‘অনেকে পায়ের নিচে পড়ে, অনেকে অজ্ঞান হয়ে মারা যান’

ভারতের উত্তরপ্রদেশের হাথরাসে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পদপিষ্ট হয়ে অন্তত ১১৬ জনের নিহতের ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই নারী। মঙ্গলবার (২ জুলাই) ঐ অনুষ্ঠানে মানুষের উপচে পড়া ভিড়ে ছোটাছুটি শুরু করলে পদপিষ্টের এ ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস। 

প্রতিবেদনে জানা যায়, প্রচণ্ড গরমের মাঝে হাথরাসের সিকান্দারা রাউ শহরে বিশেষভাবে তৈরি তাঁবুতে এক ধর্ম প্রচারক তার অনুগামীদের উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছিলেন। সেই সময় ঘটে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি।

দেশটির আলিগড় রেঞ্জের ইন্সপেক্টর জেনারেল শলভ মাথুর বলেন, "এটা ছিল ভোলে বাবা নামে এক ধর্ম প্রচারকের সৎসঙ্গ সভা। মঙ্গলবার বিকেলে এটাহ ও হাথরাস জেলার সীমান্তে জমায়েত হওয়ার জন্য সাময়িক অনুমতি দেওয়া হয়।"

ঐ পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, "যারা জড়ো হয়েছিলেন তারা বাঁচার জন্য এখানে সেখানে দৌড়াদৌড়ি করেছিল। যার ফলে পদপিষ্টের ঘটনা ঘটেছে।"

হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এক আহত ব্যক্তি বলেন, "ঘটনাস্থলে আসা ভক্তদের প্রচুর ভিড় ছিল। সবাই একে অপরের উপর পড়তে থাকে এবং পদদলিত হতে থাকে। আমি বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করলে সেখানে মোটরসাইকেল পার্ক করা ছিল। যার ফলে বের হতে পারছিলাম না। অনেকে অজ্ঞান হয়েও মারা যায়।"

এদিকে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এই পদপিষ্টের ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ ও শোকপ্রকাশ করেছেন। স্থানীয় পুলিশ ও উদ্ধারকারী টিমও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।

এদিকে ভোলে বাবার প্রকৃত নাম নারায়ণ শঙ্কর হরি। প্রায় ১৮ বছর ধরে তিনি উত্তরপ্রদেশ পুলিশে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি পুলিশের গোয়েন্দা দফতরের চাকরি ছেড়ে ধর্মীয় গুরু হয়ে যান। এরপর তিনি ভক্তদের প্রবচন দিতে শুরু করেন।