কৃষি জমিতে সেচ ও জলাবদ্ধতার সমস্যা নিরসনে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে কয়েকটি খাল খনন করা হয়েছে। ফলে শুকনো মৌসুমেও চাষাবাদে বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা।
জানা গেছে, শিবচরের ভান্ডারীকান্দি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় কয়েকটি খাল ও জলাশয় ভরাট হয়ে যাওয়ায় প্রতিবছর কৃষি জমিতে সেচ প্রদান ও বর্ষার মৌসুমে জলাবদ্ধতার ভোগান্তিতে পড়তে হয় কৃষকদের। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জাইকার অর্থায়নে স্থানীয় বাহাদুর খাল, টেংরামারি খাল ও ক্রোকচরসহ ৬টি খাল খননের প্রকল্প হাতে নেয় ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প। দ্বিতীয় পর্যায়ের এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা। খননের ফলে খালগুলোতে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক হওয়ায় কৃষি জমিতে সেচ ও জলাবদ্ধতার সমস্যা দূর হয়েছে।
সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে কথা হয় এক কৃষকের সঙ্গে। তিনি বলেন, আগে খাল শুকনো থাকায় দূর থেকে সেচপাম্পের সাহায্যে জমিতে পানি দিতে হতো। এতে খরচ যেমন বেশি হতো, আবার সময় মতো পানিও পাওয়া যেত না। এখন এই মরা খালগুলো খননের ফলে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে।
আরেক কৃষক বলেন, এক সময় এই এলাকার পাঁচটি গ্রামের মানুষ কৃষিসহ সব ধরনের কাজেই খালের পানির ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন খনন না করায় খালগুলো ভরাট হয়ে যায়। এতে গ্রীষ্মকালে জমিতে যেমন পানির অভাব হতো, ঠিক বিপরীতে বর্ষাকালে প্লাবিত হয়ে জলবদ্ধতা সৃষ্টি হতো। এখন খাল খননের ফলে প্রাণ ফিরেছে এলেকার কৃষি খেতে।
এ ছাড়াও বীরমুক্তিযোদ্ধা এবিএম এনামুল হক, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আতিয়ার সরদার, কৃষক আব্দুল সালাম বেপারী, ভ্যান চালক মোতালেব বেপারী, গৃহিণী শাহিনা বেগম, কৃষক সোহাগ, কৃষক কামাল হাওলাদার, কৃষক রেজ্জাক হালাদার, কৃষক হারুন হাওলাদার, ইউসুফ হাওলাদার, গিয়াস হাওলাদারসহ আরও অনেকেই বলেছেন বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল কালাম চোকদার ভান্ডারীকান্দি ইউনিয়নের খাল খননের ব্যাবস্থা করে দেওয়ার কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহে জলাবদ্ধতা নিরসন ও সেচসুবিধা সহজ হয়েছে। আমরা বর্তমান চেয়ারম্যানকে ধন্যবাদ জানাই।
ভান্ডারীকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম চোকদার বলেন, খালগুলো খনন হওয়ায় স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ কমেছে। খাল খননের সময় কোনো ফসলি জমির ক্ষতি করা হয়নি।
এলজিইডির শিবচর উপজেলা প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, খাল খনন করায় জমিতে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশীয় প্রজাতির মাছের চাহিদা পূরণ হবে।
শিবচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, এসব খাল খননের ফলে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে ফসল উৎপাদনে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এতে উৎপাদন যেমন বৃদ্ধি পাবে ও দেশের খাদ্য নিরাপত্তা মজবুত হবে।