ফার্স্ট বয় কখনো সেকেন্ড হতে চায় না: ইমরুল হাসান 

বসুন্ধরা কিংস ভবিষ্যতে যত দিন ফুটবল খেলবে, প্রতিবারই তারা লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্যই দল গঠন করবে। ফুটবল দল গঠনের কাজ শেষ করে ফেলেছে। দেশি ফুটবলার নেওয়ার কাজ শেষ। এখন বিদেশি ফুটবলারদের নিয়ে কাজ করছে। ব্রাজিলের রবসন এবং মিগুয়েলকে রেখে নতুন বিদেশি খুঁজছে। কোচ নির্ধারণ হয়ে গেছে। নতুন বিদেশি কোথা থেকে আসবে তা এখনই প্রকাশ করতে রাজি না ক্লাবের সভাপতি ইমরুল হাসান। 

টানা পাঁচটা লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বসুন্ধরা কিংস। আগামী লিগে চ্যাম্পিয়ন হলে ডাবল হ্যাটট্রিক হবে। সেই লক্ষ্যে বড় বাজেটে দল গড়ছে। দলের পুরোনো সিনিয়র ফুটবলারদের রেখে দিয়ে কিছু ফুটবলার ঝেড়ে ফেলেছে। মতিন মিয়া, ইয়াসিন আরাফাত, ইব্রাহিম, মাসুক মিয়া জনি, সজিব, তৌহিদুল আলম সবুজ, বিপলু আহমেদকে ছেড়ে দিয়েছে কিংস। দলে নেওয়া হয়েছে আবাহনীর ফয়সাল হোসেন ফাহিমকে। 

আর যারা আছেন তপু বর্মন, তারিক কাজী, রাকিব হোসেন, জিকোসহ পুরোনো সবাই রয়ে গেছেন। বিদেশি শক্তিশালী ফুটবলার নেওয়ার পরিকল্পনা, কারণ লিগের ডাবল হ্যাটট্রিক এবং এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগ রয়েছে। এএফসি কাপের টুর্নামেন্টে যে কোনোভাবেই হোক অতীতের চেয়ে সবচেয়ে ভালো পারফরম্যান্স করতে চায়। গৌরব করার মতো কিছু একটা দেশ উপহার দিতে চায় কিংস। এই একটা জায়গায় বসুন্ধরা কিংসের অপূর্ণতা রয়ে গেছে।

সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব, দেশের ফুটবল পা রেখে স্বপ্নের কথা শুনিয়েছিল। একাডেমি গড়েছিল। কিন্তু সেই দলটা পথচ্যুত হয়েছে। লিগের রানার্স আপ থাকা অবস্থায় খেলবে না বলে চলে গেল। করপোরেট অফিস ফুটবল দল গঠন করে কতদিন টিকবে তা নিয়ে একটা শঙ্কা থাকে। তবে কিংস চায় সব সময় ভালো করতে। বসুন্ধরা ক্লাব সভাপতি ইমরুল হাসান বললেন, ‘ক্লাসের ফার্স্ট বয় কখনো সেকেন্ড হওয়ার জন্য পড়ে না। আমরা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য দল গড়ি। চ্যাম্পিয়ন হতে চাই।’ 

কিংস নিয়ে গুঞ্জন আছে তারা ভালো খেলোয়াড় নিয়ে বসিয়ে রাখে। ইমরুল হাসান জানিয়েছেন, ‘সব ক্লাবই খেলোয়াড় বসিয়ে রাখে। সব ক্লাবই বেশি খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশন করায়, বরং আমরা-ই কম করাই।’ রেজিস্ট্রেশন করিয়ে তো খেলান না। ‘আপনি দেখান তো, মোহামেডান, আবাহনী কি সবাইকে খেলায়। সব ক্লাবই বসিয়ে রাখে। সবাই রিজার্ভ বেঞ্চ শক্তিশালী করে। আমাকে কেন একথা বলবেন। ফুটবলের দুনিয়ায় যার রিজার্ভ বেঞ্চ শক্তিশালী সেই দলে ইনজুরি থাকলে টের পাওয়া যায় না। আমার দলে সাত জন ইনজুরি ছিল। তারপরও আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। এটা হয়েছে রিজার্ভ বেঞ্চ ভালো থাকায়—বললেন ইমরুল হাসান।’

একাদশে খেলতে পারবে না তারপরও ফুটবলাররা বসুন্ধরা কিংসে খেলতে চায় কারণ কী? ইমরুল হাসান বলেন, ‘আমার এখানে কমিটমেন্ট আছে। চুক্তি অনুসারে পারিশ্রমিক পাবেই। নতুন ফুটবলারকে নেব বলেছি, কিন্তু নেওয়ার সময় সে ইনজুরিতে পড়েছে। আমি বাদ দেই না। আমি যখন কথা দেই তাকে বাদ দেব না। ইনজুরি নিয়েই আমার দলে এসেছে। ফুল পেমেন্ট দিয়েছি। আমি ভালো করে জানি চোট পাওয়া ফুটবলারকে নিয়ে আমি তাকে খেলাতে পারব না। তারপরও নিয়েছি। কারণ ঐ যে, মুখে কথা দিয়েছিলাম। আপনি একটা ক্লাব দেখান যারা এমন প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে।’ 

ইমরুল উদাহরণ দিয়ে বললেন, ‘ইনজুরি হয়েছে, সেই ফুটবলারকে চিকিত্সার জন্য পথে পথে ঘুরতে হয়েছে। আমার এখানে খেলে ইনজুরি হয়েছে আমরা সঙ্গে সঙ্গে চিকিত্সা করিয়েছি। বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছি। প্রয়োজনে আবার ডেকে কথা বলে উন্নতি দেখে নতুন করে চিকিত্সার ব্যবস্থা করেছি।’ 

পারিশ্রমিক পেলেও তো ক্যারিয়ার নষ্ট হয়। জাতীয় দলে গিয়ে পারফরম্যান্স করতে পারছে না। জাতীয় দলের ক্ষতি হচ্ছে। লোভনীয় পারিশ্রমিক পায় বলে বসুন্ধরায় চলে আসে, এটা কি প্লেয়ারদের দোষ? ইমরুল হাসান বলেন, ‘এখানে দোষের কী আছে। প্রত্যেক প্লেয়ারই ভালো দলে খেলতে চায়। কিংসে এসে কোনো প্লেয়ার যদি ১০ মিনিট খেলতে পারে ব্রাদার্সের (কথার কথা) ২০ ম্যাচের সমান। আমি তো কাউকে একাদশে ঢুকিয়ে দিতে পারব না। তাকে যোগ্যতা দিয়ে একাদশে আসতে হবে। নিজেকে প্রমাণ করলে বেঞ্চে থাকতে হবে না। এটা তো সবার জানা। প্লেয়াররা কি বুঝে না, অবশ্যই বুঝে।’

কোন তিনটা জিনিস আছে যে কারণে কিংসে খেলতে চায় প্লেয়াররা? ক্লাব সভাপতি বলেন, ‘এখানে একটা জিনিসই আছে, কমিটমেন্ট, আমরা প্লেয়ারদের যত্ন করি।’