ঝিনাইদহ জেলায় সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের সংকট রয়েছে। বিশেষ করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে তা প্রবল। এছাড়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট থাকায় ব্যাহত হচ্ছে সেবা। আবার চিকিৎসক থাকলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে রোগীদের।
জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, ঝিনাইদহ জেলায় সদর হাসপাতালসহ উপজেলা হাসপাতালগুলোতে মোট চিকিৎসকের পদ আছে ২৪৬টি। এর মধ্যে ১২৬ জন চিকিৎসক থাকলেও শূন্য রয়েছে ১২০ পদ।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসকের মোট পদ আছে ৬৩টি। চিকিৎসক আছেন ৪২ জন। পদ শূন্য ২১টি। সদর হাসপাতালে জুনিয়র সিনিয়র মিলিয়ে ১১ জন কনসালট্যান্ট চিকিৎসকের পদ শূন্য আছে। শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের ৩৭ পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১৭ জন। পদ শূন্য ২০টি। এ হাসপাতালে ১০ জন কনসালট্যান্ট চিকিৎসকের পদও শূন্য। আবার দু-একজন কনসালট্যান্ট নিয়োগ দিলেও তারা তদবির করে অন্যত্র চলে যান। এদিকে হাসপাতালটি ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও চিকিৎসা চলছে ৫০ শয্যার সেটআপ দিয়ে।
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের ৩৩ পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১২ জন। পদ শূন্য ২১ চিকিৎসকের। এ হাসপাতালে ৯ জন কনসালট্যান্ট চিকিৎসকের পদও শূন্য রয়েছে। হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সকের পদ আছে ৩০টি। চিকিৎসক আছেন ১৫ জন। শূন্য ১৫টি চিকিৎসকের পদ। হাসপাতালে আট জন কনসালট্যান্ট চিকিৎসকের পদ শূন্য আছে।
এছাড়া কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের পদ আছে ২৬টি। চিকিৎসক আছেন ১৬ জন। ১০ জন চিকিৎসকের পদ শূন্য আছে। এখানে চার জন কনসালট্যান্ট নেই। এছাড়া হাসপাতালটি ৫০ থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও লোকবল বাড়ানো হয়নি। মহেশপুরে চিকিৎসকের ৩৪ পদের বিপরীতে আছেন ১৩ জন। এখানেও ২১ জন চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে।
এছাড়া ঝিনাইদহ জেলায় ১৩টি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র আছে। এগুলো প্রত্যন্ত গ্রামে অবস্থিত। প্রায় উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো ব্রিটিশ আমলে স্থাপিত। অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসক পোস্টিং দিলেও সেখানে কেউ যান না। কেন্দ্রগুলো পরিচালনা করেন উপ-সহকারী মেডিক্যাল অফিসাররা (মেডিকেল অ্যাসিসট্যান্ট)।
শৈলকুপা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নজরুল ইসলাম বলেন, তিনি জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন। বাইরে থেকে ওষুধ কিনে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন শুভ্রা রানী দেবনাথ জানান, শূন্য পদগুলোতে চিকিৎসক নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বেশ কিছু চিকিৎসক স্টাডি লিভে থাকায় সংকট দেখা দিয়েছে। তিনি জানান, সরকারি হাসপাতালগুলোতে ওষুধের কোনো অভাব নেই।