তাকে ছাড়া গানপ্রেমী মানুষের একদিনও কি চলে!

ভাবতেই অবাক লাগে কি নির্ভার, কি প্রশ্রয়ে এমন চুলার পাড়ের বিলাইয়ের মতো করে বড় ভাইয়ের সোফার হাতলে বসে ছিলাম আনন্দে। এমনই বড় ভাই ছোট বোন সম্পর্ক ছিল আমাদের! তার গানের সৌকর্য নিয়ে কথা না বললেও চলে। কিন্তু তিনি মানুষ হিসেবে কতটা আন্তরিক ছিলেন তা এই ছবিই বলে দেয়! চার বছর হয়ে গেল! আশ্চর্য! অথচ তাকে ছাড়া বাংলাদেশ গানপ্রেমী মানুষের একদিনও কি চলে! স্রষ্টা আপনাকে ভালো রাখুন কিশোরদা।

আমাদের একজন কিশোরদা ছিলেন, যিনি আমাদের অনেক দিয়েছেন। কিন্তু আমরা কি তাকে সঠিক সম্মান দিয়েছি? এখন কোটিবার উচ্চারণ হয় ‘বড্ড অপূরণীয় ক্ষতি’ হয়ে গেল! তাতে তার আর কিছুই আসে যায় না। যায় কি?

আমাদের এন্ড্রু কিশোর। আমি বলি গলিত সোনার নহর। তিনি দৈহিকভাবে কত বছর হয় চলে গেছেন, আমি তা গুনি না। ভাবতেই ভালো লাগে না যে, তিনি নেই। তার গান আকাশ, বাতাস, পাতাল, নদী, সাগরে ভাসে। আমার তো মনে হয় পৃথিবীর আনাচে-কানাচে যেখানেই বাংলা ভাষাভাষী আছেন, সেখানেই প্রতি সেকেন্ডেই কারো না কারো কাছে তার গান বাজে। কেউ গায়, কেউ গুনগুন করে, কেউ শেখার চেষ্টা করে। কেউ তাকে, কেউ তার গান, তার কণ্ঠ নিয়ে গবেষণা করে। আমি ভাবতেই চাই না, তিনি নেই। তবুও আমি মানুষ! তার অনুপস্থিতি আমাকে বিষণ্ন করে। হঠাত্ আনমনা হয়ে ভাবি, একদিন ওনাকে মজার রান্না করে খাওয়াবো। পরক্ষণেই সম্বিত ফিরে পাই, বাস্তবে ফিরে এসে বুঝি তিনি নেই এবং কী হারালাম!

লেখক : কনকচাঁপা, প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী