাবিলার জন্য প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দের পর্যালোচনার সুপারিশ করা হয়। মহিলা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা অপর্যাপ্ত পানি এবং স্যানিটেশন পরিষেবাগুলোর দ্বারা অসমভাবে প্রভাবিত হয়, এ সুবিধাবঞ্চিত গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্যযুক্ত পরিষেবা দেয়ার জন্য একটি বৈচিত্র্যকেন্দ্রিক পদ্ধতির প্রয়োজন দূষণ প্রতিরোধ এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে নগরায়ণে জন্য নিরাপদে পরিচালিত অন-সাইট স্যানিটেশন পরিষেবাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।
প্রাপ্ত বরাদ্দ অব্যয়িত থাকার কারণ জানতে চাইলে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা গবেষণা করিনি। তবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, বরাদ্দ ব্যবহারে অনাগ্রহী এবং ব্যয়ের সক্ষমতার অভাব এর কারণ বলে আমি মনে করি। জলবায়ু খাতের মোট বরাদ্দ থেকে ১৫ দশমিক ২৮ শতাংশ ওয়াশে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা ইতিবাচক দিক।’
বরাদ্দ বৈষম্যের কারিগরি কোনো ব্যাখ্যা নেই দাবি করে তিনি বলেন, ‘চরাঞ্চলকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ওয়াশ খাতে এসডিজির দিকে ফোকাস নেই। নারীদের কথা ভাবা হয়নি।’
বাজেটের আগে পিপিআরসি ওয়াশ খাতের জন্য কোনো প্রস্তাবনা তুলে ধরেছিল কি না এবং প্রস্তাবিত বাজেটে তার প্রতিফলন পেয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা মে মাসের শেষ দিকে একটা আলোচনা অনুষ্ঠান করেছি। আগামীতে প্রাক-বাজেট সময়ে প্রস্তাবনা তুলে ধরার চেষ্টা করব।’
তিনি বলেন, ‘ইতিবাচক দিক হলো, ওয়াশের উদ্বেগ মোকাবিলায় জলবায়ু অর্থায়নের একটি নতুন সুযোগ স্থাপন করা হয়েছে। ওয়াশ-সংশ্লিষ্ট ২৫টির মধ্যে ১৩টি মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে নির্দিষ্ট ওয়াশ সমস্যা সমাধানের জন্য প্রকল্প প্রণয়নে সক্রিয় হয়েছে। বাকি মন্ত্রণালয়গুলোকেও দ্রুত গতিতে নামতে হবে।’
ওয়াটারএইড বাংলাদেশের ডিরেক্টর (প্রোগ্রামস অ্যান্ড পলিসি অ্যাডভোকেসি) পার্থ হেফাজ শেখ সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন। সঞ্চালনা করেন ওয়াটারএইড বাংলাদেশের পলিসি অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি লিড ফাইয়াজউদ্দিন আহমদ। এছাড়া পিপিআরসির রিচার্স ফেলো ও উপদেষ্টা মোহাম্মদ আবদুল ওয়াজেদ এবং ফিল্ড রিসার্চ স্পেশালিস্ট মাসুদুল হক উপস্থিত ছিলেন।