মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) ব্যাংককের গ্রান্ড হায়াত ইরায়ান হোটেল থেকে ছয় পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাদের সবাই জন্মসূত্রে ভিয়েতনামের। চারজন ভিয়েতনামের নাগরিক, দুইজন ভিয়েতনামের বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। খবর বিবিসি।
প্রাথমিকভাবে তাদের মৃত্যুর কারণ জানা না গেলেও বুধবার (১৭ জুলাই) বিকেলে বিবিসি জানিয়েছে, নিহতদের রক্তে তীব্র বিষাক্ত বস্তু হিসেবে পরিচিত সায়ানাইডের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
ময়নাতদন্তের পর নিহতদের রক্তে সায়ানাইড পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। ময়নাতদন্ত বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সায়ানাইড ছাড়া ওই ছয় ব্যক্তির মৃত্যুর আর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার জন্য আবারও পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে তারা জানিয়েছেন।
এর আগে ওই হোটেল কক্ষে নিহতদের ব্যবহৃত চায়ের কাপগুলোতে সায়ানাইডের উপস্থিতি শনাক্ত করেছিলেন তদন্তকারীরা। পুলিশ ধারণা করছে, নিহতদের মধ্যেই কোনো একজন চায়ের ওই কাপগুলোতে বিষ মিশিয়ে দিয়েছিলেন। ঋণের জের ধরেই তিনি এমন কাজ করেছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হোটেলের কর্মীদের কাছ থেকে ফোন পাওয়ার পরেই তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন। মৃতদের সকলেরই মঙ্গলবার চেক আউট করার কথা ছিল, এবং তাদের ব্যাগ গোছানো ছিল। ঘরে খাবারও মিলেছে। রুম সার্ভিসে ফোন করে ওই খাবার আনানো হয়েছিল বলে জানা গেছে। কিন্তু খাবার খাওয়া হয়নি।
পর্যটন থাইল্য়ান্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প। গত বছর দেশটিতে ২ কোটি ৮০ লাখ বিদেশি পর্যটক বেড়াতে গেছেন। সব মিলিয়ে তারা কয়েক ট্রিলিয়ন বাট (থাই মুদ্রা) খরচ করেছেন। গ্রান্ড হায়াত দেশটির বিখ্যাত হোটেল। বহু পর্যটক এই হোটেলে ওঠেন। এই ঘটনার প্রভাব যেন পর্যটনে না পড়ে, তার দিকে কড়া দৃষ্টি রেখেছে থাই সরকার। প্রধানমন্ত্রী সব এজেন্সিকে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।