ভৈরবী'র চতুর্থ বর্ষপূর্তি ‘ঈভাকা’

জলবায়ুর পরিবর্তন রুখতে নতুন প্রজন্মকে 'ভৈরবী'র আহ্বান

একদল সংস্কৃতিপ্রেমীদের সংগঠন ‘ভৈরবী’ পথ চলার চার বছরে পা রেখেছে। তাদের এই অনন্য যাত্রার গল্প শোনাতে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা হলে মঙ্গলবার (১১ জুন) বসে এক জমকালো আসর।   

প্রতিবছর বাংলা স্বরবর্ণের একেকটি অক্ষর দিয়ে বর্ষপূর্তি আয়োজনের নামকরণ করে ভৈরবী। অভ্র, আরণ্যক ও ইরশাদের পর ভৈরবীর চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর নাম দেওয়া হয়েছে ‘ঈভাকা’। ঈভাকা শব্দের অর্থ ধরিত্রী রক্ষাকারী। লোকসংস্কৃতি ও মাটির টানে নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বানে আয়োজিত হয়েছে এই অনুষ্ঠান। তাদের এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিলো ‘জলবায়ুর পরিবর্তন রুখতে তারুণ্যের ভূমিকা ও সংস্কৃতির প্রভাব’। 

11

‘ঈভাকা’ আয়োজনে গীতরঙ্গ পরিবেশনায় অংশ নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ড্রামা ট্রুপস ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ প্রফেশনালস কালচারাল ফোরাম। সঙ্গীত পরিবেশনা করেছে লোকসংগীত শিল্পী এনামুল হক। ভৈরবীর প্রতিষ্ঠাতা ও কার্যনির্বাহী প্রধান ইলিয়াস নবী ফয়সালের নির্দেশনায় ভৈরবী গীতরঙ্গ দল পরিবেশনা করে ‘মৃত্তিকা’। এছাড়াও অনুষ্ঠানের মাইজভান্ডারি গান ও ভাওয়াইয়া নৃত্যের ছন্দ মুগ্ধ করেছে উপস্থিত দর্শকদের। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশের স্বনামধন্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বগণ।  

9

ভৈরবীর প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়াস নবী ফয়সাল বলেন, ‘ভৈরবী প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পেছনে প্রধান লক্ষ্য ছিলো দেশীয় সংস্কৃতির প্রচার ও প্রসার ঘটানো। আমরা সেই উদ্দেশ্যে কাজ করে যাচ্ছি অবিরাম। পরিবেশের প্রতি আমাদের প্রত্যেকের আলাদা করে দায়িত্ব আছে, সেই দায়িত্ববোধ আমরা কেউ এড়িয়ে যেতে পারিনা। বিশেষ করে তরুণরা। এজন্য আমাদের এবারের প্রতিপাদ্য বিষয়ে জলবায়ু ও তরুণদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে’। তিনি আরো বলেন, ‘ ভৈরবী বিশ্বাস করে, আমরা সবাই মিলে একযোগে কাজ করলে একটি সবুজ ও সমৃদ্ধময় পৃথিবী গড়ে তুলতে পারবো, যেখানে প্রজন্মের পর প্রজন্ম বেঁচে থাকবে স্বপ্নের মুক্ত আকাশে।’  

IMG_8641

পথচলার শুরু থেকে ভৈরবী দেশীয় সংস্কৃতি নিয়ে গবেষণাধর্মী কাজ করে আসছে। এছাড়াও দেশীয় সংস্কৃতি প্রচার ও প্রসারের মাধ্যমে সামাজিক অবক্ষয় রোধে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সংগঠনটি।  

আগামী ২০ জুলাই ব্র‍্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হবে ভৈরবীর চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ‘ইভিকা’ আয়োজনের সমাপনী অনুষ্ঠান।