আর্জেন্টিনার জয়রথ কিংবা ইতিবাচক ফুটবলের কারণে বাংলাদেশের ব্রাজিল সমর্থকরা কিছুটা কোণঠাসা অবস্থার মধ্যে রয়েছে। সামাজিক মাধ্যমসহ বাস্তব জগতে এই দুই ফুটবল পরাশক্তির ভক্তদের মধ্যে কথার লড়াই লেগেই থাকে। এক দল জয় পেলে অপর দলের ভক্তরা মুখোমুখি অবস্থান নেন। এবারের কোপা আমেরিকায়ও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। গতকাল সকালে ব্রাজিল তাদের প্রথম জয় পেয়েছে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে।
নিজেদের প্রথম ম্যাচে কোস্টারিকার বিপক্ষে গোল শূন্য ড্র করেছিল ব্রাজিল। তাতে ফিফা র্যাংকিংয়ে ৫৪ ধাপ পিছিয়ে থাকা প্যারাগুয়ের বিপক্ষে জয় তোলাটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। সেই কাঙ্ক্ষিত জয় তুলে নিতে পা ফসকানোর ঘটনা ঘটায়নি হলুদ জার্সিধারীরা। তবে ম্যাচটিতে জয় পেলেও কিছু প্রশ্ন সমর্থক কিংবা সমালোচকদের মুখে ঘুরে ফিরছে। ব্রাজিলের রক্ষণ কী ঠিক আছে, সেই প্রশ্নর মধ্যে অন্যতম।
গেল ২৫ জুন কোস্টারিকার বিপক্ষে ব্রাজিলের রক্ষণভাগের তেমন লড়াই করতে হয়নি। তারা নিজেদের ঘাঁটি রক্ষার পরিবর্তে মধ্যমাঠ ছেড়ে আক্রমণেই ব্যস্ত থেকেছেন। সে দিন মুহুর্মুহু আক্রমণ করেও ব্রাজিল তেমন কিছুই করতে পারেনি। মারকিনিওস, এদের মিলিতাও, গিলের্মে অ্যারানা ও দানিলোদের পরীক্ষাও দিতে হয়নি। গতকালের ম্যাচে স্বল্প পরীক্ষায় লেজে-গোবরে করে ফেলেছেন তারা। পিএসজি তারকা মারকিনিওসের ব্যর্থতার কারণে গোলও হজম করতে হয়েছে। গোলরক্ষক আলিসনও সেটি স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেননি, ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডার ওমর আলদারেতের বুলেট গতির সেই শট ব্রাজিল ডিফেন্ডারদের ঠেকানো উচিত বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন আলিসন। কিন্তু এই ক্ষুদ্র পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার পরে সামনের প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ নিয়ে কিছুটা শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এক সময়ের গোলের সামনের অতন্দ্র প্রহরী থিয়াগো সিলভা কিংবা মার্সেলোরা এখন দলের সঙ্গে নেই। তাদের অনুপস্থিতিতে মারকিনিওসদেরই দায়িত্ব নিতে হবে।
এর ব্যতিক্রম হলে ব্যর্থতার শিকল ভাঙা কঠিন হবে। এমনিতেও আক্রমণভাগ নিয়ে শতভাগ সফলতা মিলছে না। অভিজ্ঞ ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রদ্রিগোরা ক্লাবের উল্লাস জাতীয় দলে দেখাতে পারছেন না। যদিও ভিনি গতকাল জোড়া গোল করেছেন, কিন্তু কোস্টারিকার ম্যাচে তার ব্যর্থতা এমন প্রশ্নই সামনে এনেছে। শেষ পর্যন্ত রক্ষণ, আক্রমণসহ মধ্যমাঠের পরীক্ষায় কতটুকু সফল হতে পারে ব্রাজিল, সেটি ম্যাচের ফল বলে দিবে।