আলোচিত ড্রাইভারের ছেলে সিয়ামসহ ৩ আসামির জামিন নামঞ্জুর

পিএসসির পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে করা মামলার প্রধান আসামি সৈয়দ আবেদ আলীর ছেলে ছাত্রলীগ থেকে সদ্য অব্যাহতি পাওয়া সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামসহ তিনজনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। অপর আসামিরা হলেন- মো. সাখাওয়াত হোসেন ও সায়েম হোসেন।

এর আগে সাখাওয়াত ও সায়েম গতকাল প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে পৃথক দুই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

এছাড়া পিএসসির সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী, পিএসসি কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান, মো. সাজেদুল ইসলাম ও লিটন সরকারও অপর চার ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

অপরদিকে, মামলার আরও ১১ আসামি মো. নোমান সিদ্দিক, জাহাঙ্গীর আলম, এসএম আলমগীর কবির, প্রিয়নাথ রায়, মো. জাহিদুল ইসলাম, মো. আবু জাফর, মো. শাহাদাত হোসেন, মো. মামুনুর রশিদ, নিয়ামুল হাসান, সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়াম ও আবু সোলেমান মো. সোহেলকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

সম্প্রতি প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর গত সোমবার পিএসসির ৬ কর্মকর্তাসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। পরে পল্টন থানায় মামলা করে আইনশৃঙ্খলা সংস্থাটি।

এর আগে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের ত্রাণ ও দুর্যোগবিষয়ক সম্পাদক পদ থেকে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে উঠে আসে আলোচিত ড্রাইভার আবেদ আলীর ভয়ংকর তথ্য। প্রায় একযুগ আগে থেকে পিএসসির প্রশ্নপত্র ফাঁসের চক্রের সঙ্গে জড়িত এই আবেদ আলী। এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

আবেদ আলী নিজ গ্রামে কোটি টাকা খরচ করে বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন। বাড়ির পাশে করেছেন মসজিদ। এছাড়াও সরকারি জায়গা দখল করে তার গরুর খামার ও মার্কেট নির্মাণাধীন। উপজেলার পান্তাপাড়া ও পূর্ব বোতলা গ্রামে কিনেছেন বিপুল সম্পদ।

স্থানীয়রা জানান, ঢাকায়ও তার একাধিক বাড়ি রয়েছে। পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় রয়েছে তার থ্রি-স্টার মানের হোটেল। সামান্য একজন ড্রাইভার থেকে হঠাৎ করে এমন বিত্ত-বৈভবের মালিক হওয়ায় তার সম্পর্কে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে সাধারণ মানুষের মাঝে।