মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) ঢাকা আঞ্চলিক অফিসের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) এএসএম আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে ভয়াবহ দুর্নীতি-জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে শুধু টাকার বিনিময়ে দুই শতাধিক স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিও (বেতন-ভাতার সরকারি অংশ) সুবিধা অনুমোদন করেছেন তিনি।
জানা গেছে, গত ৪ ফেব্রুয়ারি মাউশির অধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন স্তরে নতুন এমপিওভুক্তি-এমপিওর স্তর পরিবর্তন করা হয়। নতুন এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন এমপিও কোড দিয়ে ইএমআইএস সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
২০২২ সালে সারাদেশে ২ হাজার ৯০০টি আবেদনের ভিত্তিতে ২ হাজার ৭১৬টি নতুন প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হয়। এর মধ্যে ঢাকা আঞ্চলিক কার্যালয়ের দুইশর বেশি স্কুল রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির পর শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের এমপিওভুক্তির বিষয়টি সাধারণত আঞ্চলিক অফিস দেখে। কিন্তু তাদের এমপিও দেওয়া হলেও কিছুই জানেন না কমিটির সদস্য গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুলের সে সময়কার প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেন তালুকদার। এমনকি কমিটিতে বেসরকারি স্কুলের একজন সদস্য রাখার বিধান থাকলেও কাউকে রাখা হয়নি।
সূত্র বলছে, এমপিও দেওয়ার ক্ষেত্রে অনলাইনে আবেদন করতে হয়। এরপর সেগুলো উপজেলা ও জেলা পর্যায় থেকে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক অফিসে যায়। প্রথমে যায় উপ-পরিচালকের টেবিলে। তিনি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য নিচের দিকের কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়ে দেন।
প্রথমে এটি যায় সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শকের কাছে। এরপর সেটি যায় বিদ্যালয় পরিদর্শকের হাতে। তিনি দেখে যাচাই-বাছাই শেষে উপপরিচালকের কাছে পাঠিয়ে দেন। এরপর উপপরিচালক চাইলে নিজেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওর ঘোষণা দিতে পারেন কিংবা মাউশি মহাপরিচালকের কাছে পাঠান।
এক্ষেত্রে উপ-পরিচালক আব্দুল খালেক আঞ্চলিক অফিসের সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক কিংবা বিদ্যালয় পরিদর্শককে আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্ব না দিয়ে প্রোগ্রামারকে সঙ্গে নিয়ে নিজেই পুরো কাজটা সেরেছেন।
এদিকে কমিটিকে অবহিত না করেই এমপিও অনুমোদন করায় গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেন তালুকদার গত ৮ জুন দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি অভিযোগ করেন। সেখানে তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০২২ সালের ৬ জুলাই এবং চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের আদেশ ভঙ্গ করে অবৈধ প্রক্রিয়ায় ২১০টি মাধ্যমিক বা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় এমপিওভুক্ত করে ১০ কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে নতুন কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান/স্তর এমপিও কোড পাওয়ার পরে শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্তির জন্য ৩ জন কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি আঞ্চলিক কমিটি গঠিত হয়েছে। সেখানে একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককেও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে মাউশি গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষককে আঞ্চলিক কমিটির সদস্য মনোনীত করে। কিন্তু ঢাকা