মহেষখালী থেকে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর আনোয়ারা এলাকায় গ্যাস ট্রান্সমিশন পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। আনোয়ারায় চায়না ইকোনমিক জোনের জেটি তৈরির নির্মাণকাজের সয়েল টেস্ট করার সময় মাটির নিচে থাকা পাইপলাইন ফুটো হয়ে যায়। এই পাইপলাইন দিয়ে আনোয়ারা স্টেশন থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হয়।
কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানি সূত্র জানায়, মহেষখালী থেকে এলএনজি পাইপলাইনের মাধ্যমে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নির্মিত স্টেশনে আনা হয়। সেখান থেকে আলাদা পাইপলাইনের মাধ্যমে চট্টগ্রামের রিং লাইনে সরবরাহ দেওয়া হয়। মাটির প্রায় ছয় ফুট নিচে নির্মিত অন্য আরেকটি ৪২ ইঞ্চি ব্যাসের সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট এলাকায় নির্মিত স্টেশনে আনা হয়। সেখান থেকে ৩৬ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপলাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ দেওয়া হয়। জাতীয় গ্রিডে সরবরাহকৃত এসব এলএনজি ঢাকা, বাখরাবাদ বা অন্য এলাকায় বিতরণ করা হয়।
জাতীয় গ্রিডের সঞ্চালন লাইনটি কাফকো জেটি ও টানেলের মাঝামাঝি অবস্থানে নির্মিত। এখানে কর্ণফুলী নদীর তীরে চায়না ইকোনমিক জোনের জন্য জেটি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে জেটি নির্মাণের জন্য মাটির সয়েল টেস্ট করার জন্য ফুটো করার সময় পাইপলাইন ফেটে যায়। এর পরপর জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, মেরমাত কাজ করার জন্য সঞ্চালন পাইপলাইনের কর্ণফুলীর নদীর দুই প্রান্তে গেট ভাল্ব বসিয়ে পাইপলাইনের ভেতরে থাকা গ্যাস বের করে দেওয়া হয়। এরপর মেরামত কাজ করতে হচ্ছে।
জানতে চাইলে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) প্রকৌশলী আমিনুর রহমান বলেন, ‘নিয়ম থাকলেও গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইনের উভয় প্রান্তে দৃশ্যমান কোনো চিহ্নিত করা নেই। যার কারণে পাইপলাইন কোন জায়গায় আছে তা জানা না থাকায় এই সমস্যা হয়েছে। আজকের (বৃহস্পতিবার) মধ্যে পাইপলাইনের মেরামত সম্পন্ন হবে।’
মহেষখালীতে দুটি এলএনজি টার্মিনালের মধ্যে একটি মেরামত কাজের জন্য বিদেশে রয়েছে। একটি চালু থাকা টার্মিনাল থেকে দৈনিক ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ দেওয়া হয়। কিন্তু এখন সরবরাহ কমিয়ে শুধু চট্টগ্রামে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে।