ঈশ্বরদী পৌরসভার মশুরিয়াপাড়া এলাকার অরণ্য ছাত্রাবাসের কক্ষ থেকে ট্রাংক ভর্তি এক কিশোরের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২২জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে খান মঞ্জিল সংলগ্ন এলাকার রিক্সা চালক আবুল কাশেমের ছেলে তপু হোসেনের (১৫) মরদেহ সনাক্ত করা হয়। রাজশাহী ক্রাইম সিন ডিপার্টমেন্টের (সিআইডি) একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে এসে তপুর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে।
ক্রাইম সিন ডিপার্টমেন্টের সূত্রে জানা যায়, মৃতদেহ টুকরো করা হয়নি। ভাঁজ করে ট্রাংকের মধ্যে রাখা হয়েছিল। মৃতদেহ ও আলামত উদ্ধার করে ঈশ্বরদী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে সিআইডি।
জানা গেছে, গত ১৫ জুন থেকে তপু নিখোঁজ হয়। মাদকের সাথে সম্পৃক্ততার পাশাপাশি পূর্ব শত্রুতার জের ধরেও এই নৃশংস হত্যাকান্ড সংঘঠিত হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ ও এলাকাবাসী। প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ ৩ জনকে আটক করে। তবে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে সরাসরি হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ২ জনকে আটক করা হয়েছে।
নিহত তপুর বড় ভাই অপু বলেন, গত ১৫ জুন সকালেও তপুকে এলাকায় দেখা যায়। বেলা ১১ টার পর থেকে তার ব্যবহারকৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে ঈশ্বরদী থানায় নিখোঁজের বিষয়টি জানানো হয়। সেদিন রাতে তপুর নম্বর থেকে ফোন করে বাবাকে জানানো হয় আপনার ছেলেকে অপহরণ করা হয়েছে। বিকাশে ৩০ হাজার টাকা না দিলে হত্যা করা হবে। তখন প্রথমে ৭ হাজার টাকা পাঠানো হয়। পরে আরও ৩ হাজার টাকা বিকাশে দেওয়া হয়। এরপর থেকে তপুর ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। অপু আরও বলেন, স্থানীয়দের সাথে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বন্ধুদের দিয়ে বাড়ির পাশের অরণ্য ছাত্রাবাসের তিন তলায় নিয়ে আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। এরপর মরদেহ ট্রাংকে ভরে রেখে পালিয়ে গেছে হত্যাকারীরা।
অরণ্য ছাত্রাবাসের ঐ কক্ষে থাকা কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী তানভির আহমদ বলেন, ঈদের ছুটিতে আমি গত ১১ জুন বাড়িতে যায়। শনিবার দুপুরে ছাত্রাবাসে ফিরি। দরজার কাছে আসলে ভেতর থেকে দূর্গন্ধ বের হয়। পরে দরজার নিচ দিয়ে রক্ত বের হতে দেখতে পেয়ে মেসের মালিককে জানাই।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিহত তপু একই এলাকার কয়েকজন মাদকাসক্ত উঠতি বয়সী ছেলেদের সাথে চলাফেরা করতো।
ঈশ্বরদী থানার ওসি (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম বলেন, নিহত তপুর মা বাদী হয়ে থানায় ১৬ জুন রাতে একটি জিডি করেছিলেন। হত্যাকারীরা ওই ছাত্রাবাসের মনিরের মোবাইল চুরি করে সেখানে তপুর সিম ঢুকিয়ে তপুর বাবাকে হুমকি-ধামকি দিয়ে টাকা দাবি করে। মোবাইলের আইএমই নম্বরের সূত্রে মোবাইলের মালিকসহ সন্দেহজনক ৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। তবে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যার সাথে যুক্ত ২ জনকে আটক করা হয়েছে।