পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে জাবি শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধ

পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের এক দফা দাবিতে 'বাংলা ব্লকেড' কর্মসূচির আওতায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৩ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক (ডেইরি গেইট) সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে সড়কের উভয় লেনে যানজটের সৃষ্টি হয়।

এর আগে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে 'বৈষম্য-বিরোধী ছাত্র আন্দোলন'র ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে প্রধান ফটকের সামনে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ও পুলিশ সদস্যরা বাধা দেন। তবে বাধা উপেক্ষা করে মহাসড়কে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা।

13

মিছিলে শিক্ষার্থীরা, ‘সংবিধানের/মুক্তিযুদ্ধের মূলকথা, সুযোগের সমতা’, ‘সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে’, ‘দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’, ‘আঠারোর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’ প্রভৃতি স্লোগান দেন।

শিক্ষার্থীদের একদফা দাবি হলো, সরকারি চাকরিতে সকল গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে সংবিধানে উল্লেখিত অনগ্রসর গোষ্ঠীর জন্য কোটাকে নূন্যতম পর্যায়ে এনে সংসদে আইন পাশ করে কোটা পদ্ধতি সংস্কার করা।

অবরোধের বিষয়ে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাহফুজ ইসলাম মেঘ বলেন, 'আমরা সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ কোটা রেখে সংসদে আইন পাশ করার একদফা নিয়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে আসছি। আজ বিকাল তিনটা থেকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করার কথা ছিল। কিন্তু আমরা এসে দেখলাম মহাসড়কে পুলিশ, এপিসি কার আর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলানো। তবে আমরা কর্মসূচি পালন না করে ক্যাম্পাসে ফিরবো না।'

14

নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী সোহাগী সামিয়া বলেন, 'ছাত্রসমাজ বায়ান্ন-একাতত্তরের চেতনা ভুলেনি। আজকে পুলিশ-প্রশাসনের বাঁধা উপেক্ষা করে মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি তার প্রমাণ। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি চলবে।'

এদিকে মহাসড়কে দেড় শতাধিক পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তবে প্রথমদিকে মারমুখী থাকলেও শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেওয়ার পর তাদেরকে সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। 

ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অপস অ্যান্ড ট্রাফিক ) আব্দুলাহিল কাফি বলেন, 'মহাসড়ক অবরোধ করলে মানুষের ব্যাপক ভোগান্তি হয়। এসব ভোগন্তি এড়াতে মহাসড়ক অবরোধ না করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি অনুরোধ করেছি। কারণ আমরা আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হতে চাই না।'

এর আগে, গতকাল আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ কোটা পুনর্বহালে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের ওপর চার সপ্তাহের স্থিতাবস্থা দেয়। এ আদেশের পরও আইন পাশের মত নির্দেশনা না পেলে কর্মসূচি চালানোর ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।