স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মাদারীপুর ডিসি অফিসের দৃষ্টান্ত স্থাপন

চারিদিকে যখন অনিয়ম আর অশুভের বাড়বাড়ন্ত তখন কোনো প্রকার তদবির বা আর্থিক লেনদেন ছাড়াই শতভাগ স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মাদারীপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে বিভিন্ন পদে ১৮ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।

জানা যায়, মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অধীন অফিসসমূহের সাধারণ প্রশাসনে ২০তম গ্রেডের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ১৮টি শূন্য পদে নিয়োগের লক্ষে ৭১১টি সঠিক আবেদন পাওয়া যায়। গত ২৮ জুন ২০১৪ তারিখে অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণপূর্বক সম্পুর্ন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে মেধাক্রম অনুসারে ১৮ জন প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। বিধি-বিধান, মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন করে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় জেলা জুড়ে আস্থার জায়গায় পরিণত হয়েছে মাদারীপুরের জেলা প্রশাসন।

অফিস সহায়ক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত সদর উপজেলার শাহীন বিশ্বাস বলেন, আমি অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান। টাকা পয়সা লেনদেন বা তদবির করার মত সামর্থ্য আমার নেই। স্বচ্ছতার সাথে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পাদিত হয়েছে বিধায় আমি চাকরি পেয়েছি। জেলা প্রশাসনের কাছে আমি সারা জীবন ঋণী থাকব।

রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ি হতে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত মিঠুন হালদার বলেন, লোকমুখে অনেক গুজব শুনে হতাশ হয়ে গেছিলাম; ভেবেছিলাম চাকরি মনে হয় আর হবে না। কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে হয়েছে বলেই আমি চাকরিটি পেয়েছি।

সরকারি শিশু পরিবারে বেড়ে উঠা রাজু শেখ এই নিয়োগ পরীক্ষায় সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছে। ফলাফল প্রকাশের পর আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি জেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান। 

মাদারীপুরের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, রাজু শেখ নামে আমাদের সরকারি শিশু পরিবারের একটা ছেলে চাকরি পেয়েছে। মা-বাবাহীন অনাথ এই ছেলেটির চাকরি হয়েছে মূলত জেলা প্রশাসনের কঠোর ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে চাকরি পরীক্ষার সকল কার্যক্রম সঠিকভাবে তত্ত্বাবধান করার কারনে। জেলা প্রশাসনের এই ধরণের প্রয়াসকে আমি স্বাগত জানাই। 

জানতে চাইলে নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজ আজমেরি হক জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিতকল্পে জেলা প্রশাসন সবসময়ই আপোষহীন। 

মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট  মোহাম্মদ মারুফুর রশিদ খান বলেন, ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ নির্মাণ করতে সকল ক্ষেত্রেই সুশাসনের কোনো বিকল্প নেই। জেলা প্রশাসন এক্ষেত্রে অতীতের মতোই উদাহরণ সৃষ্টি করে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে বদ্ধপরিকর।