আমি কোথাও যাচ্ছি না: বাইডেন

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়াতে নিজ দলের ভেতরে চাপ বাড়লেও নিজের অবস্থানে অটল মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। শুক্রবার মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েটে এক নির্বাচনি প্রচারণা সভায় বলেছেন, আমিই ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী। আমি কোথাও যাচ্ছি না।

গত ২৭ জুন রিপাবলিকান পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মুখোমুখি বিতর্কে দুর্বল পারফরম্যান্সের পর থেকে নিজ দলের নেতা ও দাতাদের একাংশ বাইডেনকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু চাপ সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়তে বদ্ধপরিকর বাইডেন। এজন্য তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও দাতাদের আস্থা অর্জনে চেষ্টা চালাচ্ছেন। ডেট্রয়েটে প্রচারণা সভায় অংশ নেওয়ার আগে বাইডেন নিজ দলের বেশ কিছু শীর্ষ নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন। তাদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেন। শুক্রবার প্রতিনিধি পরিষদের প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট নেতা জেমস ক্লাইবার্ন ও ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসমও বাইডেন সমর্থনের কথা জানান।

যদিও এখন পর্যন্ত মার্কিন কংগ্রেসের ১৯ জন ডেমোক্র্যাট নেতা বাইডেনকে নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, অজ্ঞাতনামা দাতারা বাইডেনপন্থি সুপার পিএসি তহবিল সংগ্রহকারী কমিটিকে বলেছেন, যতক্ষণ বাইডেন প্রতিযোগিতায় থাকবেন ততক্ষণ পর্যন্ত প্রায় ৯ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি আটকে থাকবে।

ডেট্রয়েটে দেওয়া বক্তৃতায় বাইডেন সতর্ক করে বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি ভয়াবহ হুমকি। আমি জানি আমেরিকানরা একজন প্রেসিডেন্ট চায়, কোনো স্বৈরাচারী চায় না। তিনি বলেন, আমি লড়ছি, আমরা জিততে চলেছি। এ সময় উপস্থিত সমর্থকদের বলতে শোনা যায় ‘তুমি ছেড়ো না’। গত শুক্রবার এনপিআর/পিবিএসের এক জরিপে বলা হয়েছে, বাইডেন ২ পয়েন্ট ব্যবধানে ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। গত ২৭ জুনের বিতর্কের পর বাইডেনের প্রতি সমর্থন সামান্য বেড়েছে। তবে কিছু বিশ্লেষক সতর্ক করেছেন যে, বাইডেন কিছু প্রতিযোগিতামূলক অঙ্গরাজ্যে জায়গা হারাচ্ছেন, যা নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ করবে।

ভুলের পরও বাইডেনে আস্থা ইউরোপীয় নেতাদের

গত বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ন্যাটোর ৭৫তম শীর্ষ সম্মেলন শেষে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন বাইডেন। সেখানে তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের জায়গায় ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির জায়গায় পুতিনের নাম বলে নতুন করে চাপে পড়েছেন। তবে এরপর বাইডেনের প্রতি আস্থা রয়েছে ইউরোপীয় নেতাদের।

বাইডেনের জেলেনস্কির সঙ্গে পুতিনকে গুলিয়ে ফেলার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলত্স সাংবাদিকদের বলেন, ‘স্লিপস অব টাঙ’ হয় এবং আপনি যদি সর্বদা প্রত্যেককে পর্যবেক্ষণ করেন, তবে তাদের ক্ষেত্রেও যথেষ্ট খুঁজে পাবেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং ডাচ প্রধানমন্ত্রী ডিক শুফ একই মত দিয়েছেন। নবনির্বাচিত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেইার স্টারমার বলেছেন, বাইডেনের সঙ্গে প্রথম বৈঠকে দ্রুত গতিতে গতিতে বেশ কিছু সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম হয়েছিলেন। খবর সিএনএন ও বিবিসির।