দুই যুগের বেশি সময় যশোর শহরের খড়কি এলাকার সড়কের সংস্কার বা উন্নয়ন হয়নি। স্থানীয়রা কখনো ইট, কখনো ঘ্যাস ফেলে কোনোরকমে সড়কটি দিয়ে চলাচল করে থাকেন। সম্প্রতি বৃষ্টিতে খড়কিতে জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। শাহ আবদুল করিম সড়কের রূপকথার মোড় থেকে খড়কি মোড় হয়ে পিরবাড়ি কবরস্থান পর্যন্ত বৃষ্টির পানি জমেছে। এই এলাকা দিয়ে চলাচলের সময় রিকশা, মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাসের চাকা পানিতে তলিয়ে যায়। খড়কি দক্ষিণপাড়া, পশ্চিমপাড়া, হাজামপাড়া, রেললাইন পাড়ার বাসিন্দাদের বাড়ির উঠানেও জমেছে হাঁটুপানি। অথচ দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম বৃহত্তম সরকারি মাইকেল মধুসূদন মহাবিদ্যালয়ের সামনের প্রধান সড়কও এটি। পিরসাহেবের বাড়িসহ অন্যতম আবাসিক এলাকাতে যাতায়াতের একমাত্র সড়কও এটাই। এই অবস্থা বছরের পর বছর চলে আসায় বিটুমিনের কার্পেটিং উঠে রাস্তার তলদেশের মাটি ও ইট বেরিয়ে পড়েছে। সৃষ্টি হয়েছে ছোটবড় অসংখ্য গর্ত। সড়কসংলগ্ন কলেজের ২৫ হাজার শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় অর্ধলক্ষাধিক মানুষের পথ চলাচলের কষ্ট অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসী দফায় দফায় পৌরসভা ও জেলা প্রশাসনে আবেদন জানিয়েও সমাধান করতে পারেনি।
খড়কি এলাকার বাসিন্দা প্রবীণ শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, খড়কি এলাকাটা শহরের অন্য জায়গার চেয়ে তুলনামূলক নিচু। রাস্তার পাশে পয়োনিষ্কাশনের নালা দিয়ে অন্য এলাকার পানি আসে। ঐ পানি আর বের হতে পারে না। আবার পানি বের হওয়ার কালভার্ট ও খাল ভরাট হয়ে গেছে। পানি জমে থাকায় বিটুমিনের আস্তরণ উঠে রাস্তার মধ্যে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে পৌরসভার দ্বারস্থ হলেও সমাধান হয়নি।
বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও ব্যবসায়ী জাকির হোসেন পলাশ বলেন, জনপ্রতিনিধিদের আন্তরিকতার অভাব রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ড্রেন তৈরি হয়নি বলে চারিদিকের নাব্য জেবিন মোড়ের দিকে। নতুন করে যদি ড্রেনের নাব্য জিলা স্কুলের বটতলা দিক থেকে মেইন রোডের ড্রেনে দেওয়া হয়, তাহলে পানি বুড়ি ভৈরবে পড়তে পারে। এর আগে আমরা পরিকল্পনা করেছিলাম কাঁসার দীঘি, ধোপা পাড়া দিয়ে, রেলওয়ের কালভার্ট দিয়ে ঢাকা রোডের পাশ দিয়ে যে খাল কাটা হয়েছিল, সরাসরি ঐ খালে ফেললে মুক্তেশ্বরীতে পানি যেতে পারত। কিন্তু বর্তমানে সড়ক ও জনপথ বিভাগ মাটি ভরাট করে খালটি বন্ধ করে দিচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, প্রায় ৪০ বছর এই এলাকাতে বাস করি। রাস্তা খারাপ থাকলেও আগে জলাবদ্ধতা হতো না। এখন যে যার ইচ্ছামতো দখল করেছে। এতে অল্প বৃষ্টি হলেই ডুবে যায় এলাকাটি। ভারী বৃষ্টি হলে দুই-তিন দিনও লাগে ঠিক হতে। খড়কি পিরবাড়ি এলাকার বাসিন্দা মোস্তফা কামাল বলেন, অন্য ওয়ার্ডের বৃষ্টির পানি আসা, খালগুলো দখল ও সংকুচিত হওয়া, অপর্যাপ্ত নর্দমাব্যবস্থা, বক্স-ড্রেনের নামে খালনালা হত্যাসহ পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি আরো খারাপ হচ্ছে। পানি বের করার জন্য খালের মাধ্যমে মুক্তেশ্বরী নদীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে হবে। কিন্তু পৌরসভা সেই উদ্যোগ নিতে পারেনি।
সূত্র মতে, শহরের ভেতর দিয়ে ভৈরব ও মুক্তেশ্বরী নামে দুটি নদনদী বয়ে গেছে। এর মধ্যে ভৈরব নদ দিয়ে শহরের উত্তরাংশ ও মুক্তেশ্বরী নদী দিয়ে শহরের দক্ষিণাংশের পানি নিষ্কাশিত হয়। কিন্তু গত এক যুগ শহরের দক্ষিণাংশের পানি মুক্তেশ্বরী নদী দিয়ে নামতে না পারার কারণেই পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে।
স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর রাজিবুল আলম বলেন, নির্বাচিত হয়ে আমার প্রধান কাজ ছিল ওয়ার্ডটিতে জলাবদ্ধতা দূর করা। পিরবাড়ি এলাকার কালভার্ট বন্ধ থাকার কারণে এই এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। কালভার্টের পাশে রেলওয়ের জমি রয়েছে। সেই জমি লিজ নিয়েছেন পিরবাড়ির পরিবার। তাদের কারণে ঐ জায়গায় পাকা ড্রেনও নির্মাণ করা যাচ্ছে না। বিভিন্ন সময়ে অভিযানে গেলেও বাধার মুখে ফিরে আসতে হয়েছে।
পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী কামাল হোসেন বলেন, খড়কি এলাকার অবস্থা খুবই খারাপ। আগে পানি নিষ্কাশন দরকার। তারপর সড়ক নির্মাণ। আমরা দুটি কাজই হাতে নিয়েছি। পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনের কাজ আগে করা হবে। টেন্ডার হয়ে গেছে। খুব শিগিগরই কাজ শুরু করা হবে।